চ্যানেল হিন্দুস্তান ব্যুরো।
“মহামারী সময়ও ভোট রাজনীতিতে ব্যস্ত রয়েছে বিজেপি ও তৃণমূল।” এমনটাই অভিযোগ করলেন পশ্চিমবঙ্গ প্রদেশ কংগ্রেসের সভাপতি সোমেন মিত্র (Somen Mitra)। বুধবার বিধান ভবনে আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনে প্রদেশ কংগ্রেস (Congress) সভাপতি বলেন, “কেন্দ্রের বিজেপি সরকার এবং রাজ্যের টিএমসি সরকারের করোনা অতিমারী এবং আমফান পরবর্তী সময়ে নগ্ন রাজনীতি সারা দেশের গরিব মানুষের খাদের কিনারায় নিয়ে এসেছে। দুই সরকারেরই পাখির চোখ এখন ২০২১ এর বিধানসভা নির্বাচন।” কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে আক্রমণ করে বলেছেন, “দেশের গৃহমন্ত্রী যখন মানুষকে আস্বস্ত করার চেষ্টা করবেন, তখন তিনি আগামী বিধানসভা নির্বাচনে এই রাজ্যে বিজেপির ক্ষমতায় আসার গল্প শোনাচ্ছেন। এদের দেশের মন্ত্রী হওয়ার যোগ্যতা আছে তো ?”
আক্রমণাত্মক সুরে সোমেন মিত্র বলেছেন, “দেশে যখন কোভিড ভাইরাস দোড়গোড়ায় তখন প্রধানমন্ত্রী ব্যস্ত ছিলেন মধ্যপ্রদেশের কংগ্রেস সরকার ভাঙতে আর আমাদের মুখ্যমন্ত্রী নবান্নে সাংবাদিক সম্মেলন এবং রাস্তায়-রাস্তায় গোল দাগ কেটে বেড়াচ্ছিলেন।” তিনি আরও বলেছেন, “অমিত শাহ বলেই দিলেন করোনা মোকাবেলায় ভারত আমেরিকার থেকে ভালো জায়গায় আছে। কিন্তু তিনি এটা বললেন না যে আমরা কত সংখ্যক টেস্ট করেছি আর আমেরিকা কত টেস্ট করেছে? এটাও বললেন না যে আমরা সংক্রমণের নিরিখে এখন বিশ্বে সাত নম্বরে আছি। খেলা শেষ হওয়ার আগেই তো নিজেরাই জয় ঘোষণা করে দিচ্ছেন।” কেন্দ্রীয় সরকারের পাশাপাশি, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) কোভিড মোকাবিলা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন এই বর্ষীয়ান কংগ্রেস নেতা। তিনি বলেন, “সারা দেশের মত, এ রাজ্যেও লক ডাউন থেকে বেরিয়ে আসার জন্য প্রথমে মদের দোকান খুলে দেওয়া হয়েছিল, এখন তো সামাজিক দূরত্বের কোন বালাই নেই। বাস , ট্যাক্সি , অটোতে যে ভাবে মানুষ গাদাগাদি করে যাচ্ছেন , তা দেখে শিউরে উঠছি।” সোমেন দাবি করেন, “গত ছয় মাস রাজ্য সরকার কোন সংবাদ মাধ্যমকে কত টাকার বিজ্ঞাপন দিয়েছেন সেটা মানুষকে জানানো হোক।”
পরিযায়ী শ্রমিক প্রসঙ্গে সোমেন মিত্র বলেছেন, “ভিন রাজ্য থেকে শ্রমিকদের ফিরিয়ে আনার কোন সঠিক পরিকল্পনা বা আন্তরিকতা কেন্দ্র বা রাজ্য সরকারের ছিল না। কংগ্রেস সভানেত্রী শ্রীমতি সনিয়া গাঁধী শ্রমিক স্পেশালের ভাড়া কংগ্রেস দিয়ে দেবে বলার পরেই দুই সরকারের টনক লড়েছিল।তাঁরা সর্বস্ব খুইয়ে বাড়ি ফিরে এসেছেন, তাই কংগ্রেস দাবি করেছে, তাঁদের ব্যাংকের খাতায় এখনই ১০০০০ টাকা এবং প্রতি মাসে ৭৫০০ টাকা অন্তত ৬ মাসের জন্য পাঠানো হোক।”
ঘূর্ণিঝড়ের দুর্যোগ সামাল দিতে ও যে রাজ্য সরকার পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছে সেই অভিযোগে সাংবাদিক সম্মেলনে করেছেন সোমেন মিত্র। অভিযোগের সুরে তিনি বলেছেন, “আমফানের দাপট যে পরিমান ছিল তা অভূতপূর্ব অথচ আবহাওয়া দপ্তর প্রায় ২ সপ্তাহ আগে থেকে সতর্ক করছিলেন। আমফানের ফলে চরম বিপর্যয় হবে জেনেও সরকারের প্রস্তুতি ছিল কি ?” তাঁর আরও আক্রমণ, “যে সরকারের গাছ কাটতে সেনাবাহিনী ডাকতে হয়, অন্য রাজ্য থেকে লোক এবং মেশিন আনতে হয় তবে সেই সরকারের উপর মানুষের আস্থা থাকবে কিভাবে ? তবে বিপর্জয় মোকাবিলার জন্য দপ্তর এবং মন্ত্রী রেখে লাভ কি?”
Channel Hindustan Channel Hindustan is Bengal’s popular online news portal which offers the latest news