নীল রায় :
সতীর্থ খুনের ঘটনায় তৃণমূল বিধায়কদের প্রশ্নের মুখে পড়ে গেলেন বিদ্যুৎ দফতরের কর্তারা। শুক্রবার পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় বিদ্যুৎ দফতরের স্ট্যান্ডিং কমিটির বৈঠক বসেছিল। কমিটির চেয়ারম্যান আমতার কংগ্রেস বিধায়ক অসিত মিত্রের নেতৃত্বে শুরু হয় এই বৈঠক। বৈঠকে যেমন অংশ নিয়েছিলেন স্ট্যান্ডিং কমিটির সদস্য বিধায়করা। তেমনই যোগ দিতে এসেছিলেন বিদ্যুৎ দফতরে বেশকিছু আধিকারিক। প্রায় দুই ঘণ্টা চলা এই বৈঠকে “পাওয়ার কাট” নিয়ে আলোচনা হচ্ছিল। সূত্রের খবর, আলোচনা চলাকালীন মেটিয়াবুরুজের তৃণমূল বিধায়ক আব্দুল খালেক মোল্লা বিদ্যুৎ দফতরের আধিকারিকদের উদ্দেশ্যে প্রশ্ন করেন, “১১ বার পাওয়ার কাটের কারণে আমরা আমাদের একজন সদস্যকে হারিয়েছি। তরতাজা একজন যুবক খুন হয়ে গেল। কেন এমনটা হল তা আপনাদের দেখা উচিত?” বিদ্যুৎ দপ্তরের এক কর্তা উত্তর দেন, ঘটনার তদন্ত করা হচ্ছে। আব্দুল খালেক মোল্লার সমর্থনে মুখ খোলেন বৈঠকে হাজির কেশপুরের বিধায়ক শিউলি সাহা। সূত্রের খবর বৈঠকে তিনি বলেন, “ওইদিন কি করে এতবার “পাওয়ার কাট” হল? আর সেই সুযোগে সত্যজিৎ বিশ্বাসের মতো ছেলে খুন হয়ে গেল। এটা মেনে নেওয়া যাচ্ছে না। আমরা জানি ঘটনার তদন্ত চলছে। সত্য প্রকাশ পাবেই। কিন্তু ১১ বার কেন বিদ্যুৎ গিয়েছিল। তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে নানা মহলে।”
প্রসঙ্গত, গত শনিবার সন্ধ্যায় নিজের বাড়ির কাছের এক সরস্বতী পুজোর উদ্বোধনে গিয়ে খুন হন কৃষ্ণগঞ্জ তৃণমূল বিধায়ক সত্যজিৎ বিশ্বাস। অভিযোগ ওঠে ঘটনার আগে ১১ বার বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়েছিল। যার সুযোগে খুব কাছ থেকে আততায়ী গুলি করে হত্যা করে সত্যজিৎকে। দিনের বৈঠক প্রসঙ্গে স্ট্যান্ডিং কমিটির চেয়ারম্যান অসিত মিত্র বলেন, “সত্যজিতের মত অল্প বয়সী ছেলের মৃত্যুর ঘটনা খুব দুঃখজনক। চেয়ারম্যান হিসেবে আমি প্রকাশ্যে কিছু বলতে পারি না ঠিকই। কিন্তু এমন সংবেদনশীল বিষয় নিয়ে বিধায়করা যখন প্রশ্ন তুলেছেন, তখন চেয়ারম্যান হিসেবে আমাকে তা গ্রাহ্য করতে হয়েছে।” এমন প্রশ্ন যে তারা বিদ্যুৎ দপ্তর আধিকারিকদের করেছেন, তা স্বীকার করে নিয়েছেন বিধায়ক শিউলি সাহা ও আব্দুল খালেক মোল্লা উভয়ই।
ঘটনাচক্রে বিধানসভার বিদ্যুৎ স্ট্যান্ডিং কমিটিরই সদস্য ছিলেন সত্যজিৎ বিশ্বাস। এ প্রসঙ্গে বিদ্যুৎমন্ত্রী শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় বলেন, “আমি ঘটনার প্রাথমিক একটি রিপোর্ট পেয়েছি। ১১ আর নয়, সেদিন বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়েছিল ৯ বার। যে ফিডার বক্স থেকে ওই এলাকার বিদ্যুৎ সংযোগ চলত তা চূর্ণী নদীর ওপারে বলেই রিপোর্টে উল্লেখ রয়েছে।” তিনি আরও বলেন, “আমি জেনেছি সেদিন প্রত্যেকবার দুই থেকে আড়াই মিনিট করে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হচ্ছিল। শেষ বার ৪ মিনিটের জন্য যখন বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়, তখনই ঘটনাটি ঘটে। প্রাথমিক রিপোর্টে আমি একেবারেই সন্তুষ্ট নয়। কারণ রাজ্যজুড়ে সরস্বতী পূজোর উৎসব। আর বারবার বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হবে। এটা কোন কাজের কথা নয়। আমি ঘটনার বিস্তারিত রিপোর্ট চেয়ে পাঠিয়েছি। রিপোর্ট হাতে পেলেই বিধানসভার স্ট্যান্ডিং কমিটির কাছে তা পাঠানো হবে।”
Channel Hindustan Channel Hindustan is Bengal’s popular online news portal which offers the latest news