নীল রায়:
দ্বিশত বর্ষে ভাঙ্গা হল ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের মূর্তি। বীরসিংহের এই বীর পুত্রের মূর্তি ভাঙা নিয়ে তৃণমূল-বিজেপি দু’দলের মধ্যে তরজা শুরু হয়েছে। মূর্তি ভাঙার দায় চাপিয়ে রাজনৈতিক ফায়দা তোলাই যেন এর মুখ্য উদ্দেশ্য। তৃণমূলের অভিযোগ বিদ্যাসাগর কলেজে ঢুকে গেরুয়া বাহিনী তান্ডব চালিয়ে মুর্তি ভেঙেছে। অভিযুক্ত হয়ে বেশ কিছু পাল্টা যুক্তি খাড়া করেছে বিজেপিও। তাতে অবশ্য ভিডিও ফুটেজ এ যারা মূর্তি ভেঙেছে তাদের দোষ কোনওভাবেই খন্ডন করা যাচ্ছে না। মঙ্গলবার অমিত শাহের রেলিতে যে বিরাট অংশের কর্মীসমর্থকরা যোগ দিয়েছিল তাদের শিক্ষাদীক্ষা রুচিশীলতা তথা সংস্কৃতি নিয়ে প্রশ্ন উঠছে নানা মহলে। সঙ্গে প্রশ্ন উঠছে বিজেপি নেতৃত্বের দায়িত্বশীলতা নিয়েও। কারণ অমিত শাহ বিজেপির সর্বভারতীয় সংগঠনের সভাপতি হলেও রাজ্য নেতৃত্বের দায়ভার দিলীপ ঘোষ, মুকুল রায়, রাহুল সিনহাদের ওপরে। যে সমস্ত কর্মীসমর্থকরা এদিনের মিছিলে যোগ দিতে এসেছিলেন তাদের নিয়ন্ত্রণ করার দায়িত্ব ছিল বিজেপি নেতৃত্বের ওপরেই। হতেই পারে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় ও বিদ্যাসাগর কলেজে তৃণমূল ছাত্র পরিষদের কর্মীরা উস্কানি দিয়েছিলেন। কিন্তু তাতে পাল্টা হামলা চালিয়ে বিদ্যাসাগরের মতো বরেণ্য মনীষীর মূর্তি ভেঙে দেওয়ার কখনোই মেনে নেওয়া যায় না। বিজেপির ওই উন্মাদ কর্মী-সমর্থকরা দয়ার সাগরকে চেনেন না, বা তাঁর কর্মকাণ্ডের সঙ্গে অবগত নন। মূর্তি ভাঙার ঘটনার পর থেকেই সোশ্যাল মিডিয়ায় বাঙালির ক্ষোভ উপচে পড়ছে। যে বাঙালি ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের আবির্ভাব বা তিরোধান দিবস নিয়ে মাথা ঘামায় না, তারাও রাতারাতি সরব হয়ে উঠেছেন। কারণ, বাঙালীর বর্ণের সঙ্গে পরিচয় এই বাংলার নবজাগরণের পথিকৃতের মাধ্যমেই। বাঙালি সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য বিদ্যাসাগর মূর্তি ভেঙে গোটা গেরুয়া শিবির এখন প্রশ্নের মুখে। কারণ রাজনৈতিক কর্মসূচির আয়োজন করা একটি বিষয়। আর তার ওপর কর্মী-সমর্থকদের নিয়ন্ত্রণ করা তার থেকেও বড় বিষয়। যা মঙ্গলবারের বর্ণাঢ্য রেলিতে করতে পারেননি বিজেপি নেতারা। প্রথমত, কেন হামলা করা হল কোন শিক্ষাঙ্গনে? কেনই বা টার্গেট করা হলো একজন মনীষীর মূর্তিকে? আর কেনই বা ইটের বদলা পাটকেল দিয়ে দেওয়ার রণকৌশল নেওয়া হল ? তৃণমূলের উস্কানিতে পা দিয়ে উন্মত্ত জবাবের ছাড় দেওয়ার কৌশলও কী তৃণমূল বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব দিয়ে রেখেছিল কর্মীদের? এমন হাজারো প্রশ্নের মুখে কার্যত মৌনীবাবা হয়ে গিয়েছেন রাজ্য বিজেপির ছোট-বড় সমস্ত নেতারা। আর সেই বাজারে বিদ্যাসাগরের মূর্তি ভাঙার বিষয়টিকে একেবারে পাদপ্রদীপের আলোয় নিয়ে এসে শেষ দফার নির্বাচনে নিজেদের দিকে ভোট টানতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও। যার জেরে নিজের টুইটার অ্যাকাউন্টে বিদ্যাসাগরের ছবি লাগিয়ে গতকাল রাত থেকেই প্রতিবাদ করা শুরু করে দিয়েছেন তিনি। সঙ্গে দলের নেতাকর্মী সমর্থকদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বিদ্যাসাগরের ছবি লাগিয়ে এই কায়দায় প্রতিবাদ জানানোর। প্রশ্ন উঠছে, বাংলার সংস্কৃতির সঙ্গে অপরিচিত বলে অভিযুক্ত বিজেপি নেতৃত্ব কি সত্যিই নিজের বাংলা নিয়ে তাদের দর্শনগত দৈনদশা প্রকট করে ফেলেছে এই ঘটনার মাধ্যমে। আর এই সুযোগে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের মত বরেণ্য মনীষীর মূর্তি ভাঙ্গা নিয়ে রাজনীতি করাটা কতটা সমীচীন?
Channel Hindustan Channel Hindustan is Bengal’s popular online news portal which offers the latest news