নীল রায়।
‘গুমনামী’ নিয়ে সৃজিত মুখোপাধ্যায়কে (Srijit Mukherji) তুলোধোনা করলেন নেতাজি অনুরাগী থেকে গবেষকরা। আজাদ হিন্দ ফৌজের ৭৫তম বর্ষপূর্তি উপলক্ষ্যে সোমবার কলকাতায় এক সাংবাদিক সম্মেলনের আয়োজন করেছিল ‘অল ইন্ডিয়া লিগাল এইড ফোরাম’। এই সাংবাদিক সম্মেলনে অংশ নেন নেতাজী গবেষক ডঃ পূরবী রায়, নেতাজির ভাইজি চিত্রা বসু, আইনজীবী জয়দীপ মুখোপাধ্যায়, আইনজীবী চান্দ্রেয়ী আলম, প্রাক্তন পুলিশকর্তা পংকজ দত্ত ও কর্ণেল সব্যসাচী বাগচী প্রমূখ।
সাংবাদিক সম্মেলনের বিষয়বস্তু স্বাধীনতা আন্দোলনে নেতাজীর নেতৃত্বাধীন আজাদ হিন্দ ফৌজের অবদান হলেও। সম্প্রতি মুক্তি পাওয়া প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় (Prasenjit Chatterji) অভিনীত ও সৃজিত মুখোপাধ্যায় পরিচালিত ছবি ‘গুমনামী’ নিয়ে প্রশ্নের মুখে পড়তে হয় এই সমস্ত ব্যক্তিত্বদের। ছবিটির সঙ্গে যে তারা একেবারেই একমত নন তা প্রথমে স্পষ্ট করে দেন সকলে। আইনজীবী জয়দীপ মুখোপাধ্যায় বলেন, “গুমনামি বাবাকে নেতাজি বলে চালানোর মরিয়া চেষ্টা হচ্ছে। এক্ষেত্রে কোনও ষড়যন্ত্র থাকতে পারে। যিনি ছবিটি বানিয়েছেন তিনি বেশ ভালোই ছবি বানান। কিন্তু ‘গুমনামি’ ছবিতে যেভাবে নেতাজিকে অপমান করা হয়েছে সেটা আমার পক্ষে মেনে নেওয়া সম্ভব নয়।”
চান্দ্রেয়ী আলম বলেন, “মুখার্জি কমিশনের মোট ১৩১ জন সাক্ষী দিয়েছিলেন। সেই কমিশনে আমিও যুক্ত ছিলাম। এই ছবিতে একজনের দৃষ্টিভঙ্গি দিয়েই সব কিছুর বিচার করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী অটলবিহারী বাজপেয়ী (Atalbihari Bajpayee) থাকাকালীন মুখার্জি কমিশন শুরু হয়। কিন্তু যখন কমিশন কাজ শেষ করে তখন দেশের সরকার বদল হয়ে গিয়েছে। যে ৭ জন মুখার্জি কমিশনে নেতাজির বিমান দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয়েছিল বলে সাক্ষ্য দিয়েছিলেন।পরে তাদের দুজনকে কেন্দ্রীয় সরকারের মন্ত্রী হয়ে গিয়েছিলেন। পরে সেই সরকারি আর কমিশনের রিপোর্টকে মান্যতা দেয়নি।” ডঃ পূরবী রায় বলেন, “কখনও ফৈজাবাদের বাবা, কখনও শৈলমারি বাবা, কখনও আবার ফালাকাটার বাবা বলে নেতাজীকে চালিয়ে দেওয়ার চেষ্টা হয়েছে। এভাবে শুধু মানুষকে বিভ্রান্ত করার নয় একজন প্রকৃত দেশপ্রেমিককে অপমান করা হচ্ছে। আমার গবেষণায় আমি কখনও কোনও সাধুবাবাকে নেতাজি রূপে দেখতে পাইনি।”
Channel Hindustan Channel Hindustan is Bengal’s popular online news portal which offers the latest news