অচিন্ত্য বিশ্বাস : 
৭ জুন আধুনিক ভারত ইতিহাসে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দিন বলেছেন ভারতীয় রাজনীতির পিতামহ ভীষ্ম লালকৃষ্ণ আদবানী ৷ নাগপুরে ‘রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘে’র শিক্ষান্ত অধিবেশনে ভারতের প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি মাননীয় ড. প্রণব কুমার মুখোপাধ্যায়কে আমন্ত্রণ জানিয়ে সঙ্ঘপ্রধান সরসঞ্চালক ড. মোহন ভাগবত একটি নতুন যুগের সূচনা করলেন বলে অভিমত দিয়েছেন শ্রীআদবানী মহাশয়। প্রণববাবু আমন্ত্রণ স্বীকার করে যেমন সহিষ্ণুতার একটি প্রতীক নির্মাণ করলেন তেমনই ভাগবতজীও একটি সুস্পষ্ট বার্তা ছড়িয়ে দিলেন ৷ ভারতবর্ষের জাতীয়তাবাদকে ব্যাখ্যানের দু’টি প্রস্থান : ১. রবীন্দ্রনাথ গাঁধীজির দ্বারা উত্থাপিত, স্বাধীনতার পর যা হয়েছে নেহরুর দ্বারা লালিত আর ক্রমে ক্রমে মূলচ্যুত, বিকৃত, শক্তিহীন। ২.স্বামী বিবেকান্দ-বঙ্কিমচন্দ্র-ঋষি অরবিন্দ প্রবর্তিত ‘হিন্দুু জাতীয়তাবাদ’। এই দুইয়ের মহামিলন ঘটল কি না সে বিচার করবে আগামী দিন ৷ সঙ্ঘ এই অবসরটি ঘটিয়ে দেশকে একটি নতুন এজেণ্ডা তুলে দিল ৷
এতদিন সঙ্ঘ ছিল অচ্ছুতের মত ৷ অপ্রমাণিত অভিযোগ আর অনর্থক সংশয় দূর হল ৷ ভারতবর্ষের মূল শক্তি তার বিতর্কমূলক পদ্ধতি ৷ দার্শনিক আলোচনায় পূর্ব পক্ষের যুক্তি বলে নিই আমরা ৷ প্রণববাবুর উপস্থিতি এইরকম পরিসর তৈরি করল। আমন্ত্রক আমন্ত্রিত উভয়ই তাই স্বাগত ৷ বিতণ্ডা নয় বাদ-বিবাদ-সংবাদের এই ধারাবাহিকতা এল। আগামীদিন বলবে এই বার্তা বিনিময় কতটা জরুরী ছিল।
সঙ্ঘ দেশব্যাপী দেশপ্রেমকে ছড়িয়ে দিতে চায় ৷ ‘শকহুনদল’ এদেশের মাটিতে মিশেছে।কিন্তু ‘পাঠান মোগল’? এই প্রশ্ন সরিয়ে রেখে সঙ্ঘ মুসলমানদের ‘মুহম্মদী হিন্দু’ বলতে চেয়েছে ৷ হিন্দু শব্দ তো দেশবাচক! এই পুণ্যভূমি ভারতবর্ষকে যবন আর আরবী বণিকরা হিন্দুকুশ পর্বত পার হয়ে পূর্বের সিন্ধু নদ বিধৌত অঞ্চল আর পূর্ব-দক্ষিণের সবটুকুকে বলত হিন্দুস্তান ৷ হিন্দু তাই ভারতবাসী সবাই ৷ এই দেশ, এই দেশের সংস্কৃতিকে নিজের বলে জানলে, অহঙ্কার করলেই সে হিন্দু ৷
রবীন্দ্র-কবিতা থেকে উদ্ধৃতি দিয়ে মাননীয় প্রণব মুখোপাধ্যায় ‘কার আহ্বানে’ ‘দুর্বার স্রোতে’ আসা মানব জাতির উপস্থিতি আর মিলেমিশে যাওয়ার কথা বলেছেন ৷ কিন্তু এই ‘ভারততীর্থকে কেউ যদি কলুষিত করে? যদি ভেঙে ফেলে দেবালয়, মূর্তি? কি করতে হবে? এই বিষয়ে খোলামনে আলোচনা শুরু করে সঙ্ঘ যে পরিসর দিয়েছে তা অভাবিতপূর্ব ৷ আরও ভালো লেগেছে ড. মুখোপাধ্যায় এই আলোচনার দ্বারমুখটি খুলে দিয়েছেন ৷
সঙ্ঘশক্তি এই নতুন বিশ্ব ব্যবস্থার প্রাণ ৷ ভারত আজ সঙ্ঘশক্তিকে নতুন পরিবেশে ব্যবহার করতে চাইছে ৷ এম.সি. চাগলা বলতেন তিনি ধর্মে মুসলমান কিন্তু জাতিগতভাবে হিন্দু ! মনস্বী আবদুল কালাম এই পর্যায়ের মানুষ ৷ নজরুল ইসলাম এই সাংস্কৃতিক হিন্দুত্বকে স্বীকার করেছেন ৷ অন্যপক্ষে এমন বহু ‘নামে হিন্দু’ কিন্তু কাজে কালাপাহাড়দের আমরা চারপাশে দেখতে পাচ্ছি না কি? আজকের মহাভারতে সমুদ্র-মন্থন শুরু হয়েছে ৷ জাতীয়তাবাদকে সামনে রেখে এই argumentative ভারতবর্ষকে তুলে আনতে সাহায্য করলেন মাননীয় প্রণব মুখোপাধ্যায় ও মোহন ভাগবতজী ৷
হে তর্কপ্রিয় ভারত, এর থেকে সরে গিয়ে, পিঠ মুড়ে ইতালি, চীন বা ভেনেজুয়েলার দিকে তাকিয়ে কী লাভ!
(লেখক গৌড়বঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন উপাচার্য্য)
মতামত লেখকের ব্যক্তিগত
বিভিন্ন বিষয়ে ভিডিয়ো পেতে চ্যানেল হিন্দুস্তানের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন
https://www.youtube.com/channelhindustan
https://www.facebook.com/channelhindustan
Channel Hindustan Channel Hindustan is Bengal’s popular online news portal which offers the latest news