নীল রায়:
মাধ্যমিক পরীক্ষায় বার বার প্রশ্নপত্র ফাঁস হওয়ায় প্রশ্নের মুখে শিক্ষামন্ত্রীর ভূমিকা। চলতি মাধ্যমিক পরীক্ষায় বাংলা ও ইংরেজি প্রশ্ন সোশ্যাল মিডিয়ায় ফাঁস হওয়ার পর, শুক্রবারও ইতিহাসের প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়। রাজনৈতিকদলগুলি মাধ্যমিক পরীক্ষায় এমন ঘটনাকে শিক্ষামন্ত্রী “হ্যাট্রিক” বলে কটাক্ষ করছেন। কিন্তু ইংরেজি পরীক্ষার দিন প্রশ্নপত্র ফাঁস হওয়ার অভিযোগ উড়িয়ে শিক্ষামন্ত্রী। যাবতীয় ঘটনার দায় চাপিয়ে দেন সংবাদমাধ্যমের ওপর। তিনি বলেন, “রাজ্যের শিক্ষা ব্যবস্থাকে কলুষিত করতে চাইছে সংবাদমাধ্যম।”
পার্থ চট্টোপাধ্যায় শিক্ষামন্ত্রী থাকাকালীনই রাজ্য শিক্ষাব্যবস্থার মান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে বারবার। প্রাথমিক শিক্ষা, স্কুল শিক্ষা কিংবা উচ্চশিক্ষা সবেতেই শিক্ষা দপ্তরের ব্যর্থতা
চোখে পড়েছে। পরিবর্তনের জমানার প্রথম শিক্ষামন্ত্রী ছিলেন নাট্যকার ব্রাত্য বসু। শিক্ষা দপ্তরকে ঠিকঠাকভাবে সামাল দিচ্ছিলেন সুশীল সমাজের এই প্রতিনিধি। ২০১৩ সালে আচমকাই তাকে পর্যটন দফতরে পাঠিয়ে শিক্ষা দপ্তরের দায়িত্ব দেওয়া হয় তৃণমূলের মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায়কে। শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় জমানাতেই শিক্ষাক্ষেত্রে ঘটেছে একের পর এক নজিরবিহীন ঘটনা। কলেজে অর্থের বিনিময় ছাত্রছাত্রীদের ভর্তি, কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে থেকে ছাত্র সংসদ ভোট পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাওয়া, শিক্ষক তথা অধ্যাপক-অধ্যাপিকাদের হেনস্থা হওয়ার ঘটনা, এসএসসি নিয়োগ দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকা, টেট পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস, শিক্ষা প্রশাসনের একাধিক পদ থেকে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের ইস্তফা, গ্রামীণ স্কুলগুলিতে শিক্ষকের অপ্রতুলতার মতো অভিযোগে জেরবার শিক্ষা দপ্তর। এমনই সব কান্ড কারখানা নিয়ে কার্যত ধুঁকছে শিক্ষাব্যবস্থা। কিন্তু মুখ্যমন্ত্রীর হাত মাথায় থাকায় বহাল তবিয়তেই শিক্ষা দপ্তরের রাজ করছেন পার্থ।
২০১১ সালের ২০ মে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার শপথ নেওয়ার পর পার্থকে শিল্পমন্ত্রী করা হয়েছিল। সঙ্গে দেওয়া হয়েছিল রাজ্যের তথ্য প্রযুক্তি ও পরিষদীয় মন্ত্রীর ভার। ২০১২ সালে শিল্প ও তথ্য প্রযুক্তি দপ্তর পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের থেকে কেড়ে নেন মমতা। অর্থমন্ত্রী অমিত মিত্রকে দেওয়া হয় তার দুই দপ্তর। সেই সময় প্রায় মাস ছয়েক কেবল পরিষদীয় মন্ত্রী ছিলেন পার্থ। কিন্তু ভাগ্যের চাকা ঘুরতে বেশি সময় লাগেনি। ব্রাত্য বসুকে পর্যটন দফতরে পাঠিয়ে বর্ষীয়ান পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের হাতে শিক্ষার দেখভালের দায়িত্ব দেন মুখ্যমন্ত্রী।
গত পাঁচ বছরের সময়কালে পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের শিক্ষা প্রশাসন পরিচালনা নিয়ে বারবার প্রশ্ন উঠেছে। এ প্রসঙ্গে উত্তর দমদম সিপিএম বিধায়ক ভট্টাচার্য বলেন, “পাচ্ছে শিক্ষা ব্যবস্থা দেখার পর যখন পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের হাতে রয়েছে তখন মাধ্যমিকের প্রশ্নপত্র ফাঁস হওয়ার দায় তাকেই নিতে হবে। যারা প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ তো তাদের কেন গ্রেফতার করা হচ্ছে না। তা দেখাও তো একদিন শিক্ষামন্ত্রীর কাজ।” কংগ্রেসের পক্ষ থেকে বহরমপুরের বিধায়ক মনোজ চক্রবর্তী বলেন, “পরপর তিনদিন প্রশ্নপত্র ফাঁস হল। অথচ রাজ্য প্রশাসন এখনো এই ঘটনায় কোনো পদক্ষেপ নিতে পারিনি। কামনা অবশ্যই ব্যর্থ। তার সঙ্গে গোটা রাজ্য প্রশাসনের কথাও বলতে হবে। কারণ শিক্ষা দপ্তর ধারাবাহিকভাবে ব্যর্থ হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে রাজ্য প্রশাসনের কড়া পদক্ষেপ নেয়া উচিত।”
Channel Hindustan Channel Hindustan is Bengal’s popular online news portal which offers the latest news