নীল রায়:
তৃণমূল নেতাদের স্মৃতিচারণায় এখন উঠে আসছেন মুকুল। যত দিন যাচ্ছে মমতাকে বাদ দিলে তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্ব (খাতায় কলমে শীর্ষ নেতৃত্ব ) বুঝতে পারছেন দলে তাঁরা নাম কা ওয়াস্তে। অনেকটা পাড়ার পুজোর হ্যান্ড বিলে ‘যাদের না হলে চলে না’ শিরোনামে পিঙ্কি, সোনাই, মন্টু, কানু, রিঙ্কি, বাপি, মিষ্টি বাপি, দুষ্টু আর মিষ্টিদের মতো তাঁরা এখন দুধভাত।
তাঁরা অনুধাবন করছেন, টিএমসি-তে এখন আর একটা ‘সি’ বেড়েছে। টিএমসি এখন টিএমসিসি। তৃণমূল কংগ্রেস (কর্পোরেট)। দলনেত্রী কয়েকদিন আগেই বলেছেন, তৃণমূল এখন আধুনিক হয়েছে। চিরকাল মমতার পাশে থাকা নেতারা বুঝতে পারছেন আধুনিকতার ঠেলা কেমন। ঠেলা কেমন নিদারুন, কেমন নিষ্ঠুর। গত দু’বছর ধরে মুকুল রায় বলছেন, দল এখন আর দল নেই। কোম্পানিতে পরিণত হয়েছে। তাঁর কথায় ‘পিসি-ভাইপোর প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানি।’ প্রশান্ত কিশোর আসার পর দলের কোম্পানি-চরিত্র আরও প্রবল হয়েছে। ভাবছেন পিকে, বলছেন পিকে, করছেনও পিকে। তাঁর সঙ্গে যোগাযোগে রয়েছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। আবেগ দিয়ে যে দলের জন্ম, সেই দলে এখন সবই মেকি। সব সাজানো। মুকুল যখন রাত বিরেতে বেরিয়ে দুরের কোনও জেলায় কোনও কর্মীর বাড়ি পৌঁছে যেতেন, সুব্রত বক্সী রান্নার তদারকি করে কর্মীদের অগ্রজের স্নেহে খাওয়াতেন, পার্থ উত্তর থেকে দক্ষিণ বঙ্গ ছুটে বেড়াতেন… সেই সব আজ অতীত। এখন কর্মীদের বাড়ি রাত্রিবাস আর স্বাভাবিক না বরং প্রকাশ্য কৌশল, কিশোরের কৌশল।
এমন সময় মুকুলকে মনে পড়ছে।
মনে পড়ছে, এগারোর সেই দিনটির কথা। যেদিন মমতা মহাকরনে গেলেন পায়ে হেঁটে। সেদিন রাতে কালীঘাটে বাড়িতে ফিরে দিদির ঘরে রাখা মা কালীর ছবি স্পর্শ করে ওঁরা কয়েকজন শপথ করে ছিলেন, একে অপরকে কোনওদিন ছেড়ে যাবেন না। মমতা নাকি বলে ছিলেন, তিনি যদি কোনও ভুলও করেন, তবু তাঁরা যেন তাঁকে ছেড়ে না যান!
নেতৃত্বের সেই ত্রয়ী আজ ভেঙে গেছে।
ভাঙা হাটে স্মৃতির পথ বেয়ে ভেসে উঠছেন মুকুল।
কখনও কখনও, হঠাৎ হঠাৎ!
Channel Hindustan Channel Hindustan is Bengal’s popular online news portal which offers the latest news