নীল রায়।
পিকে কি ঝি কে মেরে বৌকে শিক্ষা দিতে চাইছেন?
যদি তা না হয় তা হলে ভোট কুশলী প্রশান্ত কিশোরের জন্য অপেক্ষা করছে কিঞ্চিৎ কঠিন সময়।
বিষয়টা খুলে বলা দরকার।
সম্প্রতি দক্ষিণ দিনাজপুরের তপন থেকে নির্বাচিত মন্ত্রী বাচ্চু হাঁসদার বাড়ি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষক তথা তৃণমূলের পরামর্শদাতা প্রশান্ত কিশোর (Prashant Kishore)। যা নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া শুরু হয়েছে তৃণমূলেরই অন্দরে। পিকে চোখে বাচ্চুর বাড়িটি তাঁর অসৎ রোজগারের ফসল। বিধায়কের অসৎ রোজগার কি বা কেমন তা বুঝিয়ে বলার অপেক্ষা রাখে না। বাড়ির বহর দেখে পিকের ভিরমি খাওয়ার বার্তা কাগজে কাগজে, চ্যানেলে চ্যানেলে, সোশ্যাল মিডিয়ায় মিডিয়ায় পল্লবিত হয়ে ছড়িয়ে পড়েছে রাজ্যে সর্বত্র। বাচ্চুর সামাজিক সম্মান প্রশ্নের মুখে। বিধায়ক ‘কেস খেয়েছে’ এই এখন তপনের একাংশের মনোভাব। কিন্তু বাস্তবে বাচ্চু হাঁসদার ওই বাড়িটি বহুদিনের। বিধায়ক বা মন্ত্রী হওয়ার পর তা রাতারাতি গড়ে ওঠেনি। সেই বাড়িটিতে দীর্ঘদিন ধরেই বাস করেন তিনি। যদিও, বাড়িটি যে আড়ে বহরে কিছুটা বৃদ্ধি পেয়েছে ২০১৬ সালে তাঁর মন্ত্রী হওয়ার পর, সে কথা প্রকাশ্যেই স্বীকার করে নিয়েছেন বাচ্চু হাঁসদা। এখন প্রশ্ন হল বিধায়ক বা মন্ত্রী হিসেবে তিনি যা বেতন পান তাই দিয়ে বাড়ি একটু বড় করতেও পারেন না!
এদিকে তৃণমূলের (TMC) অন্দরের খবর, প্রশান্ত কিশোরের রাডারে রয়েছেন তৃণমূলের সমস্ত বিধায়ক। বাচ্চু হাঁসদার বাড়ির প্রসঙ্গ উঠতেই তৃণমূলের অন্য বিধায়করা ফুঁসে উঠছেন। এ প্রসঙ্গে এক বর্ষীয়ান তৃণমূল বিধায়কের বক্তব্য, “আমাদের বাড়িগুলো তো আর তৃণমূল ক্ষমতায় আসার পর তৈরি হয়নি। যে সেগুলোর দিকে নজর দিয়ে আমাদের রাজনৈতিক জীবন ব্যাখ্যা করতে হবে।”
আগামী বছর পশ্চিমবঙ্গে সাধারন বিধানসভা নির্বাচন। সেই ভোটের বৈতরণী পার করতেই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পরামর্শদাতা হিসেবে নিয়ে এসেছেন প্রশান্ত কিশোরকে। লক্ষ্য সামনে রেখেই প্রথমে ‘দিদিকে বলো’ কর্মসূচি করার পাশাপাশি নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের জীবনযাত্রার ওপর রাশ টানতে চাইছেন পিকে। কিন্তু, প্রকাশ্যে কিছু না বললেও বিষয়টি নিয়ে বেজায় খাপ্পা তৃণমূলের বিধায়ক দল। দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) রোষানলে পড়ার ভয়েই মুখ খুলতে নারাজ সকলে।
ব্যক্তিগত কথোপকথনে আর এক বিধায়কের বক্তব্য, মুকুল রায়ের মত মামলা লড়ার পয়সা থাকলে আমরাও বেরিয়ে যেতাম।” তবে এর চেয়েও বিষাক্ত মন্তব্য উঠে আসছে এই বিধায়কদেরই মুখে। বলছেন, “বাচ্চু হাঁসদার বাড়ি পিকের চোখে পড়ল আর অভিষেকের বাড়ি নজর এড়িয়ে গেল? কবে তৈরি হয়েছে ভাইপোর এই প্রাসাদ, সে কথা জানতে চেয়েছেন পিকে?” এরই মধ্যে অন্য কথাও বলছেন কেউ কেউ। তাঁদের মতে, পিকে হয়ত বাচ্চু হাঁসদার বাড়ির প্রসঙ্গ তুলে আদতে ভাইপোকেই বার্তা দিতে চাইছেন। তবে এমন আশাবাদীর সংখ্যা নেহাত কম।
এরই মধ্যে মুখ্যমন্ত্রী স্থানীয় নেতাদের বিশ্বাস না করার নিদান অবস্থা আরও শোচনীয় করে তুলেছে। মামলার ভয় না থাকলে কিংবা বিধায়কদের পকেটে মামলা চালানোর টাকা মজুত থাকলে, ঠিক কি যে হত তা এখনই বলা যাচ্ছে না!
Channel Hindustan Channel Hindustan is Bengal’s popular online news portal which offers the latest news