দেবক বন্দ্যোপাধ্যায়
মুখ্যমন্ত্রীর বিসর্জন বিলম্বিত করার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে এবার মুখ খুললেন সোমেন মিত্র। শুধুমাত্র প্রবীন রাজনীতিক নয়, সোমেন একজন দীর্ঘদিনের পুজো উদ্যোক্তাও বটে। উত্তর কলকাতার অভিজাত পুজো কলেজ স্কোয়ারের দীর্ঘদিনের সভাপতিও সোমেন। শুধুমাত্র রাজনীতিক নয়, একজন পুজো উদ্যোক্তা হিসেবে মুখ্যমন্ত্রীর এই সিদ্ধান্ত কি চোখে দেখেন সোমেন? তাঁর উত্তর,”আমি অনেক বছর পুজো করছি আবার দেখছি। বিজয়া আর মহরম একসঙ্গে আগেও হয়েছে। সাধারণত মহরমের তাজিয়া বেলা ৩টের মধ্যে শেষ হয়ে যায়। বিসর্জন হয় বিকেল-সন্ধ্যেবেলা। এভাবেই চলে আসছে। বর্তমান মুখ্যমন্ত্রীকে কেন এরকম সিদ্ধান্ত নিতে হল তা বোঝার বাইরে।” বিজেপি তো বটেই এমনকি মুসলিম সমাজের পরিচিত প্রতিনিধিদের বেশিরভাগই মুখ্যমন্ত্রীর সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেছেন।
এই রাজ্যে এখনও যে কজন রাজনীতিক গোটা রাজ্যটিকে হাতের তালুর মত চেনেন, মামুষের আবেগ বোঝেন, তাঁদের মধ্যে সোমেন মিত্র একজন। এখনও পর্যন্ত রাজ্যের সব সম্প্রদায়ের মানুষের সঙ্গেই তাঁর যোগাযোগ একেবারে ব্যক্তিগত স্তরে। এ হেন সোমেন মিত্র মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই সিদ্ধান্তে দৃশ্যতই হতাশ ও হতবাক। তাঁর কথায়, “হিন্দু মুসলিম উভয় সম্প্রদায়কেই অসম্মান করলেন মুখ্যমন্ত্রী।” রাজ্যের মানুষকে এতটা অসহিষ্ণু ভাবার কোনও কারণ নেই বলেই মনে করেন সোমেন।
প্রায় একইরকম মতামত ফুরফুরা শরিফের পীরজাদা ত্বহা সিদ্দিকির। তিনি বলেন, মুখ্যমন্ত্রী একটি সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। সেই সিদ্ধান্তে হিন্দুভাইদের মনে সৃষ্টি হয়েছে। তাঁরা ভাবছেন মুসলিমদের পরবের জন্য তাঁদের বিসর্জনে ভাটা পড়ছে। এই ক্ষোভ যাতে সৃষ্টি না হয় সেদিকে নজর রাখতে হবে।” ত্বহা সিদ্দিকির প্রশ্ন, “মুসলিমদের মহরম যদি পিছিয়ে দেওয়া হয় তাহলে কী তাঁরা মেনে নেবেন!”
রাষ্ট্রীয় স্বয়ং সেবক সঙ্ঘের জিষ্ণু বসু বলেন, “ছোটবেলা থেকে জেনে এসেছি দুর্গাপুজা বাঙালির শ্রেষ্ঠ উৎসব। বাঙালিকে বাঙালি বলেই জেনেছি, আর তাছাড়া মুসলিম ধর্মের বহু মানুষ দুর্গা পুজোর সঙ্গে যুক্ত থাকেন।”
ফুরফুরা-সঙ্ঘ এই নিয়ে কথা বলছে একসুরে। সোমেন মিত্রর মত অভিজ্ঞ রাজনীতিকও নিজের অবস্থান পরিস্কার করেছেন। এবার মুখ্যমন্ত্রীর সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে একটি জনমত তৈরি করা যাবে বলেই মনে করছে বিভিন্ন মহল।
Channel Hindustan Channel Hindustan is Bengal’s popular online news portal which offers the latest news