Breaking News
Home / TRENDING / বিপ্লবের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ সুদীপের, ত্রিপুরার রাজনীতি তে শুরু নয়া সমীকরণ

বিপ্লবের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ সুদীপের, ত্রিপুরার রাজনীতি তে শুরু নয়া সমীকরণ

দেবক বন্দ্যোপাধ্যায়।‌

না, এখনো সেন্টার তোলেন নি, বল বাড়িয়েছেন মাত্র।

বাড়ানো বল পায়ে নিয়ে গোল করবেন কে?

ধরো ধৈর্যম!

খেলা তো সবে শুরু।

মা ত্রিপুরেশ্বরীর মনে কী আছে তা ঠাহর করতে এখনো বিস্তর সময় লাগবে, তবে আজ, মঙ্গলবার, সুদীপ বর্মন, যে ধরনে, যে ভঙ্গিমায়, যে শব্দচয়নে সাংবাদিক বৈঠক করলেন, তা থেকে এইটুকু বুঝতে অসুবিধা হয় না তাঁর সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব দেবের যে ঠাণ্ডা লড়াই,তা আজ নতুন করে উত্তাপ পেল।
কেন্দ্রীয় বিজেপি কে বুড়িছোঁয়া ধরে রেখে সুদীপ আজ স্মৃতি উসকে জানিয়ে দিয়েছেন যে অশান্তির বাতাবরনে নির্বাচন ত্রিপুরার ঐতিহ্য নয়। তিনি বলেছেন, এখানে উৎসবের মেজাজে ভোট হতো।
দুন স্কুলের ছাত্র, পিতা একদা মুখ্যমন্ত্রী, কাকা হাইকোর্টের চিফ জাস্টিস, আগরতলার বনেদী ও অভিজাত সুদীপের পক্ষে বিপ্লব দেব কে নাম না করে ‘উড়ে এসে জুড়ে বসা’ বলা অস্বাভাবিক নয় বলেই মনে করছেন সুদীপের ঘনিষ্ঠ মহল।
ত্রিপুরা বিজেপির অন্দরমহল ও মনে করছে পুরভোটে তৃণমূলের পক্ষে চোরা স্রোত আছে। তবে শেষ পর্যন্ত জয় যে বিজেপিরই হবে, এ কথাও মনে করাতে ভুলছেন না বিজেপির বড়-মেজ নেতারা।

তবে এদিন সুদীপ বর্মন
যে ভাবে ভোটের দিন রাস্তায় নামার কথা বলেছেন, বিজেপিতে থেকেও বিজেপির ‘গুণ্ডামির’ বিরুদ্ধে মানুষ কে রুখে দাঁড়াতে বলেছেন, তার প্রভাব ভোটের দিন কতটা পড়ে, সেদিকে নজর থাকবে রাজনৈতিক মহলের।

এত কিছুর পরেও সার্বিক ভাবে দলের বিরুদ্ধে একটি কথাও বলেন নি সুদীপ। তাঁকে বরং বলতে শোনা গেছে রাজ্য বিজেপির এ হেন কাণ্ড কারখানা নরেন্দ্র মোদির ভাবমূর্তি কে কলুষিত করছে।
সচেতন ভাবেই তিনি ভাবটা এমন রেখেছেন, যেন বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের অজ্ঞাতে এসব হচ্ছে কিংবা তাঁরা জানলেও তাঁরা খুব বিরক্ত।
এখনো পর্যন্ত সুদীপের চটজলদি দল ছাড়ার কোনো আভাস নেই। ফলতঃ তাঁর অবস্থান থেকে কেন্দ্রীয় বিজেপি কে বাঁচিয়ে কথা বলাটাই স্বাভাবিক।
তেইশে বিধানসভা ভোটের কথা মাথায় রেখে সুদীপ বর্মন যদি তাঁর ব্যক্তিগত রাজনীতির অঙ্কটিও কষতে শুরু করেন, তাহলে এই পুরভোট থেকেই সেই আঁক কষা শুরু করে দেওয়া সমীচীন বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।

ত্রিপুরায় মানিক সরকারের পতন ঘটিয়ে বিজেপি যখন ক্ষমতায় এল, তখন কেউ কেউ ভেবেছিলেন সুদীপ কে মুখ্যমন্ত্রী করা হবে। দীর্ঘ অভিজ্ঞতা সম্পন্ন বিধায়ক, শিক্ষিত, ত্রিপুরা কে হাতের তালুর মত জানা সুদীপ সম্পর্কে এমন প্রত্যাশা অস্বাভাবিক নয় বলেই মনে হয়েছিল কারো কারো।
অনেকে ভেবেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী না হোক, অন্য কোনো গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রীত্ব বরাদ্দ হবে সুদীপের জন্য। সুদীপরা সেই সময় বিজেপিতে যোগ না দিলে বিজেপির মানিক বিজয় সম্ভব হতো না বলেই য়নে করেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের একাংশ।

বল বাড়িয়েছেন সুদীপ। এ খেলা এখন চলবে। দলে তাঁর শুভাকাঙ্ক্ষী বলে পরিচিত অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা সেই বাড়ানো বল নিয়ে এগিয়ে, বিপ্লব কে ডচ করে দিল্লির দরবার থেকে সুদীপের জন্য ‘সিএম সিট’ নিয়ে আসবেন নাকি তার আগেই সেই কাজটি অবলীলায় করে দেবেন অভিষেক?
কে জানে মা ত্রিপুরেশ্বরীর মনে কী আছে!

Spread the love

Check Also

মমতা দলের ভিত্তি, অভিষেক দলের ভবিষ্যৎ : এই সারসত্য বুঝলেই সার্বিক কল্যাণ

দেবক বন্দ্যোপাধ্যায়। আমে দুধে মিশে যাবে, আঁঠি গড়াগড়ি খাবে। না, চেনা গল্পটি তে এই তিনটে …

দিদির জন্মদিন: বসনভূষা মলিন হলো ধূলায় অপমানে

দেবক বন্দ্যোপাধ্যায়। আজ দিদির জন্মদিন। জন্মদিন নিয়ে বিতর্ক থাকলেও সরকারি খাতায় এটাই দিদির জন্মদিন। সফিসটিকেটেড …

রাজ্যে বিজেপির ভোট পরবর্তী হিংসার দাবির আবহেই ‘বিজেপির মারে’ মৃত্যু ত্রিপুরার তৃণমূল নেতার

চ্যানেল হিন্দুস্তান ব্যুরো। গত ২৮ শে আগস্ট তৃণমূল ছাত্র পরিষদের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীতে মুজিবর ইসলাম মজুমদারের …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *