নীল রায়।
সব্যসাচী দত্তর বিজেপিতে যোগদান নিয়ে ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য করলেন বিজেপি নেতা মুকুল রায়। শুক্রবার দুপুরে আচমকাই বিধানসভায় আসেন তিনি। বিধানসভায় বিজেপি বিধায়কদের জন্য বরাদ্দ ঘরে যান তিনি। সেখানে বসেই উপস্থিত সংবাদমাধ্যমের প্রায় সব প্রশ্নের উত্তর দেন মুকুল। সব্যসাচী দত্তের বিজেপিতে যোগদান নিয়ে প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, “সব্যসাচী তো ভালোই আছে। এই তো গণেশ পুজো করবে। তারপর কালীপুজো করবে। আমিও যাব।” তাহলে কী সব্যসাচী কালীপুজোর পর গেরুয়া শিবিরে যোগদান করবেন। এমন প্রশ্নের উত্তরে মুচকি হেসেছেন মুকুল।
তৃণমূল শিবিরের কাছে খবর ২ বা ৩ সেপ্টেম্বর বিধাননগরে সব্যসাচী দত্তের গণেশ পুজোর উদ্বোধন করতে পারেন কেন্দ্রীয় বিজেপির সাধারন সম্পাদক তথা পশ্চিমবঙ্গের পর্যবেক্ষক কৈলাশ বিজয়বর্গীয়। এরপর শারোদৎসব পর্ব কেটে গেলে সল্টলেকের প্রাক্তন মেয়র আয়োজন করবেন কালীপুজোর। সেই পুজোর উদ্বোধনে আসতে পারেন বিজেপি সভাপতি তথা কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। আর রাজ্যের উৎসবের মরসুম শেষে বিজেপিতে যোগ দেবেন তিনি। এমনিতেই দুর্গাপুজোর দখলদারি নিয়ে কলকাতায় একাধিক টানাপোড়েনের ঘটনা ঘটেছে তৃণমূল-বিজেপির মধ্যে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই প্রশাসনিক ক্ষমতাবলে বেশকিছু পুজোর রাশ বিজেপির থেকে কেড়ে নিয়েছে তৃণমূল। কিন্তু, সব্যসাচী দত্ত এমন একজন বিক্ষুব্ধ তৃণমূল নেতা, যার ওপর দলের কোনও নিয়ন্ত্রণ নেই। তিনি নিজের গণেশ ও কালীপুজোয় তৃণমূলকে তো ঘেঁষতে দেবেনই না। বরং তাঁর পুজোয় মুকুল রায় সহ বিজেপি নেতাদের এনে অস্বস্তি বাড়াবেন তৃণমূল নেতৃত্বের।
কারণ, বিধাননগরের মেয়র পদ থেকে তাঁকে সরানো হলেও, দল থেকে এখনও বহিস্কার হননি তিনি। সেই সুযোগই কাজে লাগিয়ে তৃণমূল নেতৃত্বের অস্বস্তি তৈরি করাই লক্ষ্য সব্যসাচীর। তাই মুকুল রায়ের করা মন্তব্যকে যথেষ্ট ইঙ্গিতপূর্ণ বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল। মনে করা হচ্ছে, বাঙালির উৎসব মরসুম শেষ হলেই হাতে গেরুয়া ঝান্ডা তুলে নেবেন রাজারহাট নিউটাউনের বিধায়ক।
Channel Hindustan Channel Hindustan is Bengal’s popular online news portal which offers the latest news