দেবক বন্দ্যোপাধ্যায় : 
তৃণমূল কংগ্রেসকে ধর্ম নিরপেক্ষ রাজনৈতিক দল বলে মনে করছে না কংগ্রেস। সম্প্রতি ১২ তুঘলক রোডে প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি সোমেন মিত্রর সঙ্গে তাঁর যে বৈঠক হয়েছে সেখানে এমন মনোভাবই প্রকাশ করেছেন জাতীয় কংগ্রেসের সভাপতি রাহুল গাঁধী। বৈঠকে রাহুল স্পষ্ট করে দিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গে ধর্ম নিরপেক্ষ শক্তি এখন বিপন্ন বলেই মনে করেন তিনি। এবং এর প্রতিরোধ গড়ে তুলতে রাজ্যে বিজেপি ও তৃণমূল, উভয়ের বিরুদ্ধেই গণ আন্দোলন গড়ে তোলার নির্দেশ দিয়েছেন রাহুল।
গণ আন্দোলন গড়ে পক্ষে সোমেন মিত্র দীর্ঘ দিন ধরে সওয়াল করছেন। কয়েক মাস আগেও, যখন সোমেন মিত্রকে রাজ্য শাখার সভাপতি মনোনীত করা হয়নি, তখনও একাধিক আলোচনায় সোমেন গণ আন্দোলন গড়ে তোলার কথা উল্লেখ করেন। রাজ্যো কংগ্রেসকে মাথা তুলে দাঁড়াতে হলে গণ আন্দোলনের বিকল্প নেই : এটাই ছিল সোমেনের মতামত। একই সঙ্গে ধর্ম নিরপেক্ষতা বা উল্টো দিকে সাম্প্রদায়িকতার প্রশ্নেও সোমেন বিজেপি ও তৃণমূলকে একই বন্ধনীতে রাখার পক্ষপাতী। অনেকদিন আগেই দুর্গা প্রতিমা বিসর্জন ও মহরম প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে সোমেন তৃণমূল তথা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেই আক্রমণের নিশানা করেছিলেন। তাঁর বক্তব্য ছিল, ‘রাজ্যে যা চলছে তা হল সংখ্যালঘু সাম্প্রদায়িকতা।’ কোনও রকম সাম্প্রদায়িকতাই যে বৃহত্তর মনুষ্যসমাজের জন্য ক্ষতিকর, সে কথা বারবার বোঝাবার চেষ্টা করেছেন।
এবার রাহুলের বক্তব্যেও উঠে এল একই ভাবনা। রাজ্যে ধর্মনিরপেক্ষ ভাবধারা (বিজেপি বা সঙ্ঘ যদিও এ হেন ভাবধারাকে তথাকথিত ধর্মনিরপেক্ষতা বলেই মনে করে ) রক্ষা করার স্বার্থে তৃণমূলের বিরুদ্ধে আন্দোলন গড়ে তোলার যে ডাক রাহুল দিয়েছেন, রাজনৈতিক মহলের মতে এখানেই স্পষ্ট হচ্ছে মমতার রাজনীতিকে কি চোখে দেখছেন রাহুল। কয়েকদিন আগে প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি সোমেন মিত্রর প্রকাশ করা একটি প্রেস রিলিজে এ কথার উল্লেখও রয়েছে। বিবৃতিতে সোমেন মিত্রর বয়ানে লেখা রয়েছে, ‘ যে ভাবে ধর্মনিরপেক্ষ শক্তি আজ বিপদের মুখে, তার জন্য সমান ভাবে বিজেপি ও তৃণমূলের বিরুদ্ধে গণ আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে বলে সভায় রাহুল গাঁধী জানান।’
মঙ্গলবার সোমেন মিত্রকে এই বিষয়ে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন, “আমি যা লেখার বিবৃতিতে লিখে দিয়েছি, এবার ব্যখ্যা আপনাদের।’
Channel Hindustan Channel Hindustan is Bengal’s popular online news portal which offers the latest news