Breaking News
Home / TRENDING / মোদির হাতে রাখি পরানোর পর লকেট

মোদির হাতে রাখি পরানোর পর লকেট

কেয়া ঘোষঃ

রাখি পূর্ণিমার তিথি। সনাতন রীতি অনুযায়ী বোনেরা ভাই বা বড় দাদাদের মঙ্গল কামনায় ভাই বা দাদার হাতে বেঁধে দেয় রাখি। কিন্ত সেই দাদা যদি হন খোদ দেশের প্রধানমন্ত্রী? সেই অভিজ্ঞতা কেমন হবে? আর পাঁচটা রাখি পরানোর থেকে কি আলাদা হয় সেটা? আলাদা যদিও বা হয় তবে কতটা আলাদা? সেই আলাদা অভিজ্ঞতাই হল বিজেপি নেত্রী লকেট চট্টোপাধ্যায়ের। গত রবিবার অর্থাৎ ২৬ আগস্ট ছিল রাখি। শনিবার হঠাৎ দিল্লি থেকে তলব, প্রধানমন্ত্রীকে রাখি পরানোর ডাক। তড়িঘড়ি ছুট লাগালেন। গেস্ট হাউসে পৌঁছে জানা গেল সময় দেওয়া হয়েছে সকাল ৯টা। পরদিন, অর্থাৎ রোববার রাখি। কী হল সেদিন, সেই কথা শুনে নেব লকেটের জবানিতে। ‘ভোর ছ’টায় রেডি হয়ে সবাই মিলে জমায়েত হয়ে রওনা দিলাম লোক কল্যাণ মার্গের উদ্দেশে। মহিলা মোর্চার সর্বভারতীয় সভানেত্রী বিজয়া রাহটকার সহ আমরা ৮ জন কাঁটায় কাঁটায় সাতটায় পৌঁছে গেলাম মূল ফটকের সামনে। এবার শুরু সিকিউরিটি চেক। সাত-সাতটি ধাপের সুরক্ষা বলয় অতিক্রম করে অবশেষে ঢুকলাম ‘দাদার বাড়ির’ অন্দরমহলে। প্রথমেই আমাদের নিয়ে যাওয়া হল এক ডায়েনিং রুমে। সেখানে জলখাবারের আয়োজন। দাদা বোনেদের বেলা পর্যন্ত অভুক্ত রাখতে চান না। জলযোগের পর  আমাদের বসানো হল একটি সুবিশাল হলঘরে। পরিচ্ছন্ন, বাহুল্যহীন ঘর। সারি সারি চেয়ার পাতা। যেখানে অপেক্ষারত আমার দাদার  অন্য বোনেরাও। আর রয়েছে বেশ কিছু খুদে। তারা রঙিন প্রজাপতির মত উড়ে বেড়াচ্ছে হলময়।

অল্পসময়ের মধ্যেই তিনি প্রবেশ করলেন। সবাইকে নমস্কার  জানিয়ে বসলেন নির্দিষ্ট চেয়ারে। একে একে লাইন দিয়ে রাখি পরানো শুরু হল। কুঁচোকাচারা তাদের ‘আংকেল’কে রাখি পরাচ্ছে আর আংকেলও দিব্যি খুনসুটি জুড়ে দিয়েছেন ওদের সঙ্গে। শুধু তাই নয়, রাখির ডোরে হাত ভরে যাওয়ায় যেই না কিছু ডোর খুলেছেন তিনি, ওমনি খুদেদের কয়েকজন রীতিমত ছুটে এসে শুরু করে দিল ‘চার্জ’ করা—‘কিউ খোল দিয়া?’ অগত্যা আংকেলকে আবার পরতে হল সেই রাখি।

এবারে বড়দের পালা। উনি প্রত্যেকের কাছে জানতে চাইছেন কে কোথা থেকে এসেছে। সঙ্গে দু’এক কথাও বলছেন। আমার অনেক আগে ছিলেন পশ্চিমবঙ্গের প্রত্যন্ত জায়গার এক দিদি। তিনি যেই না বললেন যে বঙ্গদেশ থেকে এসেছেন, ওমনি আমার দিকে নিশানা করে গমগমে গলায় বলে উঠলেন, ‘দেখিয়ে, ইয়ে ভি বংগাল সে হ্যায়!’ অবশেষে এল আমার পালা। রাখিবন্ধনের পবিত্র বন্ধনে আবদ্ধ করলাম সেই মানুষকে যার ওপর ভার রয়েছে গোটা দেশকে রক্ষা করার। অথচ কে বলবে যে সেই মানুষই ইনি? পরিবারের কর্তার মতো খোঁজ নিলেন বাড়ির সকলের, খোঁজ নিলেন এই বঙ্গের প্রতিটি মানুষের। যথার্থ ‘হেড অফ দ্য ফ্যামিলির’ মতোই। এক মুহুর্তের জন্যেও মনে হতে দেননি যে দেশের প্রধানমন্ত্রীর সামনে বসে ছিলাম। এবং শুনতে অদ্ভুত লাগলেও আমারও মনে হয়নি এ কথা।  উপলব্ধি হল আবাস থেকে বেরিয়ে গাড়ির জন্য অপেক্ষা করার সময়। মনে মনে প্রনাম জানিয়ে বললাম, ভালো থাকবেন।

Spread the love

Check Also

Big Breaking: হুমায়ুনকে ওয়েসির ‘ফিলার,’ কী উত্তর দিলেন তৃণমূলের বিধায়ক

দেবক বন্দ্যোপাধ্যায় হুমায়ুনকে ওয়েসির ফোন! দল তাঁকে শো-কজ করেছে। তিনি সেই শো-কজের উত্তরও দিয়েছেন। তাতেও …

রাহুলের পাইলট প্রোজেক্ট, মুর্শিদাবাদ কংগ্রেসে আধিপত্য হারাতে পারেন অধীর

দেবক বন্দ্যোপাধ্যায় পশ্চিমবঙ্গ নিয়ে রাহুল গান্ধির নতুন উদ্যোগে মুর্শিদাবাদের কংগ্রেস রাজনীতিতে খর্ব হতে পারে অধীর …

আমি আসছি! নাম না করে শুভেন্দুকে শাসালেন আনিসুর

চ্যানেল হিন্দুস্থান, নিউজ ডেস্ক: নাম না করে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারিকে শাসালেন আনিসুর রহমান। একদা …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *