Breaking News
Home / TRENDING / শ্রীরামকৃষ্ণের দৈবলীলা সাক্ষাৎ দেখেছিলেন মা সারদা। কেমন ছিল সেই লীলা?

শ্রীরামকৃষ্ণের দৈবলীলা সাক্ষাৎ দেখেছিলেন মা সারদা। কেমন ছিল সেই লীলা?

পার্থসারথি পাণ্ডা :

মা সারদা তখন ঠাকুরের সেবার ভার নিয়ে দক্ষিণেশ্বরে, থাকেন ছোট্ট ঘর নহবতে। সেখানেই তাঁর খাওয়া শোয়া, সেখানেই তাঁর রান্নাবাড়া। একদিন দক্ষিনেশ্বরী মা ভবতারিণীর জন্য তিনি জুঁই আর রঙ্গন দিয়ে একখানা মালা গেঁথে ঠাকুরের কাছে পাঠিয়ে দিলেন। ঠাকুর শ্যামা মাকে সেই মালা পরিয়ে দিয়ে বৃন্দা ঝিকে দিয়ে বলে পাঠালেন, মালাখানি গেঁথেছে তাকে একবার ডেকে নিয়ে আয়, দেখে যাক মাকে কেমন দেখাচ্ছে। বৃন্দা গিয়ে মাকে ঠাকুরের কথা বলতে তিনি মন্দিরে এলেন। মন্দিরে এসে তাঁর এক অদ্ভুত দর্শন হল। তিনি দেখলেন শ্যামা মায়ের মুখের ওপর অবিকল ঠাকুরের মুখ আঁকা! গলায় তাঁর হাতের সদ্য গাঁথা মালা। এই অপূর্ব দর্শনের মধ্য দিয়েই তিনি বুঝতে পেরেছিলেন ঠাকুর আর মায়েতে আসলেই কোন ভেদ নেই। মায়ের মধ্যেই তিনি, তাঁর মধ্যেও মা।

ঠাকুর তখন শেষ শয্যায়। গলার ভেতরের ঘা বাইরেও দেখা দিয়েছে। ঠাকুরের কষ্ট দেখে মা আর থাকতে পারেন না। তাঁকে সারিয়ে তোলার বাসনা নিয়ে তারকেশ্বরে গিয়ে হত্যে দিলেন তারকনাথের চরণে। কিন্তু তারকনাথ ফিরিয়ে দিলেন মাকে। এক জ্যোতির্ময় পুরুষের বেশে তাঁকে বলে গেলেন, মানুষ হয়ে জন্মালে মরতে হবেই। তারও তো একটা হেতু চাই, এই রোগটাই সেই হেতু। মা ফিরে এলেন। উতলা মন তবু মানতে চায় না। গেলেন প্রাণের দেবী মা শ্যামার কাছে। পরম ভক্তের জন্য করবেন রোগমুক্তির প্রার্থনা। কিন্তু তখনও হল তাঁর এক আশ্চর্য দর্শন। দেখলেন, মা শ্যামার গলাতে ফুটে উঠেছে ভক্তের গলার ঘা। মা শ্যামা সারদাকে আর একবার বুঝিয়ে দিলেন যে, ভক্ত ও ভগবান আসলে অভিন্ন সত্তা, ভক্তের কষ্টই ভগবান ভোগ করেন। যিনিই রামকৃষ্ণ, তিনিই ভবতারিণী শ্যামা। সারদা কার কাছে কার নিরাময় চাইবেন!

ভক্ত ও ইষ্টকে এক জেনেছিলেন বলেই ঠাকুর যখন দেহ রাখলেন, তখন শ্যামা মায়ের পায়ের তলায় মা সারদা লুটিয়ে কেঁদে উঠেছিলেন–‘মা কালী গো! তুমি এমন করে আমায় ফেলে কোথায় চলে গেলে গো!’ বলে।

বিয়ের সময় সারদার বয়স ছিল ছয় আর রামকৃষ্ণদেবের চব্বিশ। সারদা গরীবের মেয়ে গরীবের বউ। তাই তাঁকে গয়না গড়িয়ে দিতে পারেননি শাশুড়ি চন্দ্রমণি। নতুন কুটুমের কাছে মান রাখতে প্রতিবেশী বড়লোক লাহা বাবুদের বাড়ি থেকে গয়না চেয়ে পরিয়ে বৌমাকে বরণ করেছিলেন। ছোট্ট সারদা ঘুমিয়ে পড়লে সেইসব গয়না নিজের হাতে খুলে রামকৃষ্ণদেব ফেরৎ দিয়েছিলেন। ঘুম থেকে উঠে গায়ের গয়না না দেখতে পেয়ে সারদা খুব কেঁদে ছিলেন। কিছুতেই তাঁকে আর ভোলানো যায় নি! সারদাকে দুঃখ দিয়ে ঠাকুরের খুব কষ্ট হয়েছিল। তাই পরবর্তীকালে সারদাকে তিনি একজোড়া সোনার বালা গড়িয়ে দিয়েছিলেন। ঠাকুর দেহ রাখলে বৈধব্যদশায় মা সারদা সেই বালাজোড়া খুলে রাখতে গেলে ঠাকুর স্বয়ং অভির্ভুত হয়ে বাধা দিয়েছিলেন। বলেছিলেন, আমি তো কোথাও যাইনি। শুধু এ ঘর থেকে ও ঘর হয়েছি মাত্র। মুহূর্তেই মায়ের কাছে খুলে গিয়েছিল এপার ওপারের দরজা। বুঝেছিলেন, মৃত্যুতেই সব শেষ হয়ে যায় নি, ঠাকুর সর্বত্র বিরাজ করছেন অখণ্ড সত্তায়। সেই অখণ্ড সত্তারূপেই ঠাকুর সবসময় সারদামায়ের কর্মে কর্তব্যে সঙ্গে ছিলেন আজীবন। মাকে লীলাসঙ্গিনী থেকে লোকজননী হয়ে ওঠার পথ দেখিয়েছিলেন। মহিয়সী জননী মা সরদার আবির্ভাব হয়েছিল আজকের দিনে, বাঁকুড়ার জয়রামবাটির পুন্য ভূমিতে।

Spread the love

Check Also

Big Breaking: হুমায়ুনকে ওয়েসির ‘ফিলার,’ কী উত্তর দিলেন তৃণমূলের বিধায়ক

দেবক বন্দ্যোপাধ্যায় হুমায়ুনকে ওয়েসির ফোন! দল তাঁকে শো-কজ করেছে। তিনি সেই শো-কজের উত্তরও দিয়েছেন। তাতেও …

রাহুলের পাইলট প্রোজেক্ট, মুর্শিদাবাদ কংগ্রেসে আধিপত্য হারাতে পারেন অধীর

দেবক বন্দ্যোপাধ্যায় পশ্চিমবঙ্গ নিয়ে রাহুল গান্ধির নতুন উদ্যোগে মুর্শিদাবাদের কংগ্রেস রাজনীতিতে খর্ব হতে পারে অধীর …

আমি আসছি! নাম না করে শুভেন্দুকে শাসালেন আনিসুর

চ্যানেল হিন্দুস্থান, নিউজ ডেস্ক: নাম না করে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারিকে শাসালেন আনিসুর রহমান। একদা …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *