প্রসেনজিৎ মাহাতো:
ইস্টবেঙ্গল যখন ধীরে চলো নীতি নিয়ে চলছে, তখন দলবদলের বাজারে গোলকিপার দেবজিৎ মজুমদারকে নিয়ে বড় চমক দিল মোহনবাগান। আইএসএল ফ্র্যাঞ্চাইজি এটিকের সঙ্গে তিন বছরের চুক্তি ছিল দেবজিতের। দু’বছর সেখানে কাটানোর পর চুক্তির এক বছর বাকি থাকতে লোনে ২০১৯-২০ মরশুমের জন্য বাগানের সঙ্গে নতুন চুক্তিতে আবদ্ধ হলেন আই লিগে সেরা তকমা পাওয়া গোলকিপার। এক বছর বাদে এটিকের সঙ্গে চুক্তি শেষ হয়ে গেলে বাগান জার্সিতে তাঁকে আরও দীর্ঘসময় ধরে খেলতে দেখলে অবাক হওয়ার কিছু নেই। বাগানের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে প্রথমে দেবজিতের সঙ্গে তিন বছরের চুক্তি হয়েছে, এমন জানানোয় সাময়িক বিভ্রান্তি দেখা দিয়েছিল। পরে সেটা ঠিক করে দেওয়া হয়। ২০১৫–য় বাগানের আই লিগ জয়ে দেবজিতের অবদান ছিল অনস্বীকার্য। ২০১৬–য় বাগানের ফেডারেশন কাপ জয় ও আই লিগে রানার্স হওয়ার পিছনে দেবজিতের বড় ভূমিকা ছিল। ২০১৪-১৫ ও ২০১৬-১৭–য় তিনি সেরা গোলকিপারের স্বীকৃতি পান। তাঁর নজর কাড়া পারফরমেন্সের জন্য এটিকে তিন বছরের চুক্তি করেছিল বিপুল পরিমাণ অর্থ দিয়ে। নিয়মিত খেলার স্বপ্ন নিয়ে সেখানে গিয়েছিলেন দেবজিৎ। কিন্তু সে লক্ষ্যপূরণ হয়নি। তাঁকে গত দু’মরশুমে অধিকাংশ সময় কাটাতে হয়েছে রিজার্ভ বেঞ্চে। নিয়মিত খেলার লক্ষ্য নিয়েই মোহনবাগানে ফিরলেন দেবজিৎ। বললেন, ‘এটিকে ভাল প্রস্তাব দিয়েছিল তখন। তাই চলে গিয়েছিলাম। আশা ছিল বেশি ম্যাচ খেলার সুযোগ পাব। সেটা হয়নি। পুরোটাই কোচের পছন্দের ওপর নির্ভর করে। আমি প্র্যাকটিসে কোনওদিন আলগা দিইনি। তবে গত মরশুমে সুপার কাপ ছাড়া সেভাবে খেলার সুযোগ পাইনি। সেটা আর মাথায় রাখতে চাই না। বাগানে ফিরে ভাল লাগছে। কর্তাদের ধন্যবাদ। এখান থেকেই আমার উত্থান, প্রতিষ্ঠা, সম্মান পাওয়া। এখন একটাই লক্ষ্য বাগানে নতুন কোচ ও গোলকিপার কোচের কাছে নিজের যোগ্যতা প্রমাণ করার, আস্থা অর্জনের। বাগানের অন্য গোলকিপারদের সঙ্গে নিয়মিত খেলার কম্পিটিশন থাকবেই। সেই চ্যালেঞ্জটা নিচ্ছি। চাইব, আগের মতোই বাগানে বড় সাফল্য আসুক। সবুজ মেরুনের ঘর ট্রফিতে ভরে যাক। আগেও যেমন সদস্য-সমর্থকদের ভালবাসা ও প্রেরণা পেয়েছি, এবারও সেটা থাকবে বিশ্বাস করি।’ জাতীয় দলে ঢোকার কথা এখনই ভাবছেন না দেবজিৎ। বলেন, ‘আমার লক্ষ্য ভাল খেলে জাতীয় কোচের নজর কাড়া। শুনেছি, নতুন কোচ স্টিম্যাক আই লিগ ও আই এস এলের ফুটবলারদের পারফরমেন্স দেখে সুযোগ দেবেন বলে জানিয়েছেন। তাই আশায় থাকব।’ ইউনাইটেড স্পোর্টস, ইস্টবেঙ্গল ও গোকুলাম এফ সি–তে খেলা কেরলের পালাকাড্ডের স্ট্রাইকার ভি পি সুহেরের সঙ্গেও নতুন মরশুমের জন্য চুক্তি করল মোহনবাগান। এদিকে এক মরশুমের জন্য বাগান ফিজিক্যাল ট্রেনার পদে নিয়োগ করল ঘানার মাইকেল জনসন আবোতসিকে। ঘানা-নাইজেরিয়া পুলিশ ওয়েটলিফটিং স্পোর্টস টিম, জোহানেসবার্গের অরল্যান্ডো পাইরেট ও হাইল্যান্ড পার্ক ফুটবল ক্লাব, গোল্ড লায়ন্স রাগবি ক্লাবে দীর্ঘসময় ধরে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। গোলকিপার কোচ হলেন দীপঙ্কর চৌধুরি। ওজোন এফ সি–র গোলকিপার ও সহকারী কোচ ছিলেন তিনি। এছাড়া এ আই এফ এফ বিভিন্ন বয়স ভিত্তিক দলে স্কাউটিংয়ের দায়িত্বে ছিলেন।
Channel Hindustan Channel Hindustan is Bengal’s popular online news portal which offers the latest news