Breaking News
Home / TRENDING / গানের পাখি হেমন্ত

গানের পাখি হেমন্ত

পার্থসারথি পাণ্ডা: 

পনের বছর বয়স তখন হেমন্তর। ক্লাস নাইনে পড়েন। কোত্থেকে যেন বন্ধু সুভাষ একদিন ঝড়ের মতো বাড়িতে এলেন। এসেই বললেন, চটপট রেডি হয়ে নে, চল। হেমন্ত অবাক। চল, মানে? কোথায়? সুভাষ বললেন, নো কোশ্চেন, গেলেই জানতে পারবি। হেমন্ত হাড়ে হাড়ে চেনেন সুভাষকে, কবি মানুষ, শুরুতে যখন রহস্য ভাঙেননি, মধ্যিখানেও ভাঙবেন না। অগত্যা হেমন্তকে রেডি হয়ে বেরোতে হল তাঁর সঙ্গে।

কতকটা এভাবেই সুভাষ মুখোপাধ্যায় ১৯৩৫ এর এক সকালে হেমন্ত মুখোপাধ্যায়কে টেনে নিয়ে গিয়েছিলেন আকাশবাণী ভবনে। সেদিন সেখানে ছিল গানের অডিশন। বয়স পনের হলেও গান গাওয়ার ব্যাপারে কোন ভয়ডর ছিল না হেমন্তর। কারণ, গান ছিল তাঁর প্রাণের শান্তি, ভালোবাসার ধন। দেবী সরস্বতীর বরে সঙ্গীতের রস-রূপ-রঙ অন্তরে নিয়েই যেন তিনি জন্ম নিয়েছিলেন। মাত্র বছর দেড়েক ওস্তাদ ফৈয়াজ খাঁ সাহেবের শিষ্য ফণিভূষণ গাঙ্গুলিমশাইয়ের কাছে গানের তালিম নিয়েছিলেন। তারপর গাঙ্গুলিমশাই হঠাৎ মারা যাওয়ায় আর গান শেখা হল না। বাকিটুকু আত্মবিশ্বাসী সাধকের একক সাধনা। ফলে অডিশনে এমন জমিয়ে গাইলেন যে, প্রথম অডিশনেই সিলেক্ট হয়ে গেলেন হেমন্ত। আকাশবাণীর গায়ক তালিকায় তাঁর নাম উঠে গেল। মুশকিলটা হল তারপরই…

হেমন্তর বাবা যখন জানতে পারলেন যে, ছেলে রেডিওতে চান্স পেয়েছে, তখন খুশি তো হলেনই না বরং গেলেন ক্ষেপে। ভদ্রলোকের ছেলে হয়ে রেডিওতে গান গাইবে, অসম্ভব! তাও আবার সবে পনের বছর বয়স, ক্লাস নাইন, পড়াশোনা সব গোল্লায় যাবে যে! গান শিখেছ ঠিক আছে, কিন্তু বাইরে গান গেয়ে বেড়াবে ওটি হচ্ছে না! বাবা দিলেন ছেলেকে আচ্ছা করে দাবড়ে।

ঠিক এই সময়ই আকাশবাণী থেকে তালিকা ধরে একদিন এলো হেমন্তর গান গাইবার পালা। ফলে চিঠি গেল বাড়িতে। বাবা ছেলেকে গান গাইতে যেতে দেবেন না কিছুতেই, কিন্তু ছেলেও নাছোড়বান্দা। তখন সকলে মিলে অনেক বুঝিয়ে সুঝিয়ে শেষমেশ যাহোক বাবাকে রাজি করানো গেল।

সেসময় আকাশবাণীর সঙ্গীতের ট্রেনার ছিলেন শৈলেশ দত্তগুপ্ত। অনুষ্ঠানের আগে হেমন্তকে একদিন ডেকে পাঠালেন তিনি। জানতে চাইলেন, প্রোগ্রামে কোন্ গান গাইবেন হেমন্ত? তিনি ট্রেনার, তাঁকে তো জানতে হবে, রিহার্সাল দেওয়াতে হবে। হেমন্ত দুম করে বলে বসলেন যে, প্রিয় সুরকার কমল দাশগুপ্তর ‘ তোমার হাসিতে জাগে’ গানটি গাইবেন। কিন্তু সে গান তো কমলবাবু নিজে গেয়ে রেকর্ড করেছেন। হেমন্ত জানালেন যে, সুরটা তাঁর বড় প্রিয়, সুরটা নেবেন, কিন্তু কথাটা নতুন করে লিখিয়ে নেবেন। শৈলেশবাবু বললেন, বেশ। তাই করে দেখ, দেখি কেমন দাঁড়ায়…

সুভাষের কাছে গিয়ে হেমন্ত গুনগুনিয়ে সুরটি শুনিয়ে বললেন, এতে কথা বসিয়ে একটা গান লিখে দে, চটপট… তখন সুভাষ লিখলেন, ‘আমার গানেতে এলে নবরূপে…’। সেই গানের মধ্য দিয়েই সারা দেশ রেডিওতে প্রথম মুগ্ধ হয়ে শুনল হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের কন্ঠ… সেই ছিল শুরু, বাকিটা কিংবদন্তীময় ইতিহাস…

বিভিন্ন বিষয়ে ভিডিয়ো পেতে চ্যানেল হিন্দুস্তানের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

https://www.youtube.com/channelhindustan

https://www.facebook.com/channelhindustan

Spread the love

Check Also

বর্বর ধর্ষকদের প্রাণ ভিক্ষা নয়, কড়া বার্তা রাষ্ট্রপতির

ওয়েব ডেস্ক: নৃশংস অপরাধীর প্রাণ ভিক্ষার আবেদনে অনুমতি দেওয়া অনুচিত। কড়া বার্তা রাষ্ট্রপতির (President of …

তেলেঙ্গানায় ধর্ষকদের এনকাউন্টারে সায় নেই মমতার

নীল রায়। তেলেঙ্গানায় তরুণী পশু চিকিৎসককে গণধর্ষণ-খুনে (Telengana Gang Rape & Murder) অভিযুক্তদের  এনকাউন্টারে মৃত্যুর ঘটনার …

ফের বিধানসভায় রাজ্যপাল ! অসৌজন্যমূলক আচরণ অব্যাহত তৃণমূলের

নীল রায়। বিধানসভায় উপস্থিত থাকলেও রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড়কে (Jagdeep Dhankhar) স্বাগত জানালেন না অধ্যক্ষ বিমান …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *