চ্যানেল হিন্দুস্তান ব্যুরো :
তৃণমূলের গড় দক্ষিণ কলকাতাকে বাদ রেখেই জেলা পর্যায়ে মুখপাত্রদের তালিকা প্রকাশ করল তৃণমূল শীর্ষ নেতৃত্ব। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের (All India Trinamool Congress) সোশ্যাল মিডিয়ার পেজগুলোতে এই তালিকা প্রকাশ করা হয়। এক্ষেত্রেও নতুন ও পুরাতন নেতাদের সমন্বয় রক্ষা করার চেষ্টা হয়েছে। এর আগে সর্বভারতীয় ও রাজ্য স্তরের মুখপাত্রদের তালিকা প্রকাশ করে নতুন পুরোনো তৃণমূল নেতাদের মধ্যে সেতুবন্ধনের চেষ্টা করা হয়েছিল। এক্ষেত্রেও গোষ্ঠী দ্বন্দ্বের কথা মাথায় রেখেই বাদ দেওয়া হয়েছে নেতাদের গোষ্ঠীর পুরোনো মুখপাত্রদের। তৃণমূল নেতৃত্বের যে সিদ্ধান্ত সবচেয়ে বেশি প্রশ্ন উঠেছে, তা হল দক্ষিণ কলকাতার মুখপাত্রদের তালিকা ঘোষণা না করায়। যদিও উত্তর কলকাতার মুখপাত্রদের নাম ঘোষণা করা হয়নি। সূত্রের খবর, পরামর্শদাতা প্রশান্ত কিশোর (Prashant Kishor) ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Abhishek Banerjee) কথাতেই এই তালিকা চূড়ান্ত করা হয়েছে।
We are happy to share the official list of designated District Spokespersons of the party. pic.twitter.com/orwBtbO1u8
— All India Trinamool Congress (@AITCofficial) August 6, 2020
কিন্তু যেহেতু দক্ষিণ কলকাতা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নিজস্ব এলাকায়, এবং তৃণমূল কংগ্রেসের গড়ও বটে। তাই এই সিদ্ধান্ত রাজনৈতিক মহলের নজর টেনেছে। সম্প্রতি সাংগঠনিক রদবদলের উত্তর কলকাতায় বেশকিছু দাপটে নেতাদের কোণঠাসা করে দেওয়া হয়েছে। সেই তালিকায় রয়েছেন পূর্তমন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস ও তার যুবনেতা ভাই স্বরূপ বিশ্বাস। দক্ষিণ কলকাতা তৃণমূল নেতৃত্বের একটি সূত্র জানাচ্ছে, আগামী দিনের স্বরূপ বিশ্বাসকে মুখপাত্রের পদ দিয়ে হয়তো ক্ষতে প্রলেপ দেওয়ার চেষ্টা করতে পারে কালীঘাট। তাছাড়া উত্তর কলকাতা নিয়েও সমস্যা রয়েছে, সাংগঠনিক রদবদলে একমাত্র উত্তর কলকাতায় জেলা সভাপতির নাম ঘোষণা করতে পারেননি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। দলের একটি সূত্র জানাচ্ছে, এ ব্যাপারে বরানগরের বিধায়ক তথা রাজ্যের পরিষদীয় প্রতিমন্ত্রী তাপস রায় নাম সভাপতি হিসেবে চূড়ান্ত করা হয়েছিল। কিন্তু উত্তর কলকাতার সাংসদ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের আপত্তিতেই আপাতত সেই সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেনি তৃণমূল নেত্রী। এমনই সব হাজারো সমীকরণে ওলট-পালট হয়ে গিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি।
এদিনের ঘোষিত তালিকা বেশ কিছু এলাকায় সাংগঠনিক মেরামতের চেষ্টা করেছে তৃণমূল নেতৃত্ব। যেমন উত্তর ২৪ পরগনা মধ্যমগ্রামের বিধায়ক রথীন ঘোষকে কোনও পথ না দেওয়ায় জোর বিতর্ক বেঁধেছিল। তাঁকে জেলা মুখপাত্রের পদ দেওয়া হয়েছে। বারাসাত পুরসভার চেয়ারম্যান সুনীল মুখোপাধ্যায়কে একই পদে বসানো হয়েছে। যদিও বর্তমানে তিনি করোনা ভাইরাসে সংক্রমিত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। হাওড়ার মুখপাত্রের রদবদল এনে ডানা ছেঁটে দেওয়া হয়েছে সমবায় মন্ত্রী তথা প্রাক্তন সভাপতি অরূপ রায়ের। তাঁর ঘনিষ্ঠদের সরিয়ে মুখপাত্র করা হয়েছে যুবনেতা সুকান্ত পাল ও বালির বিধায়ক বৈশালী ডালমিয়াকে। হুগলিতে সভাপতি দিলীপ যাদব ও বিরোধী গোষ্ঠীর নেতা বেচারাম মান্না-তপন দাশগুপ্তদের দ্বন্দ্বকে মাথায় রেখে নতুন মুখপাত্রদের ওপর ভরসা রেখেছে দল। এক্ষেত্রে জেলার মুখপাত্র হয়েছেন সাংবাদিক তথা উত্তরপাড়ার বিধায়ক প্রবীর ঘোষাল, দ্বিতীয় মুখপাত্র হয়েছেন স্নেহাশিস চক্রবর্তী। জাঙ্গিপাড়ার এই তৃণমূল বিধায়ক বর্তমানে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে চিকিৎসাধীন।
জলপাইগুড়িতে দুলাল দেবনাথ, আলিপুরদুয়ারে সৌরভ চক্রবর্তী, কালিংমপংয়ে ভীম আগরবাল ও শিখা রায়, কোচবিহারে শুভপদ পাল ও নারায়ণ চন্দ্র দত্ত, বীরভূমে জামসিদ আলি খান, পশ্চিম বর্ধমান অশোক রুদ্র ও তপন বন্দ্যোপাধ্যায়, পূর্ব বর্ধমান প্রসেনজিৎ দাস, পূর্ব মেদিনীপুর মধুরিমা মন্ডল, পুরুলিয়া নবেন্দু মহালি, ঝাড়গ্রাম উমা সরেন ও সুব্রত সাহা, পশ্চিম মেদিনীপুর শান্তনু ভুঁইয়া ও দেবাশীষ চৌধুরী, মুর্শিদাবাদ অপূর্ব সরকার ও গৌতম ঘোষ, দক্ষিণ ২৪ পরগনা জীবন মুখোপাধ্যায়, ডাঃ তরুণ রায় ও বঙ্কিমচন্দ্র হাজরা, বাঁকুড়া দিলীপ আগারওয়াল, দার্জিলিং সমতল বেদব্রত দত্ত, দার্জিলিং পাহাড় এনবি খাওয়াস, নদিয়া বাণী রায় ও দেবাশীষ রায় এবং দক্ষিণ দিনাজপুর জয়ন্ত দাস।
Channel Hindustan Channel Hindustan is Bengal’s popular online news portal which offers the latest news