নিজস্ব সংবাদদাতা ঃ
কাঠুয়ায় ৮ বছরের শিশুর গণ ধর্ষন এবং তারপর হত্যা যেন সারা দেশের মূল নাড়িয়ে দিয়েছে । রাস্তায়, সোশাল মিডিয়ায় প্রতিবাদ, ন্যায় বিচার চেয়ে দেওয়ালে দেওয়ালে আর্জি। কিন্তু এই চার্জশিট, ক্রাইম ব্রাঞ্চের তদন্ত পারবে ওই ছোট্ট, নিষ্পাপ শিশুটিকে বিচার পাইয়ে দিতে? ছোট্ট শিশুর ওপর হওয়া অত্যাচার যতটা পৈশাচিক ততটাই নিষ্ঠুর শিশুটির সেই যন্ত্রণাকে নিজের স্বার্থে ব্যবহার করা। হ্যাঁ! ব্যবহারই করা হয়েছে কাঠুয়ার ৮ বছরের ছোট্ট মেয়েটির ব্যথার। অন্তত পুলিশি রিপোর্ট এবং ক্রাইম ব্রাঞ্চের চার্জশিটের মধ্যে যে মতান্তর পাওয়া গিয়েছে তা সেদিকেই ইশারা করছে। একদিকে তামাম মিডিয়া যখন কাঠুয়া নিয়ে সেগমেন্টের পর সেগমেন্ট করে এয়ারটাইম ভরাচ্ছে, তখন সেই চার্জশিট নিয়েই প্রশ্ন তুলছেন মেয়েটির গ্রামের বাসিন্দারা। আবারও বলি, কাঠুয়া, সুরাট, রোহতক, অসম যে কোনও জায়গাই হোক আমরা কোনও শিশুর ধর্ষনের ঘটনাই সমর্থন করছি না। কিন্তু সেই ধর্ষন ও খুনকে ব্যবহার করে কেউ যদি ঘটনাকে বিকৃত করতে চায়, বা ধর্মের রঙ দিতে চায় তাও অপরাধ। যাই হোক, কাঠুয়ার রাসনা গ্রামের লোকেরা কী বলছে জানেন? যেই মন্দিরে এই মেয়েটিকে আটকে রাখা হয়েছিল তা একটি কামরার। মন্দিরে ঢোকার ৩টি দরজা এবং চার দিকেই জানলা রয়েছে। ফলে প্রশ্ন, এই মন্দিরে মেয়েটিকে লুকিয়ে রাখা হল কীভাবে? গ্রামবাসীরা বলছেন, মন্দিরটি পরিত্যক্ত নয়। মানে সেখানে নিত্যপূজার ব্যবস্থা রয়েছে। তাহলে দ্বিতীয় প্রশ্ন, কেউ মন্দিরের ভেতরে শিশুটিকে দেখতে পেল না কেন? গ্রামবাসীরা জানিয়েছেন, ১৫ তারিখ এই মন্দিরে ভান্ডারা হয়েছিল এবং ক্রাইম ব্রাঞ্চের চার্জশিট অনুযায়ী মেয়েটি সেসময় মন্দিরের ভেতরেই বন্দি ছিল। তাহলে তৃতীয় প্রশ্ন, কয়েকশো লোকের চোখ এড়িয়ে কীভাবে ছোট্ট শিশুটি আটকে রইল? গ্রামবাসীরা প্রশ্ন তুলছেন, কোনো বাবা তাঁর নাবালিক পুত্র ও ভাগ্নেকে একটি শিশুকে ধর্ষন করতে কী করে বলতে পারে? তারা আরও জানিয়েছেন, বিশাল নামের যে ছেলেটির বিরুদ্ধে ধর্ষনের অভিযোগ আনা হয়েছে, সে ঘটনার দিন উত্তর প্রদেশের মুজফ্ফরাবাদে পরীক্ষা দিচ্ছিল। তাহলে চতুর্থ প্রশ্ন, একই ব্যক্তি একই সময় দু জায়গায় কী করে উপস্থিত থাকতে পারে? জানা গিয়েছে মেয়েটির বাবা প্রথমে সিবিআই তদন্তের দাবি করেছিলেন , কিন্তু একটি এনজিওর মালিক তালিব তাঁকে ক্রাইম ব্রাঞ্চের দাবি জানাতে উৎসাহ দেন। জানা গিয়েছে এই তালিব হুরিয়ত কন্ফারেন্সের অনুগামী। এছাড়াও ঘটনার চার্জশিট দেখলে বোঝা যাবে কয়েকটি শব্দ নতুন করে ক্রাইম ব্রাঞ্চের তরফে যোগ করা হয়েছে। যেমন ‘ঘটনাটি মন্দিরে ঘটানো হয়েছে’, ‘অভিযুক্তরা সকলেই হিন্দু’, ‘নির্যাতিতা মেয়েটি মুসলমান ধর্মের’। তাহলে পঞ্চম. প্রশ্ন, ঘটনাকে কী কোনও বিশেষ রঙ দিতে চাইছে ক্রাইম ব্রাঞ্চ? এই প্রশ্ন একটাই আশঙ্কা তৈরি করে, তাহলে কী কাঠুয়ার মেয়েটিকে সামনে রেখে নিজেদের স্বার্থসিদ্ধি করছে কোনও রাজনৈতিক দল?
বিভিন্ন বিষয়ে ভিডিয়ো পেতে চ্যানেল হিন্দুস্তানের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন
https://www.youtube.com/channelhindustan
https://www.facebook.com/channelhindustan
Channel Hindustan Channel Hindustan is Bengal’s popular online news portal which offers the latest news