নীল রায়।
কর্পোরেট কায়দায় তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ব্র্যান্ডিং শুরু হল। লোকসভা ভোটে শোচনীয় পরাজয়ের পর ভোট গুরু প্রশান্ত কিশোরের স্মরণাপন্ন হয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী ও তাঁর সাংসদ ভাইপো অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। দায়িত্ব নিয়েই আইপ্যাকের শ্রষ্টা প্রশান্ত বুঝেছেন, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় নন, তৃণমূলকে ঘুরে দাঁড়াতে হলে তা করতে হবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে সামনে রেখেই। তাই “মিশন ২০২১” সফল করতে জননেত্রীর ইমেজকে এবার ঢেলে সাজানোর উদ্যোগ নিয়েছেন পিকে।
সোমবার নজরুল মঞ্চে তৃণমূলের সাংগঠনিক বৈঠকে কোথাও দেখা মেলেনি প্রশান্ত কিশোরের। কিন্তু, সংবাদমাধ্যম থেকে দলীয় কর্মসূচির পরিকল্পনা সবই হয়েছে তাঁর আঙ্গুলীহেলনে। সূত্রের খবর, শনিবার রাতে কলকাতায় এসেছেন পিকে স্যার। এদিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাংবাদিক সম্মেলনের আয়োজন করে প্রশান্ত কিশোরের সংস্থার ছেলেমেয়েরা। কালো গেঞ্জি ও নীল ডেনিম জিনসে সর্বদা হাসিমুখে অনুষ্ঠানের নিয়ন্ত্রণ ছিল তাঁর দলবলের করায়ত্তে। যা তৃণমূল রাজনীতিতে নজীরবিহীন ঘটনা। কারণ, গত ২১ বছরে তৃণমূলের জন্মলগ্ন থেকে এমন বৈঠকের যাবতীয় নিয়ন্ত্রণ থাকত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাতেই। কিন্তু, ব্যাতিক্রমী এই কর্মসূচিতেও দাপুটে দিদিমনির ওপরে ছিল এক অদৃশ্য নিয়ন্ত্রণ।
শুধু নিয়ন্ত্রণই নয়, দিদিকে নতুন মোড়কে পেশ করতে বাংলার রাজনীতিতে আমদানি হল এক নতুন সংস্কৃতি। এদিনের বৈঠকে যোগ দিতে এসেছিলেন তৃণমূলের মন্ত্রী, সাংসদ, বিধায়ক, জেলা সভাপতি, জেলা পরিষদ সভাধিপতি, পুরসভার চেয়ারম্যান প্রমূখ। বৈঠক শেষে নজরুল মঞ্চ ছাড়ার আগে তাদের সকলকে দেওয়া হল “দিদিকে বলো” লেখা একটি পাটের ব্যাগ। ওই চটের থলিতে ছিল, নিয়মানুবর্তিতা লেখা একটি ফাইল, “দিদিকে বলো” লোগো দেওয়া একগুচ্ছ ভিসিটিঙ কার্ড, একপাতা স্টিকার ও ৫টি করে গেঞ্জি। দলের অঘোষিত বার্তা এমনই সব দিদিময় স্টিকার, গেঞ্জি, ভিসিটিঙ কার্ড এলাকায় এলাকায় ছড়িয়ে দিতে হবে। তবে এই সবকিছুই আগামী ১০০ দিনের জন্য। এমন টোটকায় দিদিমণির পড়তি বাজারে জোয়ার না এলে, আবারও দাওয়াই বদল করবেন পিকে স্যার!
Channel Hindustan Channel Hindustan is Bengal’s popular online news portal which offers the latest news