নিজস্ব সংবাদদাতা
মারাদোনার পায়ে বল। তাঁকে গার্ড করতে বিপক্ষের তিন-চারজন খেলোয়াড় সেঁটে রয়েছেন দিয়েগোর পায়ে। চেনা ছবি। রাজনীতির ময়দানে এসে ছবিটা বাড়বাড়ি রকম আকার ধারণ করল মঙ্গলবার নয়াদিল্লিতে। মোদির পায়ে বল (পড়ুন হাতে দেশ) আর তাঁকে আটকাবার ছক কষতে তিন নয় চার নয়, শত্তুরের মুখে ছাই দিয়ে ২০ জন খেলোয়াড়কে নিয়ে আলোচনায়, থুড়ি নৈশভোজনে বসলেন বড় ক্লাবের কর্তা, থুড়ি জাতীয় কংগ্রেসের সুপ্রিমো (রাহুল সভাপতি হলেও!) সনিয়া গান্ধি। মঙ্গলবার অন্তত ২০টি দলের নেতা এই নৈশভোজে অংশ নেন। তৃণমূলের তরফে সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়, বামফ্রন্টের তরফে মহম্মদ সেলিম, আরজেডির তরফে তেজস্বী যাদব ও মিসা ভারতী, এনসিপির শরদ পাওয়ার সহ বহু হেভিওয়েট নেতাই উপস্থিত ছিলেন এই নৈশভোজে। কংগ্রেস জানিয়েছে, এই ভোজের অন্তরালে কোনও রাজনৈতিক উদ্দেশ্য নেই! সনিয়ার নিজের অফিসও জানিয়েছে, এটা শুধু গেট টোগেদার। যদিও দেশের একটি শিশুও বুঝবে ১০ জনপথের এই আপ্যায়ন এমনি এমনি নয়! ২০১৯ মাথায় রেখে ঘুঁটি সাজাবার একটি মরিয়া চেষ্টা করছেন সনিয়া। চেষ্টাটা কতটা বিজেপিকে পরাস্ত করার আর কতটা নিজের পুত্রকে প্রধানমন্ত্রীকে করার তা নিয়ে নৈশভোজে যাঁরা বিবিধ পদ চেখে দেখলেন, তাঁদের নিজেদেরই সন্দেহ আছে! তবে রাহুলকে প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী হিসেবে সবাই মেনে নেবে কি না তা নিয়ে সনিয়ার নিজেরই সংশয় আছে। তাই আগেভাগে কংগ্রেস বলে রেখেছে প্রধানমন্ত্রীপদপ্রার্থী হিসেবে অন্য কোনও নাম ঠিক করা যেতেই পারে। এমন অফার আগে থেকে দিয়ে কংগ্রেস যেন আমন্ত্রিতদের থেকে একই প্রস্তাব পাল্টা ফিরে পেতে চাইছে! এই অভিজ্ঞতাও আমন্ত্রিতদেরই। সব চেয়ে বড় কথা উত্তরপ্রদেশে বহু খরচ ও প্রচারের ঢক্কানিণাদের পরেও বিজেপির সরকার হয়, সঙ্গে হিমাচলি ঝটকা ফ্রি! রাজস্থানে কয়েকটি উপনির্বাচনে জিতে কংগ্রেস যে আনন্দ উৎসবের প্রদর্শন করেছে তা এক প্রকার কৌতুকের জন্ম দিয়েছে রাজনৈতিক মহলে। এ যেন ফেল করা ছেলের হঠাৎ একটি সাবজেক্টে পাশমার্ক পেয়ে আস্ফালন করার মতো! সনিয়ার প্রধানমন্ত্রী হওয়ার বিরোধিতা করে কংগ্রেস ছেড়ে ছিলেন শরদ পাওয়ার। রাহুলকে মানবেন ৭ আরসিআরে? প্রশ্ন। মমতা ইতিমধ্যেই উদ্যোগী হয়েছেন তৃতীয় ফ্রন্ট নিয়ে। তিনি কী কংগ্রেসকে শেষ পর্যন্ত জমি ছাড়বেন! বামেদের সনিয়া একবার চিনেছেন। এবার হয়তো আরও একবার চিনতে চাইছেন! এমনিতেই বাম বলতে এখন শুধু কেরল। হাতে রইলেন তেজস্বী। তাছাড়া রাহুলকে প্রধানমন্ত্রীর আসনে দেশ কতটা দেখতে চাইবে! তাছাড়াও জোট রাজনীতির সমস্যা এ দেশ দেখেছে। শরিকদের দরাদরি, দড়ি টানাটানি, পাইয়ে দেওয়া এই সবই জোট রাজনীতির কালো দিক। এদিনের ভোজে সনিয়া-রাহুলের সঙ্গে প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী মনমোহ সিংহ, মল্লিকার্জুন খাড়গে সহ একাধিক নেতা উপস্থিত ছিলেন।
বিভিন্ন বিষয়ে ভিডিয়ো পেতে চ্যানেল হিন্দুস্তানের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন
https://www.youtube.com/channelhindustan
https://www.facebook.com/channelhindustan
Channel Hindustan Channel Hindustan is Bengal’s popular online news portal which offers the latest news