নীল রায়:
ভোটের ফলাফল ঘোষণার ২৪ ঘন্টা আগেই ফেসবুকে বিস্ফোরণ ঘটালেন তৃণমূলের কোচবিহার জেলা সভাপতি তথা রাজ্যের উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন মন্ত্রী রবীন্দ্রনাথ ঘোষ। বুধবার সকালে তিনি তাঁর ফেসবুক অ্যাকাউন্টে লেখেন, যাঁরা দলে থেকে গদ্দার, যাঁরা দলকে পিছন থেকে ছুরি মেরেছে তাদের চিহ্নিত করা হয়েছে, তাঁদের এই দল থেকে তাড়াতে হবে।”

স্বভাবতই রবীন্দ্রনাথ ঘোষের এমন ফেসবুক পোস্টের পর জল্পনা শুরু হয়েছে জেলা রাজনীতিতে। প্রশ্ন উঠছে, ফলাফল ঘোষণার আগেই কি দলে অন্তর্ঘাতের আশঙ্কা করে হার স্বীকার করে নিলেন রবীন্দ্রনাথ? দলের অভ্যন্তরীণ গন্ডগোলের কারণে যে কোচবিহার আসন হাতছাড়া হচ্ছে তার আগাম আভাস কি পেয়ে গিয়েছেন মন্ত্রী? কারণ কোচবিহার আসনে এবার বিজেপির প্রার্থী হয়েছিলেন গত ডিসেম্বর মাসে তৃণমূল থেকে বহিস্কৃত নিশীথ প্রামাণিক। তাঁর বিজেপি প্রার্থী হওয়ার পর কোচবিহার জেলা বিজেপিতে ব্যাপক গোলমালের ঘটনা ঘটেছিল। কিন্তু ঝানু রাজনীতিকের মতো নীশিথ সেই ক্ষোভ-বিক্ষোভ চাপা দিয়ে সবাইকে নিয়েই কোচবিহার লোকসভা ভোটে লড়াই করেছেন সমানে সমানে। কিন্তু প্রশ্ন উঠছে, তৃণমূলের জেলা সভাপতি এমন পোস্ট তো নির্বাচন ফলাফল প্রকাশের পরে করতে পারতেন? এবং তৃণমূল নেত্রী থেকে শুরু করে তৃণমূলের শীর্ষ নেতারা প্রায় সকলেই ভোটের প্রচারে বলে দিয়েছেন দলের সঙ্গে গাদ্দারি করে তৃণমূল করা যাবে না। তাই ধরে নেয়া হচ্ছিল ফলাফল প্রকাশের পর রাজ্য, জেলা তথা ব্লক তৃণমূল নেতাদের ওপর বেশ কিছু ক্ষেত্রে কোপ পড়তে পারে।
এমত অবস্থায় কোচবিহার জেলা সভাপতি কী হারের অনুমান করে কোচবিহারের নেতা কর্মীদের ওপর গাদ্দারির তকমা চাপিয়ে নিজের পিঠ বাঁচাতে চাইছেন? শীর্ষ নেতৃত্বের কাছে এমনটাই প্রশ্ন করছে রাজনৈতিক মহলে। কারণ কোচবিহারের বিদায়ী সাংসদ পার্থপ্রতিম রায়কে সরিয়ে সদ্য ফরওয়ার্ড ব্লক ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দেওয়া পরেশ অধিকারীকে কোচবিহার লোকসভা প্রার্থী করার বিষয়টি মেনে নিতে পারেনি পুরনো দিনের তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা কর্মীরা।
Channel Hindustan Channel Hindustan is Bengal’s popular online news portal which offers the latest news