Breaking News
Home / TRENDING / জঙ্গলমহলে যুবা ভোট ফেরাতে কারিগরি ক্ষেত্রে শিক্ষাগত যোগ্যতা কমাচ্ছে রাজ্য

জঙ্গলমহলে যুবা ভোট ফেরাতে কারিগরি ক্ষেত্রে শিক্ষাগত যোগ্যতা কমাচ্ছে রাজ্য

সূর্য সরকার ও নীল রায়।

লোকসভা ভোটে শাসক দলকে জোর ধাক্কা দিয়েছে জঙ্গলমহল। ওই এলাকার ছয়টি লোকসভা আসনের মধ্যে পাঁচটি জিতে নিয়েছে বিজেপি। সার্বিক পরিস্থিতি আয়ত্তে আনতে ভোটগুরু প্রশান্ত কিশোরকে দায়িত্ব দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু, প্রশাসনিক ভাবেও বেশকিছু উদ্যোগ নিচ্ছে তাঁর সরকার। জঙ্গলমহলের মানুষের মন ফেরাতে তেমনি একটি উদ্যোগ নেওয়ার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সেই ভাবনা থেকেই রাজ্যের জঙ্গলমহলের যুব প্রজন্মের কাছে কারিগরি শিক্ষাকে আরও বেশি করে তুলে ধরতে চাইছে সরকার পক্ষ। কারণ, ভোটের পর শাসকদল জেনেছে, জঙ্গলমহলে এহেন ধসের কারণ সেখানকার যুব সম্প্রদায়ের বিজেপি তথা নরেন্দ্র মোদির প্রতি আকর্ষণ। তাই শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করে বাঁকুড়া, পুরুলিয়া, মেদিনীপুর ও ঝাড়গ্রামের যুব সমাজের মন পাওয়ার চেষ্টায় তৃণমূল।

তাই জঙ্গলমহলের জেলাগুলিতে পড়ুয়াদের কারিগরি শিক্ষার প্রতি আগ্রহী করে তুলতে ন‍্যূনতম যোগ‍্যতা তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্য কারিগরি শিক্ষা দফতর। এতদিন ন‍্যূনতম যোগ‍্যতা ছিল অষ্টম শ্রেণী পাশ। কিন্তু পিছিয়ে পড়া এইসব জেলাগুলিতে পড়াশোনা করা এমনিতেই সমস‍্যার। কেন্দ্রীয় সরকারের নিয়ম অনুযায়ী মাও অধ‍্যুষিত জেলায় কোনও কেন্দ্রীয় প্রকল্পের সুবিধা পেতে ন্যূনতম যোগ্যতা থাকা বাধ্যতামূলক। সেই যোগ্যতা অর্জন করতে মাও অধ্যুষিত এলাকায় কারিগরি প্রশিক্ষন জরুরি। রাজ‍্যের চারটি জেলায় আইটিআই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিতে ভর্তির ক্ষেত্রে নূন্যতম যোগ‍্যতা তুলে দেওয়া হচ্ছে বলে নবান্ন সূত্রে খবর। মুখে কেন্দ্রীয় সরকারি নির্দেশনামার কথা বলা হলেও, তা কার্যকর করা হবে পুরোপুরি রাজনৈতিক জমি পুনরুদ্ধারের কারণে।

সরকারের এমন উদ্যোগ প্রসঙ্গে রায়পুরে তৃণমূল বিধায়ক বীরেন্দ্রনাথ টুডু বলেন, “এমন উদ্যোগ অবশ্যই জঙ্গলমহলের যুব সমাজের কাজে লাগবে। কারণ কারিগরি শিক্ষায় উন্নত হলে আমাদের ছেলেমেয়েরা চাকরি পাবে। হাতের কাজ শিখতে তো আর খুব বেশি লেখাপড়া লাগে না। তাই সরকারের সিদ্ধান্ত সঠিক। আর সেই সিদ্ধান্তে যদি জঙ্গলমহল উপকৃত হয় তাহলে রাজনৈতিক লাভ আমাদের হবেই।” সরকারের এমন সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করছেন ঝাড়গ্রামে বিজেপি সাংসদ কুণার হেমব্রম। তাঁর কথায়, “তৃণমূল পরিচালিত রাজ্য সরকার জঙ্গলমহলের মানুষকে এত ছোট কেন মনে করেন? ভাবে যে তারা লেখাপড়া জানেন না। জঙ্গলমহলের প্রত্যন্ত এলাকায় খোঁজ নিয়ে দেখুন স্কুলে শিক্ষক নেই, বই খাতা নেই। তাও প্রতি বছর হাজার হাজার আদিবাসী ছেলেমেয়েরা স্নাতক হচ্ছে। উচ্চ শিক্ষায় নিজেদের শ্রেষ্ঠত্বের প্রমাণ দিচ্ছে। আর শিক্ষার মান নামিয়ে এনে কারিগরি শিক্ষা দেওয়ার নামে জঙ্গলমহলের যুব সম্প্রদায়ের উন্নয়ন করা সম্ভব নয়। এভাবেই জঙ্গলমহলেরও ভালো হবে না। আর তৃণমূলের ভোটব্যাঙ্ক বাড়বে না।”

Spread the love

Check Also

Big Breaking: হুমায়ুনকে ওয়েসির ‘ফিলার,’ কী উত্তর দিলেন তৃণমূলের বিধায়ক

দেবক বন্দ্যোপাধ্যায় হুমায়ুনকে ওয়েসির ফোন! দল তাঁকে শো-কজ করেছে। তিনি সেই শো-কজের উত্তরও দিয়েছেন। তাতেও …

রাহুলের পাইলট প্রোজেক্ট, মুর্শিদাবাদ কংগ্রেসে আধিপত্য হারাতে পারেন অধীর

দেবক বন্দ্যোপাধ্যায় পশ্চিমবঙ্গ নিয়ে রাহুল গান্ধির নতুন উদ্যোগে মুর্শিদাবাদের কংগ্রেস রাজনীতিতে খর্ব হতে পারে অধীর …

আমি আসছি! নাম না করে শুভেন্দুকে শাসালেন আনিসুর

চ্যানেল হিন্দুস্থান, নিউজ ডেস্ক: নাম না করে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারিকে শাসালেন আনিসুর রহমান। একদা …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *