চ্যানেল হিন্দুস্তান ব্যুরো :
ফেলুদা হাঁটছে ব্যস্ত রাস্তা দিয়ে। রাস্তার দু’দিকে যা দেখছে সব তার মস্তিষ্কে ছবি হয়ে থেকে যাচ্ছে। এই তথ্য জানা গেছে তপেশ রঞ্জন মিত্রের কলম থেকে। তোপসে লিখেছে তাই ফেলুদার ভক্তরা জেনেছে ফেলুদার মগজাস্ত্রের জোর।
সত্যজিৎ রায় সম্পর্কে যাঁরা লিখেছেন তাঁরাও জানিয়েছেন মানিক যখন যে লোকেসন রেইকি করতেন, তাঁর মাথায় লোকেসনের পুঙ্খানুপুঙ্খ ছবি হয়ে সেঁটে যেত।
তাই বলে কি সত্যজিৎ রায়ই প্রদোষ মিত্র? দুজনের ডালমুটের প্রতি টানও মিলে যায়!
নাকি আগন্তুক? আগন্তুক মনমোহন মিত্র? জীবনের শেষ ছবি নির্মাণ করতে গিয়ে যাঁকে দিয়ে পরিচালক বলাচ্ছেন মানুষের মাংস যারা খায় তাদের চেয়ে ঢের ঢের হিংস্র সেই তথাকথিত সভ্য সমাজ, যারা একটি বোতাম টিপে একটি শহরকে নিমেষে উড়িয়ে দেয়।
মনমোহন মেকি সভ্যতা, পোষাকি শিক্ষিত সমাজের ধার না ধেরে সোচ্চারে বলছেন ওঝার থেকে চিকিৎসা নেওয়ার অভিজ্ঞতা তাঁর আছে। যে ওঝা অসংখ্য শিকড় বাকড় ও তার গুণাগুণ সম্পর্কে ওয়াকিবহাল। জামা কাপড় পরা সভ্য সমাজের আয়ত্তের বাইরে যে বিশাল জগত পড়ে আছে সেই জগতের গুহা চিত্র শিল্পীরা, যে তথাকথিত অসভ্য মানুষ ইগলু তৈরি করার প্রযুক্তি জানে, তারা, জীবনের শেষ ছবিতে মনমোহন মিত্র কে দিয়ে তাদের কথা বলিয়েছেন মানিক।
কেন বলালেন?
সত্যজিত স্বয়ং কি এই চরিত্রটির মধ্যে ছিলেন বা আছেন?
একটা কি দুটো চরিত্রের মধ্যে সত্যজিতকে বাঁধার পক্ষপাতী নয় ফেলুদা! ফেলুদা না বলে অপুও বলতে পারেন! ঠিকই, বিষয়টা আরও বিস্তারে দেখার পক্ষপাতী সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়। তাঁর কথায়,
“সত্যজিৎ রায় তাঁর সিনেমার বহু চরিত্রের মধ্যে ছড়িয়ে আছেন কিন্তু কোনও বিশেষ চরিত্রের মধ্যে নেই।” সৌমিত্র মনে করেন, যাঁরা ভার্সেটাইল জিনিয়াস তাঁদের কোনও একটা বিশেষ চরিত্রের গণ্ডীর মধ্যে আটকে রাখা যায় না। “কুরোশাওয়ার কি এমন কোনও চরিত্র পাওয়া যাবে যাঁর মধ্যে কুরোশাওয়াকে বোঝা যায়? উল্টে প্রশ্ন করলেন সৌমিত্র। তিনি মনে করেন, ‘পরিচালকের মুন্সিয়ানা সেখানেই যেখানে কোনও একটি বিশেষ চরিত্রে তাঁকে ধরা যায় না। সত্যজিৎ রায় তাঁর তৈরি বহু চরিত্রের মধ্যে ভীষণভাবে মিশে আছেন কিন্তু কোথাও ব্যক্তি সত্যজিৎ দৃশ্যমান নয়।’
Channel Hindustan Channel Hindustan is Bengal’s popular online news portal which offers the latest news