Breaking News
Home / TRENDING / বাংলার সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে মাথা তুলে দাঁড়িয়েছিলেন সোমেন, স্মৃতিকথায় আমজাদ আলী

বাংলার সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে মাথা তুলে দাঁড়িয়েছিলেন সোমেন, স্মৃতিকথায় আমজাদ আলী

সরদার আমজাদ আলী:

 

 

 

সোমেন নেই।

নিত্য প্রবাহমান পৃথিবীতে অনিত্য জীবনের হঠাৎ বার্তা দৈনন্দিন রোজনামচার কিছু ওলট-পালট করে দেয় কারণ স্থিতিশীলতার আবরণ থেকে বেরিয়ে এসে যে ব্যতিক্রমী নির্ঘণ্ট এর সামনে এসে দাঁড়াতে হয়, তা আমাদের বোঝ শক্তিকে একটা আঘাত করে।

আজ সকালের তেমনই এক অপ্রত্যাশিত আঘাত বাংলার রাজনীতির প্রবাদপুরুষ সোমেন মিত্রর জীবনাবসান। বাংলার রাজনীতির সোমেন মিত্রর উত্থান অবশ্যই কারও অনুগ্রহ নির্ভর ছিল না। ষাটের দশকের শেষে রাজ্যের রাজনৈতিক নৈরাজ্যের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে প্রিয় সোমেনের বলিষ্ঠ নেতৃত্বে বাংলার তরুণ সমাজকে যদি এক আদর্শবাদী সংগ্রামে উদ্বুদ্ধ না করতে পারত। তাহলে বাংলার অশান্ত এবং বিভ্রান্ত রাজনীতি শেষে শান্তি, সুস্থিতি এবং সুষ্ঠ গণতান্ত্রিক পরিবেশ ফিরে আসতে আরও বহু রক্তাক্ত এবং ধ্বংসাত্মক পথ পার হতে বাধ্য হতে হত অসহায় এবং আতঙ্ক জর্জর জাতিকে। আমহার্স্ট স্ট্রিটের নিভৃত কক্ষের সৈনিক সোমেন সেদিন সারা বাংলার সন্ত্রাসকে মোকাবিলা করেছেন এক স্থির লক্ষ্যে রাজ্যের মানুষের নিরাপত্তা, জীবন, ধন, মান, সম্পত্তি সুনিশ্চিত করতে।

নকশাল অধ্যুষিত গ্রাম বাংলার বিপথগামী যুব সম্প্রদায় ছাত্র সমাজের সংগঠন গড়ে তোলার দক্ষ সংগঠক বাংলার যুব ছাত্র সমাজের কাছে সঠিক বার্তা দিতে পেরেছিলেন। ধ্বংস নয় গঠনের ঐকান্তিক স্পৃহাই ব্যক্তি এবং সমষ্টি জীবনের একমাত্র উপাদান যা শান্তি সৃষ্টি এবং ব্যক্তি তথা সমাজ জীবনের চরৈবৈটির মূলমন্ত্র।

ব্যক্তি জীবনে সোমেন আমার ঘনিষ্ঠ বন্ধু হলেও রাজনৈতিক সতীর্থ হিসেবে তাঁকে আমি সবসময়ই নায়কের ভূমিকাই দেখেছি। তার কারণ হচ্ছে সংগঠন গড়ে তোলার দক্ষতা, ধৈর্য্য এবং সামঞ্জস্য মনস্কতার সোমেন বিবদমান গোষ্ঠীর কাছে জনপ্রিয় ছিল। অসহায় মানুষের কাছে সোমেন তবু ছোটদা নয়, তাঁদের কাছে দয়ার অবতার।

বাহাত্তরের নির্বাচনে শিয়ালদহ কেন্দ্রে কংগ্রেস প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতার সময় তাঁর সঙ্গে কেন্দ্রের একটি গৃহস্থ বাড়িও বাদ যায়নি, যেখানে সোমেনের সঙ্গে আমি ভোট প্রার্থনা করতে যায়নি। এক রাজনৈতিক সংগঠক, মানবতাবাদী, সজ্জন এবং দেশভক্ত সোমেন আজ নেই। কবির কথায় বলতে হয়,

“এ অনন্ত চরাচরে স্বর্গমর্ত ছেয়ে 

সবচেয়ে পুরাতন কথা 

সবচেয়ে গভীর ক্রন্দন

যেতে নাহি দিব 

তবু হায় তবু যেতে দিতে হয় 

তবু চলে যায়।” 

সোমেন তুমি আমাদের জীবনকে আচ্ছাদিত করে রেখো। শান্তিতে ঘুমাও বন্ধু।। 

 

লেখকঃ বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ

Spread the love

Check Also

Big Breaking: হুমায়ুনকে ওয়েসির ‘ফিলার,’ কী উত্তর দিলেন তৃণমূলের বিধায়ক

দেবক বন্দ্যোপাধ্যায় হুমায়ুনকে ওয়েসির ফোন! দল তাঁকে শো-কজ করেছে। তিনি সেই শো-কজের উত্তরও দিয়েছেন। তাতেও …

রাহুলের পাইলট প্রোজেক্ট, মুর্শিদাবাদ কংগ্রেসে আধিপত্য হারাতে পারেন অধীর

দেবক বন্দ্যোপাধ্যায় পশ্চিমবঙ্গ নিয়ে রাহুল গান্ধির নতুন উদ্যোগে মুর্শিদাবাদের কংগ্রেস রাজনীতিতে খর্ব হতে পারে অধীর …

আমি আসছি! নাম না করে শুভেন্দুকে শাসালেন আনিসুর

চ্যানেল হিন্দুস্থান, নিউজ ডেস্ক: নাম না করে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারিকে শাসালেন আনিসুর রহমান। একদা …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *