পার্থসারথি পাণ্ডা : 
সারা দেশেই ভোলানাথের মন্দিরে মন্দিরে প্রতি সোমবার বিশেষ পুজো হয়। তারকনাথের তারকেশ্বরেও হয়। কেন হয়? এমন প্রশ্নে অনেককেই বলতে শুনি, ‘এ-দিনটা বাবার বার।’ আবার প্রশ্ন করি, এ-দিনটা ‘বাবার বার’ কেন? কারণ, শিবের শত ও সহস্র নামের মধ্যে এক নাম ‘সোম’। তাছাড়া, ‘সোম’-শব্দের অর্থ হল, ‘মহাদেব উমার সঙ্গে অবস্থান করছেন’। তাই সোমবারে মহাদেবের পুজো করলে যুগল পুজোর পুণ্য হয়। এ-দিন শিবের মাথায় জল ঢাললে একইসঙ্গে দেবী পার্বতীকেও অবগাহন করানোর পুণ্য সঞ্চিত হয়। তাই শ্রাবণ মাসের প্রতি সোমবার শিবের মাথায় জল ঢালতে বাংলার নানান প্রান্ত থেকে লক্ষ লক্ষ ভক্ত বাঁক কাঁধে তারকেশ্বরে ছুটে আসেন।

শিবরাত্রিব্রত উদযাপনের মধ্য দিয়েই এবার ফাল্গুন মাস শুরু হতে চলেছে। দিনটা পড়ছে, বুধবার। তাই অনেকেই চাইছেন রবিবার তারকেশ্বরে গিয়ে সোমবারের পুজো দিয়ে বুধবার শিবরাত্রির ব্রত সমাপন করে একেবারে ঘরে ফিরবেন। সমস্ত রাত্রি অশনে-শয়নে কৃচ্ছসাধনার পর বাবার মাথায় ভক্তিভরে একবার আকন্দ-ধুতরো-বেলপাতা দিতে পারলে তবেই মনে আসবে শান্তি, অন্তরে আসবে তৃপ্তি। তখন হবে ব্রতভঙ্গ।

যুগ যুগ ধরে এই ব্রতটি নানান পুরাণকথা ও লোকবিশ্বাসে ভর করে নারীর দাম্পত্য জীবনে প্রবেশ এবং সেই দাম্পত্য জীবন যাপনে নানান ইচ্ছেপূরণের অবলম্বণ হয়ে উঠেছে। পুরাণ বলেন, এই শিবরাত্রির দিনই নাকি অনেক সাধনার পর মহাদেব পার্বতীর মনস্কামনা পূর্ণ করেছিলেন। তাঁকে বিয়ে করেছিলেন। তাই শিবের মতো প্রেমিক, শিবের মতো গুণসম্পন্ন একজন বরের কামনায় উমার মতোই এই ব্রত পালন করেন কুমারীরা।

অনেকের মতে, শিব এদিন রাতেই নাকি সমুদ্রমন্থনজাত বিষ কন্ঠে ধারণ করে নীলকন্ঠ হয়েছিলেন। এই ঘটনাটি ভক্তের চোখে আসলে দেবাদিদেব মহাদেব যেভাবে সংসারের অভাব-অসুখ-দাম্পত্য কলহ-অশান্তিরূপ গরল হরণ করে হরহর মহাদেব হয়ে ওঠেন, তারই কাহিনী। তাই বিবাহিতা নারীরা স্বামী-সংসারের মঙ্গল কামনায় এই ব্রত পালন করেন। নীলকন্ঠের কন্ঠে নীল অপরাজিতার মালা পরিয়ে দিয়ে উচ্চারণ করেন সেই আদি পঞ্চাক্ষর মন্ত্র, ‘নমঃ শিবায়’।
বিভিন্ন বিষয়ে ভিডিয়ো পেতে চ্যানেল হিন্দুস্তানের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন
https://www.youtube.com/channelhindustan
https://www.facebook.com/channelhindustan
Channel Hindustan Channel Hindustan is Bengal’s popular online news portal which offers the latest news