নিজস্ব প্রতিনিধি।
রাজনৈতিক পরামর্শদাতা প্রশান্ত কিশোরের (Prashant Kishore) অতি সক্রিয়তায় বিরক্ত জেডি (ইউ) প্রধান তথা বিহারের মুখ্যমন্ত্রী নীতিশ কুমার (Nitish Kumar)। অতিমাত্রায় বিজেপি বিরোধিতার কারণে পিকের উদ্দেশ্যে তাঁর বার্তা, “রহেঙ্গা তো ঠিক, নেহি রহেঙ্গা তো ঠিক।” যার মানে দাঁড়ায়, “চাইলে থাকুক, না চাইলে চলে যান।” নাগরিক সংশোধনী আইনের বিরুদ্ধে বেশি মাত্রায় সক্রিয় হয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে প্রায় নিত্যদিন টুইট করে চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছেন প্রশান্ত কিশোর। যা একেবারেই নাপসন্দ নীতিশ কুমারের। তাছাড়া বিজেপি বিরোধী দল তৃণমূল, ডিএমকে ও আপের হয়ে বিধানসভা ভোটের রণনীতি সাজাচ্ছেন পিকে। ফলে তিনি মোদি শাহের বিরুদ্ধে তিনি যে সমস্ত টুইট বা বিবৃতি দিয়েছেন, তা তাঁর জেডি (ইউ)-এর পরিপন্থী। এবং প্রশান্ত কিশোরের ব্যবসায়ী স্বার্থ চরিতার্থ করছে।
মঙ্গলবার দলের নেতা, মন্ত্রী, বিধায়কদের নিয়ে এক বৈঠকে বসেন বিহারের মুখ্যমন্ত্রী। বৈঠক শেষে নীতিশ বলেন, “ইতিমধ্যেই অনেক রাজনৈতিক দলের পরামর্শদাতা হিসেবে কাজ করছেন। কিন্তু আমি একটা বিষয় পরিষ্কার করে দিতে চাই, যদি তিনি দলে থাকতে চান তবে দলের গঠনতন্ত্র মেনে চলতে হবে।” তিনি আরও বলেন, “আপনারা জানেন কীভাবে উনি দলে যোগ দিয়েছিলেন? অমিত শাহ বলেছিলেন ওনাকে দলে নিতে। তাঁর এগুলো মনে রাখা উচিত। হতে পারে তিনি দল ছাড়তে চাইছেন।”
প্রসঙ্গত, কেন্দ্রীয় সরকারের শরিক নীতিশ কুমারের দল জেডি (ইউ)। যে দিল্লির নির্বাচনে অরবিন্দ কেজরিওয়ালের হয়ে ঘুঁটি সাজানোর কাজ করছেন পিকে। সেখানেই বিজেপির শরিক হয়ে দুটি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে জেডি (ইউ)। খাতায় কলমে এখনও প্রশান্ত কিশোর নীতিশ কুমারের দলের সহ-সভাপতি। তাঁর উদ্দেশ্য নীতিশের বার্তা, “কেউ চিঠি লিখছে, কেউ টুইট করছে। যে যা পারে করুক। চাইলে নিজেদের পছন্দের দলে গিয়ে যোগ দিতেও পারে।” সম্প্রতি জেডি (ইউ) এক নেতা চিঠি দিয়ে সিএএ নিয়ে নীতিশ কুমারকে বিজেপি বিরোধী অবস্থান নিতে বলেন। পাশাপাশি, একের পর এক টুইট করে বিতর্ক বাড়ান প্রশান্ত কিশোর। ফলে এক প্রকার ক্ষুব্ধ হয়েই দলীয় বৈঠক ডেকে প্রশান্ত কিশোরদের কড়া হুঁশিয়ারি দিলেন বিহারের মুখ্যমন্ত্রী।
Channel Hindustan Channel Hindustan is Bengal’s popular online news portal which offers the latest news