চ্যানেল হিন্দুস্তান ব্যুরো।
গত কয়েক দিনে একটি ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে। যেখানে দেখা যাচ্ছে একজন স্বাস্থ্য কর্মী পিপিই বা ব্যক্তিগত নিরাপত্তার বিশেষ পোষাক পরে রয়েছেন, যে পোষাকের পিছনে লেখা ‘গিফটেড বাই সুজিত বসু’। অর্থাৎ সুজিত বসুর দেওয়া উপহার। কে সুজিত বসু? না, নামের সঙ্গে কোনও পরিচয় লেখা নেই ঠিকই তবে অনুমান করাই যায়, যে ইনি বিধাননগরের বিধায়ক তথা রাজ্যের দমকলমন্ত্রী সুজিত বসু। ছবিটি সোশ্যাল-মিডিয়ায়-ভাইরাল হওয়ার পর নেটিজেনদের কটাক্ষের মুখে পড়েছেন মন্ত্রী সুজিত বসু (Sujit Bose)।

রবিবার তাঁর এ হেন কাজের প্রতিবাদ জানান পশ্চিমবঙ্গ প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি সোমেন মিত্রর পুত্র রোহন মিত্র। নিজের টুইটার হ্যান্ডেলে তিনি লিখেছেন, “তৃণমূল বিধায়ক সুজিত বসু কী এই টুইটটি পড়তে পারবেন? সরকারি তালিকায় তাঁর যোগ্যতা একাদশ শ্রেণী পর্যন্ত। তবে রাজনৈতিক মহলের ‘গসিপ’ হল, তিনি অষ্টম শ্রেণীও পার করেননি। সুভাষ চক্রবর্তীর কাছে (বামফ্রন্টের মন্ত্রী প্রয়াত সিপিএম নেতা ) ফরমাস খাটতেন। তাঁর স্ত্রীর (রমলা চক্রবর্তী) পিঠে ছুরি মারতেও দ্বিধা করেননি তিনি। সত্যই ক্লাস আলাদা তাঁর।”
Can the original TMC MLA Sujit Bose even read this tweet??? Listed qualification is class 11, ‘gossip’ from close quarters is, he didn’t even sit for class 8, needs to thumb print, errand boy for Subhas Chakraborty, used the dagger on his wife, truly class apart #Bengal #Kolkata https://t.co/j3rc1Z5z2D
— Roahan Mitra (@rohansmitra) April 26, 2020
সামাজিক ও রাজনৈতিকভাবে সচেতন প্রদেশ যুব কংগ্রেসের সহ-সভাপতি রোহন মিত্র। নানা ইস্যুতে বিভিন্ন সময়ে সোশ্যাল মিডিয়াতে দেখা যায় তাঁকে। বিশেষ করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তৃণমূল কংগ্রেসের তীব্র সমালোচক হিসেবে পরিচিত এই যুবনেতা। নিজের টুইট প্রসঙ্গে রোহন মিত্র (Rohan Mitra) বলেছেন, “সারাদেশ করোনা মোকাবিলায় যোদ্ধাদের পাশে রয়েছে। এখন কৃতীত্ব কেনার সময় নয়। অথচ পিপিই কিটের পিছনে নিজের নাম দিয়ে বাংলার শাসক দলের নেতারা আত্মপ্রচার করে যাচ্ছেন। আমি সেই ঘটনার বিরুদ্ধে নিজের মতামত ব্যক্ত করেছি।”

এ কথা ঠিক করোনা নামক জীবাণুটি তার মারণ লীলা চালিয়ে যাবার সঙ্গে সঙ্গে আর একটি কাজও করেছে। সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষকে নগ্ন করে দিয়েছে। এই তালিকায় ওপর থেকে নিচুতলা কেউই বাকি নেই। তার মধ্যে নবতম সংযোজন সুজিত বসুক এই কীর্তি। অ্যাম্বুলেন্সের গায়ে সাংসদ বিধায়কের নাম সেঁটে দেওয়া এ দেশে দস্তুর। তা যতই জনগণের টাকায় কেনা হোক না কেন। তাই বলে পিপিই! বাজার মূল্য খুব বেশি হলে ৫০০ থেকে ৭০০ টাকা।
করোনাকালে দানের ধরনটাই হয়ে গেছে এমন। ২ কেজি চাল ৫০০ ডাল দিতে গিয়ে প্রচারের যে বহর দেখা চালানো হচ্ছে, সেই বহরে সুজিত একটু বাহার যোগ করেছেন মাত্র।
প্রশ্ন হল সুজিত প্রসঙ্গে এতগুলো কড়া শব্দ কেন ব্যবহার করলেন রোহন? রোহনের জবাব, এই ক্লাসকে যদি চোখে আঙুল দিয়ে দেখাতে হয় যে তুমি যা করছ তা ভুল, তা অসভ্যতা, তা হাস্যকর, তাহলে এই ভাষাতেই কথা বলতে হবে।”এই বিষয়ে সুজিত বসুকে ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
Channel Hindustan Channel Hindustan is Bengal’s popular online news portal which offers the latest news