দেবক বন্দ্যোপাধ্যায় 
শুক্রবারের সন্ধ্যা। কলকাতা জুড়ে, রাজ্য জুড়ে ‘ঝড় আসছে, ঝড় আসছে’ ভাব। ঠিক সেই সময়ে কংগ্রেসের রাজ্য দফতর বিধান ভবনে সবুজ চায়ে চুমুক দিয়ে সোমেন মিত্র শোনালেন অন্য ঝড়ের কথা বা বলা ভাল দিলেন অন্য ঝড়ের সংকেত।
এবারের নির্বাচন নিয়ে অনেকে অনেক কথা বলছেন। বিশেষ করে এই রাজ্যের লোকসভা নির্বাচন নিয়ে। একদিকে বিয়াল্লিশে বিয়াল্লিশের ঘোষণা। অন্যদিকে পর্যায়ক্রমে ভোটের ফলাফল বলে যাচ্ছেন মুকুল রায়।’
আপনার পর্যবেক্ষণ কি?
সময় নষ্ট না করেই বর্ষীয়ান নেতা বললেন, ‘এবার সাতাত্তর ফিরে আসবে পশ্চিমবঙ্গের বুকে।’
‘
কিরকম? সাতাত্তর কেন?’
সোমেন বললেন, ‘সাতাত্তরে আমরা টেম্পো ভর্তি করে লোক পাঠিয়ে ছিলাম ভোট দিতে। তারা সবাই আমাদের গাড়ি করে গিয়ে বামেদের ভোট দিয়ে এসে ছিল।’
সাতাত্তরে পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা ভোটে ২৯৪টি আসনের মধ্যে বামেরা পেয়েছিল ২৩১টি আসন। বিধানসভার এই ফলাফলকে লোকসভার নিরিখে বিচার করলে, লোকসভা প্রতি সাতটি বিধানসভা আসন ধরলে তেত্রিশটি লোকসভা আসন হয়।
সোমেন কি বলছেন ৩৩টি আসন এবার বিরোধীদের দখলে থাকবে? না। তেমন কোনও নির্দিষ্ট সংখ্যা বলছেন না সোমেন। বলছেন সাধারণ মানুষ এবার তৃণমূলকে ভোট দেবেন না। তৃণমূল যেখানে যতটুকু ভোট লুঠ করতে পারবে সেটাই তাদের ভোট।
একদা মমতা-মুকুল দুজনেরই নেতা সাতাত্তরের অনুষঙ্গ টেনে যা বোঝাচ্ছেন, তা হল, তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মী, প্রকাশ্য সমর্থক, এঁরাও এবারে তৃণমূলকে ভোট দেবেন না।
তৃণমূলে, আরও নির্দিষ্ট ভাবে বললে, মমতার রাজনৈতিক জীবনে ফণীর চেয়েও বড়, ফণীর চেয়েও মারাত্মক কোনও ঝড় আসছে বলেই মনে করছেন সোমেন।
ঝোড়ো হাওয়ার রাতে সেই ইঙ্গিতই দিলেন রাজনীতির অনেক উত্থান পতনের স্বাক্ষী সোমেন মিত্র।
Channel Hindustan Channel Hindustan is Bengal’s popular online news portal which offers the latest news
খুব ভাল খবর করেছ দেবক। সোমেনদার কথা টা অঙ্কে নয়, অঙ্কের সূত্রে মিলে যাবে। আসলে সাতাত্তরে লোকসভায় বিরোধী ভোটে কোনও বিভাজন ছিল না। বিধানসভায় ছিল। তিন পক্ষ। মূল বিরোধী দল হয়েছিল জনতা পার্টি। জনসংঘের বিষ্ণুকান্ত শাস্ত্রী, হরিপদ ভারতী ছিলেন । বিরোধী দলনেতা সম্ভবত হন কাশীকান্ত মৈত্র। আর কংগ্রেস মাত্র ২০পেয়েছিল। জয়নাল আবেদিন, আবদুস সাত
তার, সত্য বাপুলী জিতেছিল।
ওই পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি হওয়া কঠিন। সেটা ছিল আমার প্রথম ভোট।