Breaking News
Home / TRENDING / বেলুড়ে রাজনৈতিক খেউড়, নিবেদিতার জীবনীকারের নিশানায় দুই সন্ন্যাসী

বেলুড়ে রাজনৈতিক খেউড়, নিবেদিতার জীবনীকারের নিশানায় দুই সন্ন্যাসী

নিজস্ব সংবাদদাতাঃ

‘মিশন’ ইমপসিবলকে পসিবল করলেন মমতা। তিনি সব পারেন। নচেত বেলুড় মঠে রামকৃষ্ণ মিশনের মঞ্চে দাঁড়িয়ে স্বামীজির শিকাগো বক্তৃতার ১২৫ বছরের পুন্য দিনে কেউ এমন রাজনৈতিক বক্তৃতা দিতে পারে! তবে পশ্চিমবঙ্গের আমজনতা মুখ্যমন্ত্রীকে চেনেন। তাঁদের অনেকের মতে মুখ্যমন্ত্রীর স্থান-কাল-পাত্র জ্ঞান কোনওকালেই ছিল না, তা অনেকটাই নিজের মতো। অতএব, পশ্চিমবঙ্গের মাননীয় মুখ্যমন্ত্রীর বেলুড়মঠের মতো পবিত্রস্থানে দাঁড়িয়ে ব্রিগেডে মিটিং স্টাইলে বক্তৃতা দেখে তত আশ্চর্য হয়নি অধিকাংশই। বরং অবাক হয়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ওইরকম বক্তিমের পরে মিশনের স্বামীজিদের চুপ থাকা দেখে। সেই সূত্রেই ‘মিশন’ ইমপসিবল শব্দবন্ধের অবতারণা।

আসলে তাই কিন্তু ছিল। স্বামী বিবেকানন্দ প্রতিষ্ঠিত রামকৃষ্ণ মিশনের অনুশাসন গোটা পৃথিবীর কাছে ছিল উদাহরণ। কিন্তু সেই জ্ঞান, প্রজ্ঞা, অনুশাসনের আধ্যাত্মিক পরম্পরা থেকে আজকের মিশন কি সরে যাচ্ছে? স্বামীজি বরাবর চেয়েছিলেন রাজনীতি থেকে দূরে থাকবে মিশন। কিন্তু আজ উল্টোটাই কি সত্যি? অনেকে তেমনটা মনে করেছেন। সেক্ষেত্রে রামকৃষ্ণ মিশনের এই পতনের দায় নিতে হবে দুই মহারাজ স্বামী সুহিতানন্দ ও সুবীরানন্দকে। গতকালকের মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যের পর এমনই মনে করছে সাধারণ মানুষ থেকে বহু বিশিষ্টজন।

যেমন মিশনে দিক্ষীত সঙ্ঘ অনুগামী বিশিষ্ট সাংবাদিক রন্তিদেব সেনগুপ্ত গতকাল দুঃখ করে সোশ্যাল মিডিয়ায় লিখেছেন, ‘স্বামী বিবেকানন্দ প্রতিষ্ঠিত একশো বছরের পুরনো এই প্রতিষ্ঠানটির কোনওরকম বিচ্যুতি আমাকে কষ্ট দেয়। ক্ষুদ্ধ করে।’ তিনি স্পষ্টত লেখেন, ‘গত কয়েকবছর ধরে রামকৃষ্ণ মিশনের কার্যকলাপে এই ক্ষোভ এই দুঃখটা বাড়ছিলই।’ কিন্তু শতবর্ষ প্রাচীন মিশনের ক্ষতি করছে কারা? কারা কালপ্রিট? রন্তিদেবের মতে, ‘স্বামী সুহিতানন্দ ও স্বামী সুবীরানন্দ স্বামীজির নির্দেশ থেকে (রাজনীতি থেকে দূরে থাকবে মিশন) ক্রমেই সরে যাচ্ছে।’ কিন্তু এই কথা কোন পরিস্থিতিতে বলতে বাধ্য হলেন রন্তিদেবের মতো বিশিষ্টজন? আসলে কাল যখন মুখ্যমন্ত্রী বললেন, কন্যাকুমারী রামকৃষ্ণ মিশনের থেকে দখল করে নেওয়া হয়েছে। এরপর বেলুড় মঠ দখল করে নেওয়া হবে। তখন উপস্থিত দুই স্বামীজির এ কথার প্রতিবাদ করলেন না! রন্তিদেব প্রশ্ন তুলেছেন, ‘এই ব্রহ্মজ্ঞানীরা তো জানেন, একনাথ রানাডের প্রচেষ্টায় কন্যাকুমারীর বিবেকানন্দ শিলা খ্রিস্টান মিশনারিদের দখলদারি মুক্ত করে সেখানে গড়ে উঠেছিল বিবেকানন্দ স্মারক। মুখ্যমন্ত্রীর মিথ্যে ভাষণের প্রতিবাদ করবেন না সুবীরানন্দ?’ প্রশ্ন উঠছে, তাহলে কি আজকের স্বামীজিদেরও সায় আছে এমন রাজনীতিতে! গতকাল নিজের ভাষণে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আরও বলেন, রামকৃষ্ণ মিশনকে নাকি ভয় দেখানো হচ্ছে। কিন্তু কারা ভয় দেখিয়েছে? সম্ভবত এতবড় অভিযোগের উত্তর দেওয়া উচিত ছিল সুবীরানন্দদের। যে অসংখ্য সাধারণ মানুষ স্বামী বিবেকানন্দ তথা রামকৃষ্ণ মিশনকে অন্তর থেকে ভালোবাসে, আনুসরণ করে তাদের জন্য উত্তর দেওয়া উচিত ছিল হয়তো। প্রশ্ন উঠবে না—মিশনের মতো প্রতিষ্ঠানকে ভয় দেখায় সাধ্যি কার? এ প্রসঙ্গে রন্তিদেব সরাসরি লিখেছেন, ‘এ কথা যদি মিশন না বলতে পারে তাহলে তারা অন্তত বলুন বেলুড় মঠ বা রামকৃষ্ণ মিশন কারও রাজনীতি করার জায়গা নয়।’ সেটুকু বলুন। কিন্তু এ কথা যে সুবীরানন্দরা বলতে পারবেন না রাখঢাক না রেখে তাও বলে দিয়েছেন বিশিষ্ট সাংবাদিক— ‘সুবীরানন্দরা এটা বলতে পারবেন না।’ কিন্তু কেন? ‘কারণ তারাই রামকৃষ্ণ মিশনকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করার ছাড়পত্র শাসক দলকে দিয়েছে। দুঃখের সঙ্গে লক্ষ করছি কয়েকবছর যাবৎ মিশনের বরিষ্ঠ সন্ন্যাসীরা শাসকদলের মনোরঞ্জন করতে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন। শাসকদলও মিশনের সন্ন্যাসীদের পাশে বসিয়ে ক্রমাগত রাজনৈতিক বক্তব্য রেখে চলেছেন।’ রামকৃষ্ণ মিশনের মতো প্রতিষ্ঠানের পক্ষে যে কাজ ভয়ঙ্কর লজ্জার নয় কি? এ তো একপ্রকার স্বামীজির স্বপ্নের চরিত্রহনন।

রন্তিদেব মিথ্যে অভিযোগ করেননি। উদাহরণ দিয়ে বলেছেন, ‘গত বছর উইম্বলডনে ভগিনী নিবেদিতার স্মৃতিতে স্মারক উন্মোচন করতে গিয়ে স্বামী সুহিতানন্দ বলে এসেছিলেন এটা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে স্বীকৃতি জানান হল। অথচ উনি খুব ভালো মতোই জানতেন ওই স্মারক প্রতিষ্ঠার পিছনে রামকৃষ্ণ মিশন বা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কোনও অবদান ছিল না। লন্ডন নিবাসী বাঙালিদের উদ্যোগেই ওই স্মারকটি বসেছিল।’ আরও অভিযোগ করেছেন রন্তিদেব। ভগিনী নিবেদিতার জীবনীকার সোশ্যাল মিডিয়ায় তীব্র বেদনাবোধ থেকে লেখেন, ‘আমি এও জানি শুধুমাত্র শাসকদলের পছন্দের ব্যক্তি নয় বলে নিবেদিতার এক জীবনীকারকে মিশনের একটি অনুষ্ঠানে বক্তার তালিকায় রেখেও বাদে দিয়ে দেওয়া হয়।’ এই কি মিশনের সংস্কৃতি?

এসব শোনার পর রাগের থেকে বেশি বেদনাবোধ হওয়াই স্বাভাবিক। বাংলার তো এমনিতে সব গেছে। রামকৃষ্ণ মিশনটুকু ছিল। শেষকালে তাকেও রাজনীতি অধিকার করবে! শেষে তাই রন্তিদেব সেনগুপ্তের সুরে সুর মিলিয়ে বলতে হয়, স্বামী বিবেকানন্দের রামকৃষ্ণ মিশন কয়েকজন গেরুয়াধারীর ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়। এই তথাকথিত সন্ন্যাসীদের হাত থেকে মিশনকে বাঁচাতেই হবে। রাজনীতি তথা রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের জন্য যেন চিরকাল ‘মিশন’ ইমপসিবলই থাকে। তবেই হয়তো স্বামী বিবেকানন্দকে সঠিক শ্রদ্ধা জানানো যাবে।

Spread the love

Check Also

Big Breaking: হুমায়ুনকে ওয়েসির ‘ফিলার,’ কী উত্তর দিলেন তৃণমূলের বিধায়ক

দেবক বন্দ্যোপাধ্যায় হুমায়ুনকে ওয়েসির ফোন! দল তাঁকে শো-কজ করেছে। তিনি সেই শো-কজের উত্তরও দিয়েছেন। তাতেও …

রাহুলের পাইলট প্রোজেক্ট, মুর্শিদাবাদ কংগ্রেসে আধিপত্য হারাতে পারেন অধীর

দেবক বন্দ্যোপাধ্যায় পশ্চিমবঙ্গ নিয়ে রাহুল গান্ধির নতুন উদ্যোগে মুর্শিদাবাদের কংগ্রেস রাজনীতিতে খর্ব হতে পারে অধীর …

আমি আসছি! নাম না করে শুভেন্দুকে শাসালেন আনিসুর

চ্যানেল হিন্দুস্থান, নিউজ ডেস্ক: নাম না করে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারিকে শাসালেন আনিসুর রহমান। একদা …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *