Breaking News
Home / TRENDING / প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতিদের সানাইওলার কপাল, দেবক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিশেষ কলাম

প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতিদের সানাইওলার কপাল, দেবক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিশেষ কলাম

দেবক বন্দ্যোপাধ্যায়:

সানাইবাদকদের সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গ কংগ্রেসের সভাপতিদের একটি অতি জাগতিক সম্পর্ক আছে।
শুক্রবার, অর্থাৎ মমতার ব্রিগেডের আগের দিন, সোমেন মিত্রকে দেখে সে কথা আরও একবার টের পাওয়া গেল।
প্রশ্ন হল সানাইবাদক কেন? তাহলে সানাইবাদকের দুঃখের গল্পটা ছোট করে জেনে রাখা দরকার।
রাজার মেয়ের বিয়ে। সব রকম বাদ্যযন্ত্র এসেছে। সুর ও তালে প্রাসাদ সহ গোটা রাজধানী সরগরম। এমন সময় পাত্রের পিতা রাজার কানে কানে বলে গেলেন, মহারাজ বাদ্যযন্ত্রের ব্যবস্থা বেড়ে হয়েছে, খাসা হয়েছে। ব্যস, রাজা তো খুশিতে ডগমগ। ঘোষণা করলেন, যন্ত্রীদের তাদের বাদ্যযন্ত্র ভ’রে মোহর ইনাম দেওয়া হোক। ঢোলকওলা ঢোলক ভ’রে, বীণাবাদক বীণা ভ’রে মোহর পেল। তবলিয়া তবলা বাঁয়া মিলিয়ে পেল ডবল! কিন্তু সানাইওলার বেলায় একটি মোহরেই সানাইয়ের মুখ গেল আটকে, আর ব্যজার মুখে বাড়ি ফিরল বেচারা। এরপর অষ্টমঙ্গলায় বর-কণে এল জোড়ে। কথায় কথায় মেয়ে বলল, তার শাশুড়ি বলেছেন, সেদিনের বাজনা এক্কেবারে ভাল হয়নি। ব্যস, আর যায় কোথায়! সব বাদকদের ধ’রে আনার হুকুম হল। শাস্তি বিধান হল, তাদের বাদ্যযন্ত্র তাদেরই পেটে ঢুকিয়ে দিতে হবে। ঢোলক-তবলা-বীণার মতো ভোঁতা বাজনা পেটে ঢুকল না ঠিকই কিন্তু সানাই তো পড়পড় করে ঢুকে গেল।
এই হল সানাইবাদকের কপাল। ঠিক যে কপালটি শেষ কয়েক দশক ধ’রে পশ্চিমবঙ্গ প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতিরা হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছেন। তিন দশকের বেশি সময় ধরে বামেদের ছেড়ে খেলেছে ১০ জনপথ, থুড়ি কংগ্রেস। আর এখন মমতাকে।
মমতার সভায় প্রতিনিধি পাঠাবার কথা খবরে প্রকাশ পেতেই একপ্রকার গোদের উদ্ভব হয়েছে কংগ্রেসে, নিচুতলার নেতা-কর্মীরা প্রকাশ্যেই সরব হচ্ছেন দিল্লির বিরুদ্ধে। এরপর গোদের ওপর বিষফোঁড়ার মতো রাহুলের চিঠি এসেছে ‘আজ বিকেলের ডাকে’। চিঠিতে বা বার্তায় রাহুল ভারত ভাবনা নিয়ে তাঁর বা তাঁর দলের দার্শনিক অবস্থানের কথা যেমন ছুঁয়ে গেছেন আবার ভারতআত্মার কথাও বলেছেন তাঁর মতো করে। এ দেশের একটি বড় অংশের প্রচলিত ধারণা মতো বিজেপিকে সাম্প্রদায়িকতার দোষে দুষ্ট করেছেন বিশেষ কোনও যুক্তির অবতারণা না করেই। সে যাই হোক, চিঠির শেষে তাঁর ‘মমতাদি’কে সমর্থনের বার্তা দিয়েছেন।
প্রদেশ কংগ্রেস তৃণমূলের সঙ্গে বিজেপির বোঝাপড়ার যে তত্ত্ব বেশ কয়েকদিন ধ’রে বলে আসছে সে গুড়ে বালি ঢেলে দিলেন দলেরই সর্বভারতীয় সর্বভারতীয় সভাপতি স্বয়ং। সোমেন উত্তর প্রদেশের উদাহরণ দিয়েছেন, বলেছেন সেখানে কংগ্রেস জোটে নেই তবু বিজেপি বিরোধী লড়াইয়ে মায়া-অখিলেশকে সমর্থন করেছে।
তবে চিঁড়ে কী স্তোক বাক্যে ভেজে!
ভিজুক বা না ভিজুক, ক্ষোভের আগুন ইতিমধ্যেই লেগেছে দলের নিচু তলায়।

Spread the love

Check Also

Big Breaking: হুমায়ুনকে ওয়েসির ‘ফিলার,’ কী উত্তর দিলেন তৃণমূলের বিধায়ক

দেবক বন্দ্যোপাধ্যায় হুমায়ুনকে ওয়েসির ফোন! দল তাঁকে শো-কজ করেছে। তিনি সেই শো-কজের উত্তরও দিয়েছেন। তাতেও …

রাহুলের পাইলট প্রোজেক্ট, মুর্শিদাবাদ কংগ্রেসে আধিপত্য হারাতে পারেন অধীর

দেবক বন্দ্যোপাধ্যায় পশ্চিমবঙ্গ নিয়ে রাহুল গান্ধির নতুন উদ্যোগে মুর্শিদাবাদের কংগ্রেস রাজনীতিতে খর্ব হতে পারে অধীর …

আমি আসছি! নাম না করে শুভেন্দুকে শাসালেন আনিসুর

চ্যানেল হিন্দুস্থান, নিউজ ডেস্ক: নাম না করে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারিকে শাসালেন আনিসুর রহমান। একদা …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *