রণবীর ভট্টাচার্য
আজ বিজেপির দ্বিতীয় প্রজন্মের অন্যতম সেরা নেতা প্রমোদ বেঙ্কটেশ মহাজনের ১৪তম মৃত্যু দিবস। নিজের ভাই প্রবীণ মহাজনের বন্দুকের গুলি যবনিকা টেনে দিয়েছিল গেরুয়া দলের অন্যতম সেরা স্ট্রাটেজিস্টের জীবনে। দেড় দশক আগে প্রমোদ বাবু ছিলেন মহারাষ্ট্র বিজেপির (BJP) সেরা পোস্টার বয়, অনেকটা যেন পশ্চিমবঙ্গের বাম আমলের প্রমোদ দাশগুপ্তের মত, হয়তো বা তার চেয়েও বেশি, যার সরাসরি যোগাযোগ ছিল তদানীন্তন প্রধানমন্ত্রী অটল বিহারী বাজপেয়ি (Atal Bihari Bajypayee) অবধি। একাধিকবার কেন্দ্রীয় মন্ত্রী হয়েছেন, সংগঠন সামলেছেন এবং অনেকেই হয়তো ভুলে গেছেন যে নব্বইয়ের দশকের ভারতীয় রাজনীতির দিক বদলে দেওয়া আডবাণীর রথ যাত্রার আয়োজনে তিনি বড় ভূমিকা পালন করেছিলেন। যদি তার নিজের রাজ্যের কথা বলতে হয়, তাহলে বলতেই হয় যে মহারাষ্ট্র রাজনীতিতে তখনও স্বাবলম্বী হয়নি বিজেপি, কিন্তু বিজেপি- শিবসেনা (Shivsena) সম্পর্ক অটুট ছিল। ২০২০ সালে তাকিয়ে যেন সেই সম্পর্কের কথা ভাবলে অসম্ভব মনে হয় সব!
আজ অমিত শাহ যেই ভূমিকা পালন করেন, দুই দশক আগে সেই কাজ দাপটের সাথে করতেন প্রমোদ মহাজন (Pramod Mahajan)। সাংগঠনিক দিক থেকে বিজেপির সামগ্রিক ভাবনা চিন্তা বদলেছে, আজ মোদী সরকারকে সেই মিলিজুলি বাজপেয়ি সরকারের মতো কোন সিদ্ধান্তে শিলমোহর দেওয়ার আগে সবার সমর্থন জোগাড় করার দায় নেই। কিন্তু এই পরিবর্তন জোট রাজনীতির স্বাভাবিক নিয়মকে বদল করেছে। তার মধ্যে বিজেপি – শিবসেনার বিচ্ছেদ সবচেয়ে অবাক হওয়ার মতো। যখন দুই দলে প্রমোদ মহাজন আর বালাসাহেব ঠাকরের মতো নেতারা জীবিত ছিলেন, এই বিচ্ছেদের কথা ভাবা অসম্ভব ছিল। আর এখন উদ্ধব ঠাকরে মুখ্যমন্ত্রী, যিনি নিজের রাজ্যে করোনা পর্ব সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন আর রাজ্যের বিরোধী দিকে রয়েছে বিজেপি। তথাকথিত হিন্দুত্ব রাজনীতি নির্ভর দলের এই দূরে সরে যাওয়া মনে করিয়ে দেয় প্রমোদ মহাজনের মত মানুষের গুরুত্ব।
রাজনীতিতে সংখ্যাই কি শেষ কথা? বঙ্গে সিপিএম এই সংখ্যার বড়াই করে মিশে গেছে আলমারির একজোট করে রাখা লাল পতাকার ভিড়ে। প্রমোদ মহাজন – গোপীনাথ মুণ্ডে জুটি কিন্তু সব সময়ে শিবসেনাকে নিয়ে চলার দিকে জোর দিতেন। কিন্তু এই দুই প্রয়াত রাজনীতিবিদের প্রয়াণের পর বিজেপির স্ট্র্যাটেজি অনেকটাই বদলেছে মহারাষ্ট্রে। তার ফলে একদিকে যেমন একদফা বিজেপির শাসন দেখেছে রাজ্য আবার এখন শিবসেনার শাসন দেখছে মহারাষ্ট্র। অনেকেই হয়তো বলবেন যে দুটো রাজনৈতিক দলেই পরিবর্তন এসেছে অনেক শেষ এক দশকে। কিন্তু খতিয়ে দেখলে বোঝা যাবে, বিজেপি কেন্দ্রে যেভাবে একের পর এক নির্বাচনী ইস্তেহারের প্রতিশ্রুতি রেখেছে, শিবসেনা কিন্তু সেখানে আদর্শের থেকে সরে এসেছে। নরেন্দ্র মোদীর শাসন-কালে ৩৭০ ধারা বিলোপ, তিন তালাক বিধি বাতিল, রামমন্দির সমস্যার সমাধান – শিবসেনা কিন্তু অস্তিত্বের সংকটে ভুগছে।
বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি দেখলে মনে হয় অদূর ভবিষ্যতে বিজেপি – শিবসেনার কাছাকাছি আসা খুব সহজ নয়। যেভাবে প্রমোদ মহাজন – গোপীনাথ মুণ্ডে জুটি শিবসেনার কাছে আসতে পেরেছিলেন বালাসাহেবের আমলে, দেবেন্দ্র ফডনবীশ – চন্দ্রকান্ত পাটিল সেই ভাবে রাজনৈতিক দৌত্যে সফল হতে পারেননি। তবে
উদ্ধব ঠাকরে ও তার পুত্র আদিত্য ঠাকরে এই ক্ষেত্রে অনেকটা দায়ী তাদের অনমনীয় ভাবনা চিন্তার জন্যে। আপাত দৃষ্টিতে মনে হয়, এর ফলে শিবসেনার ক্ষতি বেশি। তবে বর্তমানে কেন্দ্রে বিজেপি মুখ্যমন্ত্রী উদ্ধব ঠাকরেকে উদ্ভুত সাংবিধানিক সংকট থেকে বাঁচতে লাইফ লাইন দিয়েছেন, যার ফলে তার গদি নিয়ে এখনই সংকট নেই। কিন্তু প্রমোদ মহাজন বেঁচে থাকলে, বিজেপির অন্যতম পুরনো শরিক দলের সাথে সম্পর্কের অবনতি হয়তো হতো না।
ভবিষ্যত বলবে, রাজনৈতিক মধ্যস্থতার দিক থেকে প্রমোদ মহাজনকে বর্তমান বিজেপি দলের অন্যতম কান্ডারী অমিত শাহ (Amit Shah) ছাপিয়ে যেতে পেরেছেন কিনা!
Channel Hindustan Channel Hindustan is Bengal’s popular online news portal which offers the latest news