নীল রায়:
তৃণমূলে লঙ্কাকাণ্ড করব, “হরিদাস” অভিষেককে হুঁশিয়ারি দিলেন দলত্যাগী সাংসদ সৌমিত্র খাঁ। সোমবার দুপুরে আচমকাই নিজের ফেসবুকের দেওয়ালে সৌমিত্র খাঁ জোড়া মন্তব্য পোস্ট করেন। দুটি ক্ষেত্রেই বিষ্ণুপুরের সাংসদের আক্রমণের লক্ষ্য মুখ্যমন্ত্রীর সাংসদ ভাইপো। রবিবার যে কায়দায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে হরিদাস বলে সম্বোধন করেছিলেন, সেভাবেই এদিন সোশাল মিডিয়ায় অভিষেকের নামে একাধিক অভিযোগ তুলে হুমকি দেন সৌমিত্র খাঁ। এদিন প্রথমে তিনি লেখেন, “হরিদাস কে কত টাকা নিয়েছে দিল্লিতে, কবে কত টাকা নিয়েছ আমার কাছ আছে, সুপ্রিম কোর্টে কেস করছি। আর সেখানেই দেখা হবে।” দ্বিতীয় মন্তব্যে নিজেকে হনুমানের সঙ্গে তুলনা করে সৌমিত্র লেখেন, “একটা হনুমান লঙ্কাকাণ্ড করেছিল আর আমিও তাই করে দেখাব মিস্টার হরিদাস ভাইপো।”
বর্তমানে দিল্লিতে রয়েছেন সৌমিত্র। বিজেপি নেতা মুকুল রায় তাঁর অভিভাবক। তাই মনে করা হচ্ছে সৌমিত্রর এই ধারাবাহিক আক্রমণের পিছনে রয়েছে তাঁরই ক্ষুরধার মস্তিষ্ক। আসলে মেঘনাদের মতো আড়াল থেকে তিনিই সৌমিত্র মারফৎ অভিষেকের ওপর লাগাতার রাজনৈতিক হামলা চালিয়ে যাচ্ছেন। এদিন সৌমিত্র খাঁ স্বীকার করে নিয়েছেন মুকুল রায়ের হাত তাঁর মাথায় থাকার কথা। ফেসবুকে লেখা নিজের অভিযোগের পক্ষে তাঁর কাছে পর্যাপ্ত প্রমাণ রয়েছে বলে দাবি করেছেন সৌমিত্র। সঙ্গে জানান, বিজেপি নেতৃত্বের কাছে তিনি “হরিদাস” বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে পুলিশ ও আদালতে অভিযোগ জানানোর অনুমতি চেয়েছেন। এই “হরিদাস” যে আসলে অভিষেক তা বারবার বুঝিয়ে দিয়েছেন যুবা সাংসদ। তাঁর কথায়, “দল আমাকে অনুমতি দিলেই আমি দিল্লিতে হরিদাস ব্যানার্জির বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করব। কারণ লেন-দেন দিল্লিতেই হয়েছিল।” সৌমিত্র খাঁ আরও দাবি করেন, “আমার কাছে যে তথ্য আছে, তা প্রকাশ্যে এলে হরিদাস ব্যানার্জির বিরুদ্ধে বিদ্রোহ শুরু হবে। সেই তথ্য দিয়ে আদালতে মামলা করব।”
সূত্রের খবর, এই পাশা খেলার “মেঘনাদ” মুকুল রায় মারফৎ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে অভিযোগ জানানোর অনুমতি পেয়ে যাবেন সৌমিত্র। সব ঠিকঠাক চললে মঙ্গলবারই সৌমিত্র খাঁ দিল্লির কোনও একটি থানায় অভিষেকের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করবেন। এমনই ছক কষেছেন বাংলার রাজনীতির “মেঘনাদ”!
Channel Hindustan Channel Hindustan is Bengal’s popular online news portal which offers the latest news