সুমন ভট্টাচার্য
ইতনে বাজু,ইতনে সর গিনলে দুশমন ধ্যান সে
হারেগা ও হার বাজি জব খেলে হাম জি জান সে…
ম্যায় আজাদ হু সিনেমার এই গানটা জীবনে যতবার ফিরে আসে, বুঝতে পারি গণতন্ত্র শক্তিশালী হচ্ছে| ১৯ নভেম্বর সকালে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর তিনটি কৃষি আইন প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত ঘোষণাই আরেকবার প্রমাণ করে দিল আসলে ভারতীয় গণতন্ত্রের শক্তি কোথায়| মানুষের সংঘবদ্ধ আন্দোলন সবসময়ই শাসককে, বিশেষ করে যে শাসক স্বৈরাচারের দিকে হাঁটতে চেষ্টা করছে, তাকে পিছু হটতে বাধ্য করে| একই সঙ্গে প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর জন্মদিনের রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহ প্রমাণ করে দিল, নরেন্দ্র দামোদরদাস মোদীকে আর লৌহমানব আখ্যা দেওয়া বা ইন্দিরা গান্ধীর সঙ্গে তুলনা করা যাবে না, প্রাক্তন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী মার্গারেট থ্যাচার তো অনেক দূরের বিষয়| নির্বাচনী পাটিগণিত উল্টে যাচ্ছে বুঝলেই বিজেপি র পোস্টার বয় ও পিছু হটেন| ২০২১ এর ১৯ নভেম্বর তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্যও উল্লেখযোগ্য দিন, কারণ সিঙ্গুর আর নন্দীগ্রামের কৃষক আন্দোলন তাঁকে বাংলার মুখ্যমন্ত্রী হতে সাহায্য করেছিল| দিল্লির কৃষক আন্দোলনের পাশে থাকা হয়তো তাঁকে জাতীয় রাজনীতিতে আরও গুরুত্বপূর্ণ করে তুলবে|

বিজেপি র পিছু হটা বা নরেন্দ্র মোদীর ক্ষমা প্রার্থনা শুধু আগামী বছরের ৫ রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ, এমনটা আমি অন্তত মনে করি না| হতে পারে এটা গত একদশকে ভারতীয় রাজনীতির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মূহুর্ত, ২০২৪ এর আগামী লোকসভা নির্বাচনের আগে টার্নিং পয়েন্ট| মোদী যে অশ্বমেধের ঘোড়ায় টানা রথে চেপে গত ৭ বছর ধরে ভারতীয় রাজনীতিকে শাসন করছিলেন, সেই রথকে উল্টোদিকে ঘোরাতে হল| এবং একইসঙ্গে প্রমাণ হয়ে গেল চাপে পড়লে, রাস্তায় নেমে আন্দোলনের মোকাবিলা করতে হলে বিজেপি এখনও কত অসহায়| বিজেপি বা আরএসএসকে মাথায় রাখতে হবে, তাদের মেরুকরণের রাজনীতির বিপক্ষে ভারতীয় সমাজজীবনে কিছু অসামান্য স্ট্রিট ফাইটার আছেন| যেমন আজকে বিজয়ীর শিরোপা পাওয়া লড়াকু কৃষকরা বা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়|
রাজনীতিতে যে ক্ষমতার দম্ভের চাইতে প্রতিবাদের স্বরকে চিনে নিতে হয়, সেইটা গত একমাসে বারবার প্রমাণ হয়েছে| যে কেন্দ্রীয় সরকার পেট্রোল এবং ডিজেলের দাম বাড়িয়ে চলেছিল এবং যাবতীয় প্রতিবাদকে ফুৎকারে উড়িয়ে দিচ্ছিল, সেই সরকারই তেলের দাম কমাতে বাধ্য হল হরিয়ানা, রাজস্থান আর হিমাচল প্রদেশে উপনির্বাচনে পর্যুদস্ত হওয়ার পরে| তাহলে কি বুঝব? বিজেপি, আরএসএস এবং মোদীর যাবতীয় শৌর্য বীর্যের আবরণ খসে পড়ে পাল্টা প্রত্যাঘাত হলেই| তখন মোদীও ক্ষমা চান, ভুল স্বীকার করেন| তাহলে মোদী এবং আরএসএস বিরোধী রাজনীতির মূলমন্ত্র হতে পারে, অন্যায় দেখলেই প্রতিবাদ| এবং জনতার আন্দোলনের মধ্যে দিয়ে প্রতিরোধ| স্ট্রিট ফাইট|
ভারতীয় রাজনীতির চাণক্য হয়ে উঠতে চাওয়া অমিত শাহকে নিয়ে মন্তব্য বা আলোচনা না করাই ভাল, উত্তম কুমারের জন্য একই ফ্রেমে থাকা তরুণ কুমার যেমন কখনও মহানায়ক ছিলেন না, নেহাৎই সাইড ক্যারেকটার| হিরোর জন্য এমন অনেক পাশ্বচরিত্র অনেক সময় অনেক সিনেমায় সুযোগ পেয়েছেন|
আর শুক্রবারের সকাল সতর্রবার্তা দিয়ে গেল কর্পোরেট দুনিয়াকেও| পয়সা থাকলেই ভারতবর্ষকে কিনে নেওয়া যায় না| প্রধানমন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ শিল্পগোষ্ঠী হলেও না|
Channel Hindustan Channel Hindustan is Bengal’s popular online news portal which offers the latest news