নিজস্ব সংবাদদাতা:
হায়দরাবাদে পশুচিকিৎসকের ধর্ষণ ও খুনের ঘটনার অভিযুক্তদের আজ তেলেঙ্গানা পুলিশ এনকাউন্টারে খতম করার পর কিছু কিছু ক্ষেত্রে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেল দেশ জুড়ে। একদিকে যেমন তেলেঙ্গানা পুলিশ ‘উপযুক্ত’ কাজ করেছে বলে উল্লাস করছে জনতা, তেমনই কোনও কোনও মহল মানবাধিকারের প্রশ্ন তুলছে। তাদের মতে শাস্তি দেবে আদালত, পুলিশ নিজের হাতে আইন তুলে নিতে পারে না।

তবে তেলেঙ্গানা পুলিশের পক্ষেই পাল্লা ভারী। এমনিতে এনকাউন্টারের ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই গোটা দেশে বিজয়োল্লাস শুরু হয়ে যায়। রাস্তায় নেমে পুলিশের নামে জয়ধ্বনি দেয় জনতা। এমনকী পুষ্পবৃষ্টি হয় পুলিশের উপরে। তরুণী পশুচিকিৎসকের পরিবারও মনে করছে, সঠিক হয়েছে। নিগৃহীতার বাবা বলেন, এবার আমার মেয়ের আত্মা শান্তি পেয়েছে। তীব্র প্রতিক্রিয়া দেন নির্ভয়ার মাও। তিনি অভিযোগ করেন, সাত বছর হয়ে গিয়েছে নির্ভয়া ঘটনার। সেখানে আজ যা হয়েছে তাতে আমি খুশি। নৃশংস অপরাধীদের জন্য ন্যায় বিচার হয়েছে। নির্ভয়ার বাবা-মায়ের হয়ে যিনি মামলা লড়ছেন সেই আইনজ্ঞ সীমা সমৃদ্দি কুসওহা প্রশ্ন তোলেন, ‘মানবাধিকার কি শুধু অপরাধীদের জন্যে? দেশের মহিলাদের কি কোনও মানবাধীকার থাকতে নেই? শুক্রবার সীমা আরও বলেন, যাঁরা অপরাধীদের মানবাধিকার নিয়ে কথা বলছেন, তারা ভুক্তভোগীদের পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছেন তো? জানেন ওরা কেমন আছেন?’ সীমা বলেন, ‘এই যেমন, উন্নাওয়ের ধর্ষণকারীরা জামিন পেয়েই ধর্ষিতাকে পুড়িয়ে মারার চেষ্টা করল, তখন গেলো কোথায় মানবাধিকার?’

বিএসপি নেত্রী মায়াবতীও কড়া বার্তা দেন। বলেন, ‘হায়দরাবাদ পুলিশের থেকে শিক্ষা নেওয়া উচিত উত্তরপ্রদেশ ও দিল্লি পুলিশের। দুর্ভাগ্য, সেখানে অপরাধীদের সঙ্গে অতিথেয়তা করা হচ্ছে। আশা করি আজকের পর এই অবস্থার পরিবর্তন হবে।’ আরও বলেন, ‘উত্তরপ্রদেশে দিনকে দিন অপরাধীদের স্বর্গরাজ্য হয়ে উঠছে, অথচ ঘুম ভাঙছে না রাজ্য সরকারের!’ বিজেপি নেত্রী উমা ভারতী তেলেঙ্গানা পুলিশের এনকাউন্টারের পক্ষেই দাঁড়াচ্ছেন। তিনি মনে করেন, এই কাজের জন্য পুলিশকে বিশেষভাবে সম্মানিত করা উচিত। উমা বলেন, ‘এই ঘটনার ফলে দেশের মহিলারা অনেকটাই নিরাপদ হবেন।’ আক্ষেপের সঙ্গে বলেন, ‘দুঃখের হল দেশের অন্য রাজ্যগুলো আজও অবধি দুষ্কৃতীদের দ্রুত শাস্তির ব্যবস্থা করতে পারল না!’ তেলেঙ্গানা পুলিশকে কুর্নিশ জানিয়ে উমার আরও মন্তব্য, ‘অপরাধীদের মৃত্যুতে হয়তো নিগৃহীতার পরিবারের বেদনা লাঘব হবে না, তবু আমার বোনের (নিগৃহীতা) আত্মা শান্তি পাবে।’
উমা ভারতীর সতীর্থ রাজ্যবর্ধন রাঠোরও কুর্নিশ জানান হায়দরাবাদ পুলিশকে। ‘যে উচ্চ নেতৃত্ব এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে তাদেরকেও আমার অভিনন্দন। আজকের ঘটনায় প্রমাণিত শেষ পর্যন্ত শুভ শক্তির জয় হয়।’ বলেন রাজ্যবর্ধন রাঠোর।
অধিকাংশেরই এমন মত হলেও অভিযুক্তদের এনকাউন্টারে মৃত্যুকে ভালো চোখে দেখছেন মেনকা গাঁধী। তাঁর মন্তব্য, ‘আজ যা হয়েছে তা ভয়ঙ্কর হল এই দেশের জন্যে।’ মেনকা বলেন, ‘যাইহোক, তুমি চাইলেই এভাবে মানুষ মারতে পারো না। নিজের হাতে আইন তলে নেওয়া যায় না। বরং আদালতের বিচারে ফাঁসি হতে পারতো।’ কতকটা মেনকার সুরেই সুর মিলিয়েছেন কংগ্রেস সাংসদ শশী থারুর। শশীর বক্তব্য, ‘যতক্ষণ না তদন্ত প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হচ্ছে ততক্ষণ পর্যন্ত আমরা কোনও সিদ্ধান্তে আসতে পারি না।’

তেলেঙ্গানা পুলিশের এনকাউন্টার নিয়ে মিশ্র বক্তব্য পাওয়া গেল জাতীয় মহিলা কমিশনের প্রধান রেখা শর্মার গলায়। রেখা বলেন, ‘ন্যায় বিচার হোক অভিযুক্তদের, তবে প্রকৃত পন্থায়। আইনিভাবে।’ তাঁর আরও বক্তব্য, ‘আমরা চেয়েইছিলাম যে দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তি হোক। আজ সেটা ঠিক কীভাবে হয়েছে এখান থেকে বলা সম্ভব নয়।’
অর্থাৎ একটা বিষয় পরিষ্কার, সকলেই বর্বর ধর্ষকের ‘মৃত্যুদণ্ডে’ খুশি, কিন্তু যে প্রক্রিয়ায় তা হল তাকে ভালো দেখছেন না সকলেই।
Channel Hindustan Channel Hindustan is Bengal’s popular online news portal which offers the latest news