Breaking News
Home / TRENDING / সাবধান স্টেশন মাস্টার!

সাবধান স্টেশন মাস্টার!

মূল হিন্দি রচনা : শরদ জোশী

অনুবাদ : পার্থসারথি পাণ্ডা

প্ল্যাটফর্মে লোকেরা বসে আছে। দাঁড়িয়ে আছে, পায়চারিও করছে। তারা মনমরা। একে অপরের সঙ্গে কথাও বলছে না। কেউ কেউ নিজের গোষ্ঠীর মধ্যে সামান্য ফিসফাস করছে বটে, কিন্তু তাকে কি কথা বলা বলা যায়?

ট্রেন একটা আসবে। ঘোষণা হয়েছে। কিন্তু যিনি ঘোষণা করেছেন, তিনি কিছুতেই বলতে পারছেন না যে, ট্রেনটা কোন দিক থেকে আসবে। সেটা এখানে এসেই দাঁড়িয়ে পড়বে, নাকি কোথাও যাত্রীদের নিয়ে যাবে? কিংবা সে কি ফিরে যেতে যাবে? অনেকেই ইতিমধ্যে সন্দেহ করতে শুরু করেছে, ট্রেনটা কি আদৌ আসবে!

দাড়িওয়ালা স্টেশন মাস্টারটি বার বার নিজের ঘর থেকে এক একবার বেরিয়ে আসছে, আবার কি যেন ভেবে ফের ঢুকে পড়ছে! মনে হচ্ছে, সে প্ল্যাটফর্মে বসা আনমনা লোকগুলোকে কিছু বলতে চায়। সে বলতে চায়, এই অনিশ্চিত প্ল্যাটফর্মের সেই-ই হচ্ছে কর্তা। ট্রেন যখন আসবে, তখন সেই-ই ঠিক করবে ট্রেনটা যাবে কোনদিকে! যদিও সে নিজেই জানে না যে, ট্রেনটা সত্যি কোনোদিকে যাবে কি না!

দাড়িওয়ালা স্টেশন মাস্টারের ঘরে কিছু সম্ভ্রান্ত লোক বসে আছে। সমস্ত ঘরটি যেন ঘিরে রেখেছে এরা। আর স্টেশন মাস্টারটির দিকে আড়চোখে চেয়ে মনে মনে খুব হাসছে। এরা আসলে কোথাও যাবে না। এরা স্টেশন মাস্টারের ঘরে নিছক সময় কাটাতে বা আমোদ করতে এসেছে। স্টেশন মাস্টারের নিজের অবশ্য খুব ভালো লাগে এই সম্ভ্রান্তদের সঙ্গে ওঠাবসা করতে। শহরে এদের কোন কাজ নেই। এরা পরিস্থিতির মজা নিতে স্টেশন মাস্টারের ঘরে হাজির হয়েছে।

প্ল্যাটফর্মে যারা বসে আছে, তারা দীর্ঘ অপেক্ষার পর ভুলেই গেছে যে, ওদের কোথাও যাওয়ার আছে। কোথাও যাওয়ার হয়তো নেইও। এদের মধ্যে অবশ্য অনেকেই এমনও আছে যে, যে-কোন দিক থেকেই ট্রেন আসুক না কেন, তাতেই তারা উঠে বসতে তৈরি। কিন্তু তারা জানে না যাত্রা আদৌ শুরু হবে কিনা; যাত্রা শুরু হলেও ট্রেন তাদের সেই জায়গাতেই আবার পৌঁছে দেবে কি না, যেখান থেকে তারা একদা কোথাও যাবে বলে ভেবেছিল!

 

এই ভিড় ভরা প্ল্যাটফর্ম আসলে আমাদের দেশ।

স্টেশন মাস্টারটিকে আপনারা সবাই জানেন। আপনারা ওই অট্টহাসি হাসতে বসা সম্ভ্রান্ত লোকগুলোর সঙ্গেও পরিচিত; যারা দিশাভ্রষ্ট কর্তাটিকে আরও বিভ্রান্ত করতে এবং তামাশা দেখার জন্য বসে আছে।

যদিও এই মুহূর্তে আর ঘোষণা নেই, ট্রেনেরও দেখা নেই, দিকের ঠিক নেই, টাইম টেবল অনিশ্চিত, তবুও অপেক্ষারত যাত্রীদের ঝিমোতে দেখে স্টেশন মাস্টার ভেবে বসল যে, পরিস্থিতি একেবারে হাতের মুঠোয় এবং যাত্রীরাও তার ব্যক্তিত্বে বশ!

লোকেরা চুপচাপ এই মুহূর্তে। তারা কিছু ভাবছেও না। ট্রেনের জন্য অপেক্ষা যেন এখন তাদের নিছক একটা অভ্যেস! তাদের কাছে লক্ষ্যে পৌঁছনো আর লক্ষ্যের জন্য অপেক্ষা দুইই সমান।

মনে করুন, তাদের এই দীর্ঘ নিষ্ক্রিয়তা ও অচেতনতার পর হয়তো চেতন এলো, তারা ভাবতে শুরু করলো, সজোরে নিজেদের দাবি জানাতে জানাতে তারা উঠে দাঁড়ালো, ট্রেনের লাইন উপড়ে ফেলতে শুরু করলো, স্টেশন মাস্টারের ঘরে হুড়মুড়িয়ে ঢুকতে শুরু করলো! তখন অট্টহাসিমুখর সম্ভ্রান্ত লোকদের মাঝে বসে স্টেশন মাস্টার কি করবে?

Spread the love

Check Also

Big Breaking: হুমায়ুনকে ওয়েসির ‘ফিলার,’ কী উত্তর দিলেন তৃণমূলের বিধায়ক

দেবক বন্দ্যোপাধ্যায় হুমায়ুনকে ওয়েসির ফোন! দল তাঁকে শো-কজ করেছে। তিনি সেই শো-কজের উত্তরও দিয়েছেন। তাতেও …

রাহুলের পাইলট প্রোজেক্ট, মুর্শিদাবাদ কংগ্রেসে আধিপত্য হারাতে পারেন অধীর

দেবক বন্দ্যোপাধ্যায় পশ্চিমবঙ্গ নিয়ে রাহুল গান্ধির নতুন উদ্যোগে মুর্শিদাবাদের কংগ্রেস রাজনীতিতে খর্ব হতে পারে অধীর …

আমি আসছি! নাম না করে শুভেন্দুকে শাসালেন আনিসুর

চ্যানেল হিন্দুস্থান, নিউজ ডেস্ক: নাম না করে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারিকে শাসালেন আনিসুর রহমান। একদা …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *