নীল রায়।
এক প্রকার অন্ধকারে রেখেই কলকাতা চলচ্চিত্র উৎসব কমিটির চেয়ারম্যান পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে অভিনেতা প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়। কোনও কিছুই না জানিয়ে সরকার পক্ষ কমিটির চেয়ারম্যান পদে বসিয়ে দিয়েছে মাএ বছর দশেক আগে টালিগঞ্জ ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে আসা যুবা চিত্রপরিচালক রাজ চক্রবর্তীকে। এই ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে প্রসঙ্গে প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় বলেন, ‘‘আমি খুব দুঃখ পেয়েছি। আমাকে যে পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, তা অফিশিয়ালি জানানো পর্যন্ত হয়নি। আমি জেনেছি মিডিয়ার কাছ থেকে। তবে এ বছর আমি সত্যিই খুব ব্যস্ত। কোনও দায়িত্ব নিলে, তার সঙ্গে জাস্টিস করতে পারব না। তাই অব্যাহতি চেয়েছি। তবে রাজের প্রতি আমার পূর্ণ সহযোগিতা রয়েছে। ওকে বলেছি, ওর প্রয়োজনে সব সময় পাশে থাকব।’’
সান্ত্বনা পুরস্কার হিসেবে এ্যাডভাইজারী কমিটি করে সেখানে সদস্য হিসেবে রাখা হয়েছে প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়কে। কিন্তু তিনি সেই এ্যাডভাইজারী কমিটিতে থাকবেন না বলেও ইতিমধ্যেই জানিয়ে দিয়েছেন। ঘটনাচক্রে বিজেপি নেতা মুকুল রায়ের সঙ্গে তার ঘনিষ্ট যোগাযোগের কথা জানতে পারে তৃণমূল নেতৃত্ব। তারপর থেকেই শুরু হয় বাংলা সিনেমা সুপারস্টারকে ‘কলকাতা ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল’ উৎসব কমিটির চেয়ারম্যান পদ থেকে সরানো ছক। সরকারিভাবে এখনও কিছু না জানানো হলেও প্রসেনজিতের বদলে রাজকে বসানোর সিদ্ধান্তে যে সীলমোহর পড়ে গিয়েছে তা জানেন নবান্নের প্রশাসনিক কর্তা ব্যক্তিরা।
সম্প্রতি এক ইংরেজি দৈনিককে দেওয়া সাক্ষাৎকারে প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় জানিয়েছিলেন কলকাতা থেকে দিল্লিতে বিমানযাত্রার সময় বিজেপি নেতা মুকুল রায়ের সঙ্গে তাঁর দেখা হয়েছিল। এবং দুজনে পাশাপাশি বসেই দিল্লিতে গিয়ে ছিলেন। কিন্তু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের কাছে খবর ছিল মুকুল রায়ের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগে রয়েছেন প্রসেনজিৎ। সম্প্রতি এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট জেরার মুখোমুখি হন এই অভিনেতা। ইডির জেরা থেকে বাঁচতেই নাকি তিনি মুকুলের দ্বারস্থ হয়েছিলেন। দুজনের মধ্যে নাকি একদফায় ৭ ঘণ্টা বৈঠকের কথা হবে জেনেছিল সরকার পক্ষ। তারপরই এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। কিন্তু, চেয়ারম্যান পদ থেকে সরানো হলেও তাঁকে না জানানোয় আর কমিটির কোনও নামকাওয়াস্তে থাকতেও নারাজ তিনি।
Channel Hindustan Channel Hindustan is Bengal’s popular online news portal which offers the latest news