তরুণ সেন
ক’দিন আগে ইয়েতি এসে বরফের ওপর পায়ের ছাপ রেখে গেল। তার ছবি তুলেছেন সেনা, তাই আস্তিকদের হররা হল। আছে আছে আরো এক অবাক জীবন! কিন্তু নাস্তিকের মনে প্রশ্ন জাগল, বার বার ইয়েতিরা শুধুই পায়ের ছাপ রেখে যায় কেন? দেহ রাখলেও না হয় প্রমাণ পেতো চিত্তির! ব্যাপারটায় ভাইরাল ভাইরাল সিম্পটম যেই দেখা দিল, অমনি ফণা তুলে ধেয়ে এলো ফণী। ঝাপটা দিয়ে ঝড়ো ব্যাটিং! হেডলাইন হয়ে গেল! পায়ের ছাপে ছাই পড়ল। ভাগ্যিস এখনো ভোট ভগবান নকুলদানা খাচ্ছেন, তাই প্রশাসন থেকে পুরুত, পুষ্পাঞ্জলিদাতার মতোই ঝট করে তৎপর! তাই, ঘটনা ঘটবার আগেই মানুষ ত্রাণ নিয়ে দেখা পেলেন ত্রাতার। এমন সৌভাগ্য আম আদমির জীবনে গণতন্ত্রের শিয়রে শমন না হলে চট করে আসে না। তবু যা হোক এরই জন্য, ওডিশায় ও বাংলায় ফণীর ছোবলে কয়েকজনের মৃত্যু হলেও ব্যাপক জীবনহানি নিয়ন্ত্রিত হল। অধিকাংশ মানুষকেই নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে ফেলা সম্ভব হল। সম্পত্তি নষ্ট হলে তা অর্জন করা যায় পুনরায়, কিন্তু জীবন গেলে তো তা চলেই যায়। এই তৎপরতাকে কুর্নিশ জানাই। তবু বলি, প্রশাসন সারা বছর এতটা তৎপর থাকলে তাঁদের আজ সান-ক্রিমের খরচ বাড়িয়ে ভোট মেগে বেড়াতে হত না। আসলে, সবই তাঁর ইচ্ছে…
‘তিনি’ হলেন ঈশ্বর। ওডিশায় জগন্নাথ। তাঁকে নিয়েও গতকাল, অর্থাৎ ২ মে ‘র সকাল থেকে ভক্ত মহলের দুশ্চিন্তা কম ছিল না। ২০০ কিলোমিটার বেগে আছড়ে পড়বে ভয়ানক ও বিধ্বংসী ফণী, এই সংবাদ আস্তিকের ঘাড়েও নাস্তিকের ভুত চাপিয়ে ছাড়ল! বাতাসের এই বেগ মন্দির নষ্ট করে ফেলবে না তো! আশঙ্কা হল বাতাসের বেগ সজোরে প্রথমেই যেখানে আঘাত হানতে পারে সেটা হল, মন্দিরের চুড়োর বিশাল ঐতিহ্যবাহী ধ্বজা। তাই সেই ধ্বজা নামিয়ে হাত পাঁচেকের ছোট ধ্বজা চড়ানো হল। কিন্তু ঘটে গেল তবু অঘটন, ফণী আসার একদিন আগেই অনামি বাতাসেই উড়ে গেল সেই ধ্বজা। সর্বনাশ! ভক্ত ও সেবকরা আশঙ্কা করলেন যে, এ যেন একটা চরম বিপর্যয়ের ইঙ্গিত। মন্দির এবার হয়তো রক্ষা আর পাবে না! মিডিয়ায় হেডিং হয়ে গেল ‘বিপর্যয়ের লক্ষণ’টি চিহ্নিত করে! একটি জনপ্রিয় পত্রিকার খবর অনুযায়ী, এরপর মন্দিরের দয়িতাপতি রামচন্দ্র দাস মহাপাত্র ঘোষণা করেন যে, “মন্দিরের ধ্বজা উড়ে গেছে, এতে বিপদের কিছু নেই। বরং ফাঁড়া কেটে গেছে।” দয়িতাপতির কথা সত্যি করে ঝড়ে মন্দিরের কোন ক্ষতি হয়নি। এখনও বহাল তবিয়তেই আছে মন্দির। কয়েক শতাব্দী প্রাচীন মন্দিরে ভিত্তি এখনো যথেষ্ট সুদৃঢ়, তাই মন্দিরের কোন ক্ষতি হয়নি; যেমন হয়নি মন্দিরের আশপাশসহ এলাকার অন্যান্য পোক্ত কংক্রিটের ইমারতগুলোর কোন ক্ষতি। আর পূর্ব ঘোষণা মতো ঝড়ও দুশো কিমি বেগে আসেনি, এসেছে একশো পঁয়তাল্লিশ কিমি বেগে। এতে ভক্তরা দেখছেন জগন্নাথেরই মহিমা। বেচারা বেকুব গাছগুলো জগন্নাথের কৃপা থেকে বঞ্চিত হল কেন কে জানে! আসলে, সবই তাঁর ইচ্ছে… এখানে ‘তিনি’ হলেন ভক্ত!
Channel Hindustan Channel Hindustan is Bengal’s popular online news portal which offers the latest news