নীল রায়।
“দিদিকে বলো” নিয়ে বাংলার রাজনীতিতে নিজের ইনিংস শুরু করেছেন ভোটগুরু প্রশান্ত কিশোর। তাঁর সংস্থা আইপ্যাক আবার প্রথম দিনেই দাবি করেছে, মাএ ২৪ ঘন্টায় “দিদিকে বলো”-র হেল্পলাইন নম্বরে ফোন করে নিজেদের সমস্যা তথা অসুবিধার কথা জানিয়েছেন এক লাখ মানুষ। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও পিকের এই উদ্যোগে খুশি। কিন্তু, বাংলার রাজনৈতিক মহলের একাংশ মনে করছে বিহারী রাজনৈতিক বিশ্লেষকের এই টোটকা বুমেরাং হতে পারে দলের কাছে। কারণ, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রায়শই দাবি করেন, রাজ্যের মানুষের মৌলিক চাহিদার সঙ্গে যুক্ত দাবিগুলোর ১০০ শতাংশই তিনি পূরণ করে দিয়েছেন। যার অর্থ বাংলার মানুষের অভাব অভিযোগ নেই। কিন্তু, “দিদিকে বলো” উদ্যোগের প্রথমেই বলা হচ্ছে, সমস্যা ও অসুবিধার কথা সরাসরি মুখ্যমন্ত্রীকে জানান। আবার হেল্পলাইন নম্বর চালু হওয়ার ২৪ ঘন্টার মধ্যেই প্রশান্ত কিশোরের সংস্থাই জানিয়ে দিয়েছে এক লাখ সাধারণ মানুষ “দিদিকে বলো”-তে তাদের সুবিধা অসুবিধার জানিয়েছেন। এমন দাবির পরেই মূলত প্রশ্ন উঠছে, “দিদিকে বলো” হেল্পলাইন দিয়ে সমস্যা ও অসুবিধার সমাধান হলে। রাজ্যের মানুষ কী গত ৮ বছরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জমানায় সুবিচার পাননি? সেই কারণেই কী প্রশান্ত কিশোরকে “দিদিকে বলো”-র সূচনা করতে হল?
দ্বিতীয়ত: “দিদিকে বলো”-তে ফোন করেই যদি সমস্যার সমাধান হয়। তাহলে তৃণমূলে টিকিটে জেতা জনপ্রতিনিধিদের প্রয়োজন কী? আগামী নির্বাচনে তৃণমূলের প্রতিনিধিদের ভোট দেওয়ার বদলে হেল্পলাইনে ফোন করে দিয়েই আম জনতার সমস্যার সমাধান হতে পারে। প্রশান্ত কিশোরের এহেন চাপিয়ে দেওয়ার কর্মসূচি নিয়ে ক্ষোভ রয়েছে তৃণমূল কংগ্রেসের বিধায়ক দলে। কিন্তু তৃণমূল নেত্রীর রোষানলে পড়ার ভয়ে প্রশান্তর বিরুদ্ধে কিছু মুখ খুলতে নারাজ তাঁরা। প্রশান্ত কিশোরের সংস্থার পক্ষ থেকে তৃণমূল বিধায়কদের যে লিফলেটটি দেওয়া হয়েছে, সেখানে লেখা হয়েছে “দিদিকে বলো” হেল্পলাইনে ফোন করে মানুষের ৮০% সমস্যার সমাধান করা হবে। সেক্ষেত্রে বিধায়কদের প্রশ্ন যদি হেল্পলাইনে ফোন করে সাধারণ মানুষ ৮০ শতাংশ সুযোগ-সুবিধা পেয়ে যাবেন তাহলে আর আমাদের ভোট দেবেন কেন? তাঁদের মতে, দিদির ভাবমূর্তিকেই চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছেন প্রশান্ত কিশোর!
Channel Hindustan Channel Hindustan is Bengal’s popular online news portal which offers the latest news