Breaking News
Home / TRENDING / দুর্গাপুজোর শুরু কর্ণাটকে, তিনি হিন্দু জাগরণের দেবী

দুর্গাপুজোর শুরু কর্ণাটকে, তিনি হিন্দু জাগরণের দেবী

 সৌগত রায়বর্মন

বঙ্গদেশে ঠিক কবে দুর্গাপুজো শুরু হল, তা নিয়ে নানা মত আছে। কেউ কেউ মনে করেন ১৫০০ সালের শেষভাগে এই পুজো প্রথম ‘‌শারদীয়া’‌ শিরোনামে পূজিত হয় মালদহ ও দিনাজপুর জমিদারিতে। দ্বিতীয় মত বলছে, না তা নয়, নদীয়ার জমিদার রাজা কংস নারায়ণ দেবী পুজোর আয়োজন করেন। তৃতীয় মত বলছে ঠিক তাও নয়, তাহেরপুরের জমিদার রাজা ভবানন্দ মজুমদার শারদীয়া দুর্গোৎসব করে তাক লাগিয়ে দিয়েছিল প্রজাদের। সেই সময়ে প্রায় ১২ লক্ষ টাকা খরচ হয়েছিল। সময় হিসেব করলে সেটা ১৬০৬ খ্রীষ্টাব্দ।

১৬০৬ সালটাকেই দুর্গাপুজোর মাইলস্টোন হিসেবে মান্যতা দেওয়া হয়েছে। ইতিহাস যত পুরনো হয় তত তার ধার কমে যায়। তবে প্রথম পুজোর ইতিহাসটা মোটামুটি পাওয়া গেল। যদিও মতান্তর আছে। ইতিহাস মানেই মতান্তর, ধ্রূব বলে কিছু নেই। এখন প্রশ্ন উঠতে পারে, বারোয়ারি পুজো বা সার্বজনীন পুজোটা ঠিক কবে থেকে শুরু হল। ইতিহাস মতে হুগলির গুপ্তি পাড়ায় বারো–ইয়ার স্রেফ মজা করার জন্য চাঁদা তুলে পুজো করবেন বলে ঠিক করলেন। শুরু হল পুজোর আরেক অধ্যায় ‘‌বারোয়ারি’‌। ইতিহাসে এই সময়টা খুব গুরুত্বপূর্ণ। সেটা ১৭৯০ সাল। প্রথম পুজোতেই হই হই ব্যাপার। এতদিন পুজো ছিল জমিদার বা রাজাদের নাটমন্দিরের বিষয়। প্রজারা ঠাকুর দেখতে আসতেন বটে, কিন্তু প্রতক্ষ্যভাবে অংশগ্রহণ করতেন না। অর্থাৎ পুজো করে মন ভরত না। বারোয়ারি পুজোয় সেই গণ্ডি ভেঙে গেল। আনন্দোৎসব আরও জমে গেল। এবার স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠতে পারে কলকাতায় এই বারোয়ারি পুজো কবে থেকে শুরু হল?‌

১৮৩২ সালে কাশিমবাজার রাজবাড়িতে রাজা হরিনাথ মহা ধুমধামে পুজো পালন করেন। তবে সেটা বারোয়ারি হয়ত নয়। রাজবাড়িতে আবার রাজ অনুগ্রহ ছাড়া পুজো হবে কী করে?‌ পরে ১৮২৪ থেকে ১৮৩১-এ রাজার দেশের বাড়ি মুর্শিদাবাদে বারোয়ারি পুজোর আয়োজন করা হয়। তবে ‘‌বাগবাজারেই প্রথম ধর্মশাহী সভার পত্তন হয়।’ এবং সত্যিকারের নিয়মতান্ত্রিক পুজো শুরু হয়। পরে ধীরে ধীরে তা পাব্লিক পুজো হিসেবে সারা কলকাতাতে ছড়ায়। ‌‌ইদানিং যাকে থিম পুজো বলা হয়। হিন্দু জাগরণের উদ্দেশে যে পুজো শুরু হয়েছিল তা ক্রমে ক্রমে সর্বধর্ম সমন্বয়ের পুজো হিসেবে প্রতিষ্ঠা পায়।

একটা কথা না বললেই নয়, দুর্গাপুজো কিন্তু শুরু হয় কর্ণাটকের বিজয়নগরে। মুসলমান আগ্রাসনের বিরুদ্ধে একমাত্র বিজয়নগর বিজয়গর্বে টিকে ছিল সেকালে। হয়ত সে কারণেই হিন্দুদের কাছে দেবীদুর্গার এত কদর। মহিষাসুরমর্দিনীকে আসলে তৎকালীন বিধর্মী রাজশক্তির বিরূদ্ধে হিন্দু জাগরণ হিসেবেই দেখা হত।

Spread the love

Check Also

Big Breaking: হুমায়ুনকে ওয়েসির ‘ফিলার,’ কী উত্তর দিলেন তৃণমূলের বিধায়ক

দেবক বন্দ্যোপাধ্যায় হুমায়ুনকে ওয়েসির ফোন! দল তাঁকে শো-কজ করেছে। তিনি সেই শো-কজের উত্তরও দিয়েছেন। তাতেও …

রাহুলের পাইলট প্রোজেক্ট, মুর্শিদাবাদ কংগ্রেসে আধিপত্য হারাতে পারেন অধীর

দেবক বন্দ্যোপাধ্যায় পশ্চিমবঙ্গ নিয়ে রাহুল গান্ধির নতুন উদ্যোগে মুর্শিদাবাদের কংগ্রেস রাজনীতিতে খর্ব হতে পারে অধীর …

আমি আসছি! নাম না করে শুভেন্দুকে শাসালেন আনিসুর

চ্যানেল হিন্দুস্থান, নিউজ ডেস্ক: নাম না করে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারিকে শাসালেন আনিসুর রহমান। একদা …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *