নিজস্ব সংবাদদাতা:
মেরেছ কলসীর কানা তাই বলে কী প্রেম দেব না!
ভালবাসার দিনে দলের সতীর্থদের এমনই পাঠ দিলেন রাহুল গাঁধী।
বৃহস্পতিবার আজমেঢ়ে সেবাদলের কর্মীদের জমায়েতে রাহুল তাঁদের ভালবাসার শিক্ষা দিলেন। বললেন, প্রধানমন্ত্রীর তাঁর ঘৃণা ছিল, তিনি তাঁকে আলিঙ্গন করার পর সেই ঘৃণা ধুয়ে মুছে সাফ হয়ে গেছে। পাঠকের অবশ্যই মনে আছে তেলুগু দেশম পার্টি গতবছর মোদি সরকারের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব আনার দিন রাহুল কি ভাবে নিজের আসন থেকে উঠে গিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে আলিঙ্গন করেছিলেন। গতকাল, সংসদের শেষ দিনে মোদি এই ঘটনার উল্লেখ করে বলেছেন, সেদিন রাহুলের গলা মেলানো ছিল নাকি গলায় পড়া, তা নিয়ে তাঁর মনে প্রশ্ন আছে। এমনিতে হাততালি কুড়ানো রাজনীতিতে রাহুল দীর্ঘ দিন ধরেই নিজেকে একটু একটু করে প্রস্তুত করেছেন বলে অনেকের অভিমত। তাতে যদি প্রধানমন্ত্রীর পদমর্যাদা ক্ষুন্ন হয় কিংবা সংসদের ডেকোরাম নষ্ট হয় তাতে তাঁর কিছু যায় আসে না। তা প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ড. মনমোহন সিংহের অর্ডিন্যান্স ছিঁড়ে ফেলে সস্তার রাজনীতি করাই হোক কিংবা মোদিকে আলিঙ্গন করে হাততালি কুড়োনো। মোদির সঙ্গে আলিঙ্গন-রাজনীতি করার সময়েই লোকসভার অধ্যক্ষ সুমিত্রা মহাজন রাহুলকে তাঁর কৃতকর্মের জন্য সতর্ক করেছিলেন। বলেছিলেন, সংসদে বসে থাকা মোদি কোনও ব্যক্তি নন। আলিঙ্গন করতে হলে সেন্ট্রাল হলে গিয়ে করুন।
রাজনৈতিক পরিবারে জন্ম ও বড় হওয়া রাহুলের জানার কথা সংসদের গাম্ভীর্য ও প্রধানমন্ত্রীর পদমর্যাদার কথা। অনেকে মনে করেন, রাহুল অবশ্যই জানেন তবে দেশের অলিখিত রাজপরিবারে জন্ম হওয়ার ফলে তা মানেন না। সংসদভবনকে নিজের বাড়ির বৈঠকখানা মনে করেন।
সে যাই হোক, এদিন রাহুল তাঁর আলিঙ্গনের মাহাত্ম্যের কথা সেবাদলকে বোঝালেও, আলিঙ্গন পরবর্তী চোখ টেপার কথা আর তোলেননি। মোদি যাকে চোখের দুষ্টুমি বলেছেন, সেই দুষ্টুমি এদিন আজমেঢ়ে ভালো ভালো কথায় সাজানো বক্তৃতার পর সেই দুষ্টুমি রাহুল আবার করলেন কিনা তা অবশ্য জানা যায়নি।
Channel Hindustan Channel Hindustan is Bengal’s popular online news portal which offers the latest news