নীল রায:
সোনা-কাণ্ডে যুব তৃণমূল সভাপতি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্ত্রীকে শুল্ক দফতরে হাজিরার নির্দেশ দিল কলকাতা হাইকোর্ট।
বৃহস্পতিবার এমনই নির্দেশ জারি করে উচ্চ আদালত। দমদম বিমানবন্দরের ঘটনার জেরে ২৬ মার্চ অভিষেকের স্ত্রীকে সমন পাঠায় শুল্ক দফতর। তাঁকে ৮ এপ্রিলের মধ্যে হাজিরা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। কিন্তু শুল্ক দফতরের সমনকে চ্যালেঞ্জ করে অভিষেক-পত্নী হাইকোর্টে মামলা দায়ের করেন। বৃহস্পতিবার সেই মামলারই শুনানিতে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্ত্রীর আবেদন খারিজ করে হাইকোর্ট। আদালত নির্দেশ দেয়, রুজিরা নরুলা বন্দ্যোপাধ্যায়কে শুল্ক দফতরে হাজিরা দিতে হবেই। সেই সঙ্গে দু সপ্তাহের মধ্যে হলফনামা পেশ করে শুল্ক দফতরকে হাইকোর্টে তাদের অভিযোগ ও তদন্তের বিষয় বিস্তারিত জানাতে হবে। হলফনামা পেশ হওয়ার এক সপ্তাহের মধ্যে এভিডেভিট জমা দিতে হবে অভিষেকের স্ত্রীকেও। চার সপ্তাহ পরে ফের মামলার শুনানি হবে বলে জানিয়েছে হাইকোর্ট। অতএব, এবার হাইকোর্টের নির্দেশে অনুসারে ৮ এপ্রিল শুল্ক দফতরের জয়েন্ট কমিশনারের দফতরে হাজিরা দিতেই হবে রুজিরাকে। তবে এখনই তাঁর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে পারবে না শুল্ক দফতর। গ্রেফতারও করা যাবে না মুখ্যমন্ত্রীর ভাইপোর স্ত্রীকে।
উল্লেখ্য, শুল্ক দফতর রুজিরা নরুলা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পারসন অব ইন্ডিয়ান অরিজিন (পিআইও) কার্ড নিয়ে প্রশ্ন তোলে। কয়েকদিন আগেই বিষয়টি নিয়ে শোকজ নোটিশ পাঠানো হয়েছিল রুজিরা নরুলাকে। গত ২৯ মার্চ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের উপসচিব মনোজ কুমার ঝা রুজিরা নারুলার কালীঘাটের হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিটের ঠিকানায় ওই নোটিস পাঠান। ওই নোটিসে বলা হয়, ২০১০ সালের ৮ জানুয়ারি ব্যঙ্ককের ভারতীয় দূতাবাস রুজিরা নারুলাকে পারসন অব ইন্ডিয়ান অরিজিন (পিআইও) কার্ড দেয়। ওই কার্ডের জন্য রুজিরার করা সেই আবেদনে তাঁর বাবার নাম দেওয়া ছিল নিফন নারুলা। কিন্তু ওই নোটিসে বলা হয়েছে, ২০১৭ সালে রুজিরা কলকাতার এফআরআরও অফিসে পিআইও কার্ড পরিবর্তন করে ওভারসিজ সিটিজেন অব ইন্ডিয়া (ওসিআই) স্ট্যাটাসের জন্য আবেদন করেন। সেই আবেদন মঞ্জুর করা হয়। সেখানে তিনি আবেদনের স্বপক্ষে ৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৩ সালে হিন্দু ম্যারেজ অ্যাক্ট অনুযায়ী তাঁর বিয়ের রেজিস্ট্রেশন (নথিভুক্তিকরণ) নথি জমা দেন। ওই নোটিস অনুযায়ী, সেই নথিতে রুজিরার বাবার নাম গুরশরণ সিংহ আহুজা। ঠিকানা দেওয়া হয়েছে দিল্লির রাজৌরি গার্ডেনের।
নোটিসে বলা হয়েছে, নিজের তাইল্যান্ডের নাগরিকত্বের পরিচয় গোপন করে রুজিরা ২০০৯ সালের ১৪ নভেম্বর প্যান কার্ডের জন্য আবেদন করেন। সেখানেও তিনি বাবার নাম দিয়েছিলেন গুরশরণ সিংহ আহুজা। প্রসঙ্গত, নিয়ম অনুযায়ী তাইল্যান্ডের নাগরিক হিসাবে প্যান কার্ডের জন্য ৪৯এএ ফর্মে আবেদন করার কথা। কিন্তু রুজিরা সেই নিয়ম না মেনে ভারতীয় নাগরিক হিসাবে ৪৯এ ফর্মে আবেদন করেছেন। এটাকেও তথ্য গোপন হিসাবে দেখছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক। নোটিসে জানানো হয়েছে, রুজিরার দেওয়া ভুল তথ্য এবং তথ্য গোপন করার জন্য ভারতীয় নাগরিকত্ব আইন (১৯৫৫)-এর ৭ ডি ধারায় এ এবং ই উপধারায় তাঁর সমস্ত নথি বাতিল করা যেতে পারে। এই ঘটনার সঙ্গে গোদের উপর বিষফোঁড়ার মতো কাজ করছে দমদম বিমানবন্দরে ঘটে যাওয়া সোনা কাণ্ড।
সম্প্রতি সুপ্রিম কোর্টের শুনানিতে রঞ্জন গগৈ ডিভিশন বেঞ্চে সরকারি আইনজীবী তুষার মেহতা বিষয়টি উত্থাপন করেন। তিনি জানান, একজন সাংসদের স্ত্রী দমদম বিমানবন্দরে তাইল্যান্ড থেকে ফেরার পথে গ্রিন চ্যানেল দিয়ে যাওয়ার সময় সোনা সমেত ধরা পড়েন শুল্ক দফতরের আধিকারিকদের হাতে। কিন্তু রাজনীতিক প্রভাবশালী স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে বেরিয়ে যেতে সফল হন ওই মহিলা। একথা জানার পর দমদম বিমানবন্দরের শুল্ক দফতরের আধিকারিকদের সঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনার একটি রিপোর্ট সুপ্রিম কোর্টে জমা দিতে বলেন বিচারপতি গগৈ।
Channel Hindustan Channel Hindustan is Bengal’s popular online news portal which offers the latest news