পার্থসারথি পাণ্ডা :
সেবার মৃণালিনী দেবী প্রথমবারের জন্য শান্তিনিকেতনে যাবেন। জোড়াসাঁকো থেকে তাঁকে নিয়ে যাবেন রবীন্দ্রনাথ। সেখানে গিয়ে মৃণালিনী দেবী স্বামীকে মনের মতো রেঁধে খাওয়াবেন বলে হাতা, খুন্তি, ছান্তা, পিঠের ছাঁচ সব গুছিয়ে বোঁচকা ভর্তি করছেন দেখে হাঁ হাঁ করে ছুটে আসেন কবি। বলেন যে, আমাদের শান্তিনিকেতন হচ্ছে যাজ্ঞবল্ক্য মুনির আশ্রম, একান্ন হবিষ্যি খেয়েই সেখানে দিন কাটে। তাই সেখানে এসব বাহুল্য জিনিস বয়ে নিয়ে যাওয়ার কোন দরকার নেই।
কবি তো বলেই খালাস। মৃণালিনী দেবী স্বামীকে হাড়ে হাড়ে চেনেন। জানেন, তাঁর সেই যাজ্ঞবল্ক্য মুনির আশ্রমেও অতিথি এলে, অতিথিকে কি খাওয়াবেন তাই নিয়ে তাঁর চিন্তার শেষ থাকে না। আসলে মানুষটা নিজে খান খুব কম, কিন্তু নানারকমের পদ ও মিষ্টি নিজে যেমন খেতে ভালবাসেন, তেমনি অন্যকে খাইয়েও খুব তৃপ্তি পান। তাই কবিপত্নী কবির কথায় ‘হু’ ‘হ্যাঁ’ বলে সায় দিয়েও রান্নার সরঞ্জাম সঙ্গে নিতে ভুললেন না। পুব বাংলার মেয়ে মৃণালিনী দেবী। তাঁর ছিল অপূর্ব রান্নার হাত। তাঁর হাতের চিঁড়ের পুলি রবীন্দ্রনাথ খেতে খুব ভালবাসতেন।
কবির মাথায় নিত্যনতুন রান্নার আইডিয়া খেলত। কবির নির্দেশে সেসব মৃণালিনী হাতে কলমে করতেন। তারব কিছু উতরেও যেত খুব ভালো। তখন কবির আনন্দের আর সীমা থাকত না। একবার কবির শখ হল যে, আলু ও কড়াইশুঁটি সেদ্ধ করে মেখে বড়া করবেন। মৃণালিনী বললেন যে, আলু-কড়াইশুঁটির সঙ্গে বেসন বা ময়দা না মেশালে কি আর ভাজা যায়! কবির রোখ চাপল, কেন যায় না, আলবাত যায়! আধ কড়াই তেলে কবি ভাজতে বসলেন বড়া। যতই তেলে ছাড়েন আলু ও কড়াইশুঁটির মাখন যায় ছেতরে। গোল আর হয়না! তাই দেখে মৃণালিনী হাসতে হাসতে বলেন, এবার হল তো! কবির তখন হাত ভরা আলু কড়াইশুঁটির মাখন আর সামনে ছেতরে যাওয়া কড়াই ভর্তি বড়া দেখে কবিও হেসে ফেললেন, হল আর কই! তারপর গম্ভীর হওয়ার ভান করে বললেন, কিন্তু এমন তো হওয়ার কথা ছিল না!
বিভিন্ন বিষয়ে ভিডিয়ো পেতে চ্যানেল হিন্দুস্তানের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন
https://www.youtube.com/channelhindustan
https://www.facebook.com/channelhindustan
Channel Hindustan Channel Hindustan is Bengal’s popular online news portal which offers the latest news