চ্যানেল হিন্দুস্তান ব্যুরো।
ক্ষোভ ঝরে পড়ছিল ইন্দর মোহন ভাল্লার গলা থেকে। ৭৫ বছরের এই প্রবীন ভদ্রলোক অল ইন্ডিয়া সিনিয়ার সিটিজেন কনফেডারেশনের সভাপতি। বলছিলেন দেশের স্বার্থে লক ডাউন জরুরি কিন্তু এর ফলে প্রবীন নাগরিকরা যে কতটা অসুবিধায় পড়েছে তা বলার নয়। তিনি নিজে হায়দ্রাবাদে ছেলের সঙ্গে থাকেন। গাড়ি আছে। কিন্তু দেশের সমস্ত বয়স্ক নাগরিকরা এই সুবিধা থেকে বঞ্চিত।
তাঁদের কী হবে ?
কে তাঁদের খাবার ব্যবস্থা করবে আর কেই বা জরুরী প্রয়োজনে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেবে। যাঁরা অত্যন্ত বয়স্ক তাঁদের কাছে ওষুধ পৌঁছে দেবে কে ? কোভিড-১৯-এর (Covid-19) বিরুদ্ধে সারা দেশ এক হয়ে লড়ছে কিন্তু এটা তো ঠিক যে কিছু মানুষের ক্ষেত্রে বিপদটা বেশি। বৃদ্ধ মানুষদের বিপদ বেশি বলে ইতালিতে মৃত্যুহার এত বেশি। অথচ এঁদের কথা ভাবার লোকই পাওয়া যাচ্ছে না।এই অভিযোগ শুধু মোহন ভাল্লার নয়। আরও অনেকেরই। সোস্যাল ডিসট্যান্সি যে বৃদ্ধদের মানসিক উৎকন্ঠা বাড়িয়ে দিচ্ছে সেই বিষয়েও সন্দেহ নেই। কারণ দেশের বহু প্রবীন মানুষ থাকেন সম্পূর্ণ একা। উত্তরপ্রদেশ বিহারে এই ছবিটা খুব সাধারণ ব্যাপার। বাড়ির ছেলেরা যান অন্য রাজ্যে রোজগার করতে। আর বৃদ্ধরা একা থাকেন। অধিকাংশই এই সময়ে বাড়ি ফিরে এলেও অনেকে আসতে পারেন নি। সমস্যা রয়েছে আরও। দেশের ৯ শতাংশ মানুষ প্রবীন। এর মধ্যে ৫৩ কোটি মানুষ বাস করেন দারিদ্র্যসীমার নীচে। এঁদের কী হবে সেই প্রশ্নও উঠছে বারবার। অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন দারিদ্র্য সীমার নীচে থাকা মানুষ এবং বিধবাদের জন্য ১০০০ টাকা ধার্য করেছেন কিন্তু সেটাই কি যথেষ্ট ?
কত তাড়াতাড়ি এই কাজ করা যাবে সেই প্রশ্ন তো থাকছেই। কেরালাতে ১২.৬ শতাংশ বয়স্ক মানুষ রয়েছেন। এঁদের জন্য কমিউনিটি কিচেন খোলা হয়েছে। কিন্তু টাকা কম পড়ছে এই বিশাল কর্মযজ্ঞ চালাতে। এইখানেও দ্রুত টাকার ব্যবস্থা করা দরকার। পশ্চিমবঙ্গে থানা এবং কিছু স্বেচ্ছাসেবক সংস্থা প্রবীনদের আশ্বস্ত করেছেন বটে, কিন্তু সারা রাজ্যজুড়ে এই কাজ হচ্ছে এমনটা বলা যায় না। বরং অভিযোগ যে এমন বিপদের দিনে অধিকাংশ জনপ্রতিনিধির কোনও পাত্তা পাওয়া যাচ্ছে না।
Channel Hindustan Channel Hindustan is Bengal’s popular online news portal which offers the latest news