পার্থসারথি পাণ্ডা : 
আরবের খুবই গরীব এক পরিবারে জন্ম হয়েছিল হজরত মহম্মদের। জন্মের আগে তিনি হারিয়েছিলেন বাবাকে। জন্মের পর মা আমিনা বেগমের শরীর এমন ভেঙে গেল যে, আর তিনি কোনদিনই আগের স্বাস্থ্য ফিরে পেলেন না।
সেকালের আরবের বেদুইন নারীরা অর্থের বিনিময়ে অন্যের সন্তান মানুষ করত। কিন্তু মা আমিনার হাতে একেবারেই তাদের দেবার মতো কিছু ছিল না, তাই কেউ আর রাজি হয় না মহম্মদকে বড় করার দায়িত্ব নিতে। শেষে হালিমা নামের এক বেদুইন নারী তাঁকে লালনপালন করার জন্য নিয়ে যান। চারবছর বয়সে মায়ের কাছে ফিরে আসেন মহম্মদ। কিন্তু ফিরে এসেও বেশিদিন মায়ের স্নেহসুখ পেলেন না তিনি। ফেরার কিছুদিনের মধ্যেই মদীনায় মামার বাড়ি গেলেন মায়ের সাথে। ফেরবার পথে আব্বা নামের এক জায়গায় এসে হঠাৎ করে মা মারা গেলেন। মহম্মদের শৈশবটা খুব কষ্টের খুব দুঃখের। সেইসঙ্গে অভিজ্ঞতাময়ও। এই সময়টা কাটতে লাগল তাঁর মামারবাড়িতে।
পঁচিশ বছর বয়সে ধনী বিধবা খাদিজার সাথে বিয়ে হয় মহম্মদের। সেইসময় আরবে চলত ঘোরতর মূর্তি পূজা। কাবার মন্দিরেই ছিল তিনশো ষাটটি মূর্তি। বেগম খাদিজা ছিলেন ইহুদী। ধর্মমতে তিনি ছিলেন মূর্তি পূজার বিরোধী। একেশ্বরবাদী। মূর্তি পূজকদের নানান নৃশংস আচার দেখে তিনি এই উপাসনা পদ্ধতির প্রতি আরও বীতশ্রদ্ধ হয়ে পড়েছিলেন। ছোট থেকেই মহম্মদও চোখের সামনে এইসব নৃশংসতা দেখে মূর্তিপূজার ঘোর বিরোধী হয়ে উঠেছিলেন। তিনি বেগম খাদিজার কাছ থেকে পেলেন একেশ্বরবাদের সন্ধান। সেই এক ঈশ্বরকে উপলব্ধি করতে তিনি হীরা পর্বতের গুহায় গিয়ে একান্তে সাধনা করতে শুরু করলেন। একদিন ঈশ্বর বা আল্লাহ্-র দূত জিব্রাইল এসে দেখা দিলেন তাঁকে। শোনালেন পবিত্র কোরাণের প্রথম বাণী– ‘ইক্রা- বি- ইম্মি-রব্বিক’। এর মানে ‘নিজের প্রভুর নামে পড়ো ‘। এই আলাহর বাণী নবীর হৃদয়ে যে রাতে আবির্ভূত হল, সেই রাতটিকে বলা হয় ‘শবে কদর’। এটি ছিল ইসলামী ক্যালেণ্ডারের নবম মাস ‘রমজান’। তাই এই মাসটি সমস্ত ইসলাম ধর্মের মানুষের কাছে খুবই পবিত্র, খুবই আদরের।
বিভিন্ন বিষয়ে ভিডিয়ো পেতে চ্যানেল হিন্দুস্তানের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন
https://www.youtube.com/channelhindustan
https://www.facebook.com/channelhindustan
Channel Hindustan Channel Hindustan is Bengal’s popular online news portal which offers the latest news