মূল হিন্দি রচনা: শরদ জোশী
অনুবাদ: পার্থসারথি পাণ্ডা
নেতার একটি উট আছে। সে ফরেইন মিনিস্টার হতে চায়। নিজেকে সে নিতান্তই একজন ডিপ্লোম্যাট মনে করে। কারণ, বাঁকা কথা ছাড়া, সোজাসাপটা কথা বলতে সে জানেই না! তাই নেতাও তাকে পাকাকথা দিয়ে বলেছে, ‘ওরে, আমি যখন প্রধানমন্ত্রী হবো, তখন তুই-ই তো হবি আমার বিদেশ মন্ত্রী! এ-দেশে তুই ছাড়া আর আছেটাই বা কে, যার গলা এমন উঁচু, যে পারবে পাকিস্তানের সঙ্গে অমন গলা উঁচিয়ে কথা বলতে!’ ব্যস, এইটুকুতেই উট ভারি নিশ্চিন্ত হয়। অমনি সে তার গেঁয়ো গেঁয়ো ভাবখানা বজায় রাখতে উঠে পড়ে লাগে। ভোটের বাজারে লোকে এটাই খায়! উটকে এই নেতার পছন্দ একটাই কারণে, সেটা হল, এ-ব্যাটা নেহাতই নিরামিষখোর, তাই!
নেতার কুকুর জানে যে, যতক্ষণ না ঘরের সবাই কোন না কোন পদে বসছে, তার ডিআইজি হওয়া হচ্ছে না! নেতা আজকাল নিজের বড় ছেলেকে মুখ্যমন্ত্রী করার জন্য খুব উঠে পড়ে লেগেছে। সেজন্য যদি কাউকে কুপিয়েও প্রধানমন্ত্রী হতে হয়, সে হবে! কারণ, যে-করেই হোক ছেলেকে মুখ্যমন্ত্রী বানাতেই হবে। বড় ছেলেকে মুখ্যমন্ত্রী না-করতে পারলে ছোট ছেলেকে উপমুখ্যমন্ত্রী করবে কেমন করে? রাতদিন বাড়িশুদ্ধু সবাই এই একটা কাজেই দাঁতমুখ খিঁচিয়ে লেগে থাকে। বড় ছেলের আবার একটা পোয়াটাকের ছেলে আছে। তার পাঁয়তারাও দেখার মতো। র্যালা মেরে বাপকে সে বলে, ‘তোমাকে তো আমি মুখ্যমন্ত্রী বানাবই বানাব, বাবা! আর দাদুকে বানাব প্রধানমন্ত্রী! হম লুটকে লেঙ্গে হিন্দুস্তান!’
নেতার প্রতিটা ঘরই তো গুদামঘর, তাই ইঁদুরও প্রচুর। আগের নির্বাচনে এদের সবাইকে টিকিট দেওয়া হয়েছিল এবং দায়িত্ব নিয়ে সবাইকে বিধায়ক করে নেওয়া হয়েছে। বাঁশি বাজালেই তারা এসে সুড়ুত করে হাজির হয়! তাদের জোট, মহাজোট, সে এক দেখবার মতো জিনিস!
নেতার ঘরের যত বেড়াল ছিল, তাদের সবাইকে নির্বাচিত করে লোকসভায় পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। তারা সেখানেই এখন ম্যাও ম্যাও করে! পেছনের উঠোনে একটা ভোটিং-বুথ বানানো আছে, সেখানে বাড়ির বাচ্চারা সকাল-সন্ধ্যে বুথ-ক্যাপাচারিং এর খেলা খেলে! বাড়ির বাইরে গাদাগাদি করে দিনরাত লেঠেলরা বসে থাকে। কেউ ভেতরে যেতে চাইলে বাঁই করে ঘুরিয়ে প্রথমেই তারা তার পিঠখানা দেখে নেয়। ব্যাকগ্রাউন্ডে গেঁয়ো গেঁয়ো ভাবখানা থাকলে, তবেই ভেতরে যেতে দেয়। ঠিক সন্ধ্যের সময় চটুল রাজনৈতিক খিস্তি শেখানোর মাস্টারমশাই আসেন। হয় তিনি কোন বাতিল নেতা, নইলে নেতারই গাঁইগুষ্টির কেউ!
নেতার একটা বলদ আছে। যদিও ষাঁড় হতে না-পারার আফসোস তাকে কুরে কুরে খায়, তবুও সে হোম মিনিস্টার হবার স্বপ্ন দেখে! নেতা তাকে একবার হোম মিনিস্টার বানিয়েও দিয়েছিল, কিন্তু পরের নির্বাচনে আনাড়ির মতো আনতাবড়ি শিং চালাতে গিয়ে বেঘোরে বেচারা হেরেই গেল! নেতা সেই সময় মুখ বাঁচাতে অভিযোগ তুলেছিলেন যে, বিষয়টা আসলে বিরোধীদের চক্রান্ত! এই বলদেরই আবার একটা চামচা আছে। সে ছোট বলদ। নেতা তার শিং গজানোর অপেক্ষায় আছে। যখনই সেটা গজাবে, তক্ষুনি ঐক্যমতের ভিত্তিতে তাকে পার্টির প্রেসিডেন্ট করে দেবে।
আরও আছে। নেতার ক্ষেত পাহারা দেয় পেল্লায় দুটো কুত্তা। তাদের মনেও অনেক আশা! নেতা মরলেই লাঠালাঠিতে নেমে পড়বে বলে একরকম প্ল্যান তারা করেই রেখেছে। গাঁয়ে শেকড় গেঁড়ে বসার জন্য তাদের প্রস্তুতি তুঙ্গে। তার জন্য আপাতত দুজনকে হাপিশ করতে হয়েছে আর পাঁচ জনের মুণ্ডু ওড়াতে হয়েছে। ফলে গাঁয়ে এখন তাদেরই রবরবা। কার ঘাড়ে কটা মাথা যে, তাদের সামনে ঘাড় উঁচিয়ে দাঁড়ায়! নেতা যখন মঞ্চে ভাষণ দিতে ওঠে, তখন কুত্তা দুটো কালো চশমা পরে ভালো সংগঠকের মতো নীচে দাঁড়িয়ে থাকে।
এদের সবারই অসম্ভব ধৈর্য্য। অদ্ভুত এদের স্বভাব! যখন তখন জুতো ছোঁড়াছুড়ি হয়, আবার ফিকির বুঝে সবার ভাবও হয়ে যায়। গত সপ্তাহ থেকে নেতা একটা টিয়া কিনে পুষতে শুরু করেছে। এখন তাকে যত্ন করে বুলি আওড়াতে শেখানো হচ্ছে। সেটা শিখে ফেললেই নেতা তাকে নিজের ডেলি নিউজ পেপারের সম্পাদক করে নেবে! সে কাগজের ফাইন্যান্স করতে কয়েকজন শিল্পপতি তো এখন থেকেই রাজি! একজন নাপিতও আছে। সে সবার কামায় আর অনবরত লোকসভার খবর শোনায়। তাকে যখন জিজ্ঞেস করা হয়, ‘এই, তুই সাংবাদিক হবি?’ তখনই সে মুখ বেঁকিয়ে বলে, ‘ইস, কেন? আমি ইনফরমেশন মিনিস্টার হবো!’ পণ্ডিতেরা মাথা নেড়ে বলে, ‘সাধু, সাধু, সাধু!’
নেতার বাড়ির বছর আটেকের বছরের ছেলটি ইচ্ছেমতন স্কুলে যায়। কিছুদিন আগেই হেডমাস্টারকে প্রেসার দিয়ে তাকে ক্লাসের মনিটর করে দেওয়া হয়েছিল। গতকাল ক্লাসের সব ছেলেরা তাকে গোবেড়েন ধোলাই দিয়েছে। সে-খবর আসতেই দুই সংগঠক কুত্তা ছুটে গেল এবং হেডমাস্টারকে আচ্ছাসে পিটিয়ে শোধ তুলে এলো!
Channel Hindustan Channel Hindustan is Bengal’s popular online news portal which offers the latest news