নীল রায়। বিজেপিকে রুখতে আবারও একগুচ্ছ হেরো নেতার উপর আস্থা রাখলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সোমবার নবান্নের সভাগৃহে তৃণমূল কংগ্রেসের মন্ত্রী ও বিধায়কদের নিয়ে বৈঠক করেন তিনি।
রাজ্যের ক্ষমতা ধরে রাখতে আগামী ২১ জুলাই পর্যন্ত তৃণমূল কংগ্রেস বিধায়কদের জন্য জনসংযোগ যাত্রার কর্মসূচি বেঁধে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। এই জনসংযোগ যাত্রার স্লোগান হবে– ‘গনতন্ত্র বাঁচাও, ব্যালট ফিরিয়ে দাও’, ‘ইভিএম চাই না, ব্যালট চাই’। এই কর্মসূচির জন্য যে কমিটি করে দিয়েছেন তিনি, তাতে রয়েছেন সব পরাজিত নেতারা। কমিটিতে রয়েছেন তৃণমূলের রাজ্য সভাপতি সুব্রত বক্সি, মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায়, পুরমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম, ভাইপো অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ও পরিবহন মন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তৃণমূলের এই কমিটি নিয়ে প্রশ্ন উঠছে তৃণমূল বিধায়কদের মধ্যেই। সুব্রত বক্সি রাজ্য সভাপতি হয়েও এবার দক্ষিণ কলকাতা থেকে ভোটে দাঁড়াতে চাননি। তাঁর আসনে দল জিতলেও, কোচবিহার লোকসভা আসন জেতার গুরুদায়িত্ব ছিল তাঁরই। সেই আসনে বাজিমাত করে সংসদে গিয়েছেন বিজেপির নিশিথ প্রামানিক। ঝাড়গ্রামের সঙ্গে কৃষ্ণনগর ও রানাঘাটের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল তৃণমূল মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায়কে। কৃষ্ণনগরের মুখ রক্ষা হলো রানাঘাট ও ঝাড়গ্রামে বিজেপির কাছে পর্যদুস্ত হয়েছে তৃণমূল। পরিবহনমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী মুর্শিদাবাদ ও জঙ্গিপুর আসনের জোড়া ফুল ফোটাতে পারলেও চ্যালেঞ্জের আসন বহরমপুরে অধীর চৌধুরীকে হারাতে পারেননি। মালদহের দুটি আসনের সঙ্গে হেরেছেন রায়গঞ্জেও। যার জেরে মালদা পর্যবেক্ষকের দায়িত্ব তাঁর হাত থেকে নিয়ে সাধন পান্ডেকে দিয়েছেন তৃণমূল সুপ্রিমো। আর ভাইপো অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় নিজের ডায়মন্ডহারবার ধরে রাখতে পারলেও, বাঁকুড়া, বিষ্ণুপুর ও পুরুলিয়া লোকসভা ভোটে বিজেপির কাছে মুখ পুড়িয়ে এসেছেন। এমন নেতাদের দায়িত্ব দিলে ২০২১ সালের বিধানসভা ভোটে কীভাবে দল নবান্নের মসনদ ধরে রাখবে তা নিয়ে প্রশ্ন খোদ তৃণমূল বিধায়কদের মধ্যেই!
Channel Hindustan Channel Hindustan is Bengal’s popular online news portal which offers the latest news