চ্যানেল হিন্দুস্তান ব্যুরো ।
“কংগ্রেসের শীর্ষ নেতারা গোপনে বিজেপির সঙ্গে হাত মিলিয়েছেন।” সোমবার কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠকে প্রাক্তন সভাপতি রাহুল গাঁধী (Rahul Gandhi) সরাসরি আক্রমণ করেছেন দলের বর্ষীয়ান নেতাদের। চলতি মাসের ৭ তারিখে ২৩ জন শীর্ষ কংগ্রেস নেতা হাইকম্যান্ডকে চিঠি দেয়। চিঠির নীচে স্বাক্ষর করেছিলেন কংগ্রেস নেতা কপিল সিব্বল, শশী থারুর, গুলাম নবি আজাদ, পৃথ্বীরাজ চৌহান, বিবেক তানখা ও আনন্দ শর্মা। চিঠিতে লেখা ছিল, কংগ্রেস যৌথ নেতৃত্বে বিশ্বাসী। গাঁধী পরিবারকেও সেই নেতৃত্ব মেনে চলতে হবে। কংগ্রেসের একাংশ রাহুল গাঁধীকে নেতৃত্বে ফেরাতে জোর কদমে উদ্যোগ শুরু করেছে। তারই পাল্টা রাহুল গাঁধীকে রুখতে রাহুল যাতে ফের কংগ্রেস সভাপতি না হতে পারেন, সেজন্যই বর্ষিয়ান কংগ্রেস নেতারা এই চিঠিটি লিখেছেন। এমনটাই মত রাজনৈতিক মহলের। রাহুল গাঁধী বলেছেন, “ওই চিঠিটি যাঁরা লিখেছেন, তাঁরা গোপনে হাত মিলিয়েছেন বিজেপির সঙ্গে।”
https://twitter.com/KapilSibal/status/1297794831096459265?s=19
প্রাক্তন কংগ্রেস (Congress) সভাপতির ওই মন্তব্য করার কিছুক্ষণের মধ্যে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে টুইট করেন কপিল সিব্বল (Kapil Sibbal)। তিনি বলেন, “রাহুল গান্ধীর অভিযোগ, আমরা গোপনে বিজেপির সঙ্গে হাত মিলিয়েছি। আমি রাজস্থান হাইকোর্টে সাফল্যের সঙ্গে কংগ্রেসের হয়ে সওয়াল করেছি। মণিপুরে দল যাতে বিজেপি সরকারের পতন ঘটাতে পারে, তার ব্যবস্থা করেছি। গত ৩০ বছরে একবারও বিজেপির হয়ে বিবৃতি দিইনি। তবু বলা হচ্ছে, আমি নাকি বিজেপির সঙ্গে হাত মিলিয়েছি।” কংগ্রেসের রাজ্যসভার দলনেতা গুলাম নবি আজাদ এমন অভিযোগ নস্যাৎ করে দাবি করেছেন, কেউ যদি আমার সঙ্গে বিজেপির যোগাযোগ প্রমাণ করতে পারেন তাহলে আমি কংগ্রেস থেকে ইস্তফা দেব।”
দিন কয়েক আগে প্রবীণ কংগ্রেস নেতা সলমন খুরশিদ বলেছেন, “রাহুল গাঁধী আমাদের নেতা। তিনি সভাপতি পদে থাকুন বা না থাকুন। রাহুল গান্ধী যদি দলের সভাপতিকে সম্মান দেন, তা হলে বাকিরাও তাঁকে সম্মান দেবেন। দলে এক জন সর্বসম্মত সভাপতি যেমন থাকবেন। তেমন আমাদের একজন নেতাও থাকবেন। তিনি রাহুল গাঁধী। যাঁকে একবার বিপুল সংখ্যক মানুষ নেতা মেনে নিয়েছেন, তিনি তো নেতাই থাকবেন। সেটাই স্বাভাবিক।” অভিজ্ঞ নেতাদের এমন বক্তব্যে বেজায় ক্ষুব্ধ রাহুল গাঁধী। তাই এদিন ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠকে সরাসরি আক্রমণ করে বসেন আশক গেহলোট, কপিল সিব্বল ও শশী থারুরের মতো নেতাদের।
জাতীয় রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, এমন পরিস্থিতিতে ফের ভাঙ্গন হতে পারে কংগ্রেসে। ১৯৯৯ সালে একইভাবে কংগ্রেসের সনিয়া গাঁধীর (Sonia Gandhi) নেতৃত্ব না মানতে চেয়ে বিদ্রোহ করেছিলেন শরদ পাওয়ার ও পি এ সাংমা। ফলস্বরূপ তৈরি হয়েছিল ন্যাশনালিস্ট কংগ্রেস পার্টি। পরে অবশ্য কংগ্রেসের সঙ্গে জোট করে মহারাষ্ট্রের সরকার চালিয়েছিল এনসিপি (NCP)। এমনকি দুটি ইউপিএ সরকারের আমলেই প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংয়ের বিশ্বস্ত সহযোগী ছিল শরদ পাওয়ারের দল। কিন্তু, এক্ষেত্রে রাহুলের বদলে অন্য কাউকে সভাপতি করার কথা বলে গাঁধী পরিবারের রোষানলে পড়েছেন কংগ্রেসের বর্ষিয়ান নেতারা। মনে করা হচ্ছে, সভাপতি পদ নিয়ে সংকটের মাঝেই এবার পারস্পরিক দ্বন্দ্ব নিয়ে মল্লযুদ্ধ শুরু হতে চলেছে কংগ্রেসের ঘরোয়া রাজনীতিতে।
Channel Hindustan Channel Hindustan is Bengal’s popular online news portal which offers the latest news