নীল রায়।
আগামী সোমবার মুসলিম ধর্মাবলম্বীদের পবিত্র ঈদ-উল-জোহা! কাশ্মীর থেকে ধারা ৩০৭ বাতিলের পর কাশ্মীরবাসীকে শান্তিতে ইদ পালনের কথা বললেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। বৃহস্পতিবার পূর্বঘোষণা অনুযায়ী, ঠিক রাত আটটায় জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণ শুরু করেন প্রধানমন্ত্রী ৷ তিনি সকলকে ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়ে স্পষ্ট বলেন, ‘কাশ্মীর উপত্যকায় ঈদ পালনে আর কোনও বাধা থাকবে না, আতঙ্ক থাকবে না৷ নিশ্চিন্তে নিজেদের ঘরে ঈদ পালন করুন৷ সরকার নিরাপত্তার সমস্ত ব্যবস্থা করবে৷ কাশ্মীর থেকে ৩৭০ ধারা বিলুপ্তির পর প্রথম জাতির উদ্দেশে ভাষণে অখণ্ডতার বার্তা দিতে গিয়ে এমনই আবেগপ্রবণ হয়ে পড়লেন প্রধানমন্ত্রী৷ তিনি বলেন, “৩৭০ ধারা, ৩৫ এ ধারা জম্মু-কাশ্মীরকে বন্দি করে রেখেছিল আতঙ্ক, সন্ত্রাসের অন্ধকূপে৷ তা বিলুপ্ত করে জম্মু-কাশ্মীর ও লাদাখকে দীর্ঘ বঞ্চনা থেকে মুক্ত করেছি৷সর্দার প্যাটেল, শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়, অটলজি এবং দেশবাসীর স্বপ্ন পূরণ করেছি৷ নতুন যুগের সূচনা হয়েছে৷ এখন দেশের সব নাগরিকের অধিকার, দায়িত্ব সমান৷”
এদিনের ভাষণে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল হিসেবে জম্মু-কাশ্মীর এবং লাদাখের প্রশাসনিক বিন্যাস কেমন হবে৷ জম্মু-কাশ্মীরে আলাদা বিধানসভা এবং দমন-দিউর মতো লাদাখে সরাসরি দিল্লির নিয়ন্ত্রণ থাকবে।” তিনি আরও বলেন, “আপনাদের কাছে আমার বিনীত অনুরোধ, দেশের স্বার্থে সবটা বিবেচনা করুন৷ নিছক বিরোধিতার জন্য জম্মু-কাশ্মীর নিয়ে রাজনীতি করবেন না৷” সেখানকার দীর্ঘদিনের পরিবেশ পালটে দেওয়ার জন্য সমগ্র দেশবাসীকে ধন্যবাদ জানান প্রধানমন্ত্রী৷ তিনি বলেন “কিছু বিষয় মনে স্থায়ী ছাপ রেখে যায়৷ ৩৭০ ধারার জন্য জম্মু-কাশ্মীরের বাচ্চারা কত অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছিল৷ তা নিয়ে কেউ কোনও আলোচনাই করেনি৷ মনে হত, এটা পালটানো দরকার৷ সকলের সহযোগিতায় তা করতে পেরেছি৷ জম্মু-কাশ্মীর, লাদাখ আমাদের ভাইবোন৷ এবার থেকে তাঁরা সমস্ত প্রকল্পের সুবিধা পাবেন৷”
কাশ্মীরের আইন শৃঙ্খলা জনিত অবস্থার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “কোনও আইনশৃঙ্খলা না থাকায় কাশ্মীরিদের ইচ্ছেমতো সন্ত্রাসের কাজে ব্যবহার করত পাকিস্তান৷ এবার থেকে তা আটকানো যাবে৷ খুব ভাবনাচিন্তা করে জম্মু-কাশ্মীরকে সরাসরি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে৷” নতুন গঠিত কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে কর্মসংস্থানের সুযোগ, শিক্ষার সুযোগ বাড়বে বলে আশ্বাস দেন মোদি ৷
ভারতীয় সিনে জগৎকেও কাশ্মীর নিয়ে নতুন করে ভাবনার কথা বলেন মোদি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, “একটা সময় ছিল যখন ভারতের প্রায় সব ছবিরই শ্যুটিং হতো কাশ্মীরে। কিন্তু এখন আর সে সব হয় না। বাস্তবেও বিষয়টা ঠিক এমনই। আগে যে ভাবে বলিউডের ছবিতে কাশ্মীরের নৈসর্গিক সৌন্দর্য দেখা যেত, হালফিলে তেমন নিদর্শন কই। অশান্ত পরিবেশ এবং নিরাপত্তার খাতিরে বরং পরিচালকরা শ্যুটিং রাখতেই চান না জম্মু-কাশ্মীরে। পিছিয়ে যান কলাকুশলীরাও।” তবে ৩৭০ ধারা বিলোপের পর এই অবস্থার পরিবর্তন হবে বলেই আশা প্রধানমন্ত্রীর। মোদি বলেন, “বলিউড ছাড়াও তামিল এবং তেলুগু ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির কাছে আমার অনুরোধ সকলে কাশ্মীরে শ্যুটিংয়ের জন্য এগিয়ে আসুন। শুধু ছবির শ্যুটিং নয়, এখানে থিয়েটার করা নিয়েও ভাবুন। আপনারা যদি এগিয়ে আসেন, তাহলেই সারা দুনিয়া ছুটে আসবে কাশ্মীরে ছবির শ্যুটিং করতে। বিনোদন জগত কাশ্মীরের আম জনতার জীবনে এক নতুন দিগন্ত খুলে দেবে। যুব সমাজের কাছে উপার্জনের অনেক নতুন নতুন রাস্তা খুলে যাবে। বহু লোকের চাকরি হবে। সব মিলিয়ে উন্নতি হবে কাশ্মীরের আম জনতার।”
Channel Hindustan Channel Hindustan is Bengal’s popular online news portal which offers the latest news