চ্যানেল হিন্দুস্তান ব্যুরো।
সিইএসসির (CESE) সঙ্গে যুক্ত না থেকেও আমফান ঘূর্ণিঝড়ের পর শহর কলকাতা বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়ায় তাঁকেই অনেকে কাঠগড়ায় তুলেছিলেন। রবিবার রাসবিহারী বিধানসভা কেন্দ্রের নিজের দলীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে সেই প্রসঙ্গেই একঝাঁক প্রশ্নের উত্তর দিলেন রাজ্যের বিদ্যুৎমন্ত্রী শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় (Shovandeb Chatterjee)। শহর কলকাতা বিদ্যুৎহীন থাকার পাশাপাশি ঘূর্ণিঝড়ে উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা, হাওড়া, হুগলিতেই বিদ্যুৎ পরিষেবা বিচ্ছিন্ন হয়েছিল। সেই সমস্ত প্রশ্নের মুখোমুখি হলেন তিনি। বিদ্যুৎ পর্ষদ যে এখনও পরিষেবা সচল করতে কী কী পদক্ষেপ নিচ্ছে, তাও স্পষ্ট করেছেন এই বর্ষীয়ান নেতা।
বেসরকারি সংস্থা ‘ক্যালকাটা ইলেকট্রিক সাপ্লাই কর্পোরেশন’-এর অপেশাদার কাজকর্মে সরকারপক্ষ যে বিরক্ত তাও এদিন প্রকাশ পেয়েছে বিদ্যুৎমন্ত্রীর মন্তব্যে। শোভনদেব বলেন, “সিইএসসির কাজে খুব একটা খুশি হতে পারিনি। সাধারণ বহু মানুষ সিইএসসি নিয়ে আমার কাছে অভিযোগ করেছেন। আমি এ বিষয়ে কথা বলেছি সিইএসই কর্তৃপক্ষের সঙ্গে। রাজ্যে কোনও মানুষ যদি বিদ্যুৎ সংক্রান্ত সমস্যা নিয়ে আমাকে কিছু জানাতে চায়, তাহলে আমি সেই সমস্যার সমাধানের চেষ্টা করব।” তিনি আরও বলেন, “সিইএসসি হয়তো ভেবেছিল প্রত্যেকটি ঝড়ের মতো এই ঝড়ও কলকাতাকে এড়িয়ে যাবে। কিন্তু তেমনটা হয়নি। এবং সেই পরিস্থিতিতে শ্রমিক অপ্রতুলতার কারণে তারা পরিষেবা দিতে পারেনি। কিন্তু মানুষ পরিষেবা পায়নি, আমাদের কাছে সেটাই বড়। আগামী দিনে যাতে এমন পরিস্থিতি না হয় সেই বিষয়ে সিএইসসির কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলব।” লকডাউন পরিস্থিতিতেও সাধারণ মানুষের বাড়িতে অসম্ভব বেশি বিল পাঠানোর অভিযোগ উঠেছে সিইএসসি-র বিরুদ্ধে। প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেছেন, “আমার সঙ্গে তাদের কথা হয়েছে। তাঁরা বলেছেন লকডাউনের কারণে সঠিক ভাবে মিটার রিডিং করা যায়নি। তবে পরবর্তী সময়ে তারা অ্যাডজাস্ট করে দেবে।”
সুন্দরবনের (Sundarban) বহু জায়গায় এখনও বিদ্যুৎহীন রয়েছে। ঘূর্ণিঝড়ের পর প্রায় দুই সপ্তাহ কেটে গেল এমন পরিস্থিতি প্রসঙ্গে বিদ্যুৎমন্ত্রী বলেছেন, “ঝড়ের পর কলকাতা সহ মেদিনীপুর, হাওড়া, হুগলি যে সমস্ত জায়গায় বিদ্যুৎ নিয়ে সমস্যা ছিল তার ৯৯ শতাংশই মিটিয়ে দিতে পেরেছি। কিন্তু সুন্দরবনের এমন কিছু এলাকা রয়েছে যেখানে বুক সমান জল রয়েছে।” তিনি আরও বলেন, “বুক সমান থাকায় যেসব জায়গায় খুঁটি পড়ে গিয়েছে সেখানে নতুন করে খুঁটি নাড়ানো পর্যন্ত বিদ্যুৎ দেওয়া যাবে না। তাই সেই জল দাম আর অপেক্ষা আমাদের করতেই হবে।”
Channel Hindustan Channel Hindustan is Bengal’s popular online news portal which offers the latest news