মূল হিন্দি রচনা : শরদ জোশী
অনুবাদ : পার্থসারথি পাণ্ডা
ছোট্ট পাখিটি একমাত্র বেঁচে রয়েছে শকুনদের দয়াদাক্ষিণ্যে। তাকে মেরে ফেলাটা শকুনদের জন্য কোন কঠিন কাজ না। আর তাছাড়া পাখিটা এখন বেশ ঘায়েল হয়ে রয়েছে, বাঁচার জন্য উড়ে পালাতেও তার উৎসাহ নেই আর, ক্ষমাঘেন্নায় কোন শকুনের কাছে প্রাণভিক্ষা চাওয়ার ইচ্ছেটাও মরে গেছে। তার পাখার পালক ছিঁড়ে ফেলা হয়েছে। তাকে যেকোন সময়েই মেরে ফেলা হবে। সে কাজটা দু’মিনিটেও করা হতে পারে, আবার এগারো ঘন্টাতেও ঘটিয়ে ফেলা হতে পারে। শকুনেরা সব তৈরি হয়েই রয়েছে।
অল্প কিছুদিন হল শকুনেরা পাখিটাকে আশ্রয় দিয়েছিল, সে আশ্রয়ে ছিল পাখাঢাকা নিশ্চয়তা। পাখিটা তখন চেঁচাতে পারত, উড়তেও পারত। শকুনেরা তাকে একটা আকাশ দেবে বলে কথা দিয়েছিল। আসলে শকুনদের তখন ঢপ মারার ইচ্ছে হয়েছিল, মনে মনে ভেবেছিল ছোট্ট পাখিটা কতটুকু আকাশেই বা উড়তে পারবে, কতক্ষণই বা আর চেঁচাবে! তারা ভাবল, আরে, বাঁচতে হলে পাখিটাকে তো আমাদের শর্তেই বাঁচতে হবে! আকাশ তো আমাদের। ছোট্ট পাখিটা তো আর আমাদের আকাশ ছাড়িয়ে আমাদের ওপর উঠতে পারবে না। আর সে চেষ্টা তো তাকে করতেই দেব না! কিন্তু পাখিটা আদতেই অবাধ্য ছিল। সে অনেক উঁচুতে উড়তে পারত, শকুনদের সমানে সমান উড়তে চাইল। এমনকি তার চেঁচানিতেও শকুনদের মহান বক্তব্য ফুটে উঠল না।
পাখিটার এই স্বাধীন পাখিপনা, আদব কায়দা, তার পাখিসুলভ সুর, শব্দ কোনকিছুই শকুনরা পছন্দ করছিল না। তবু তারা খানিক ক্ষমাঘেন্না করেই এসব চলতে দিচ্ছিল, তারা ভাবল, পাখিটা তো শেষ অব্দি ছোট্ট একটা পাখিই, এ আর কিই বা বাগড়া দেবে? তেমন বুঝলে দেব ঘাড় মটকে! পালাবে কোথায়? রীতি অনুযায়ী পাখিটাকে ইতিমধ্যেই মেরে ফেলার কথা। তবুও সে এখনও কেন বেঁচে রয়েছে এটাই আশ্চর্যের। নিজেদের তাগিদেই তারা তাকে দিয়ে ব্রেকফাস্ট সারল না, এমনকি লাঞ্চেও সাবাড় করলো না। আসলে তাদের ইচ্ছে ডিনারে অতিথিদের আপ্যায়ন করবে এই বলে যে, আসুন, আসুন, এই পাখিটাকে মেরে আজকের সন্ধেটিকে সুখময় করে তুলুন!
কাল রাতে ঠোঁটের ঠোক্করে ঠোক্করে পাখিটা মরে গেল। মারার আগে তার পাখাটাখা সব ছিঁড়ে ফেলা হল। তার শেষ চ্যা চ্যা চেঁচানিতে শকুনেরা সমবেত অট্টহাসি হাসল। তাকে মারার সুখে তাদের মনে হতে লাগল যে, আহা রে, এতদিন কেন এই বেয়াদব নচ্ছার এবং সুস্বাদু পাখিটাকে বাঁচিয়ে রাখলাম! নিজস্ব আকাশ খুঁজতে চাওয়া, নিজের মতো করে কথা বলতে চাওয়া এই পাখিটাকে আগেই কেন মেরে ফেললাম না!
পাখিটা মরতে মরতে একটা বেশ মজার কথা বলেছিল, আকাশ শুধু শকুনদের নয়! সেই মহাভোজের মুহূর্তে এমন মজার কথায় শকুনেরা অনেকক্ষণ অব্দি ভীষণ রকম হেসেছিল!
পরদিন এবং অনেক রাত অব্দি লোকেরা বলাবলি করছিল পাখিটার মৃত্যুর কথা। এটা তাদের করুণা, নাকি শকুনদের মনে দয়া জাগানোর চেষ্টা, নাকি শকুনদের মহাভোজে অনুপস্থিত অংশীদারী! পাখি ও শকুনদের ভবিষ্যৎ খুবই স্পষ্ট। হয়তো এখনো কিছু লোক আছে, যারা পাখিটার কথা জানতে চায়, পাখিটার মতো সহজ সত্য বলতে চায়; শুধু জানি না, তারা কারা!
Channel Hindustan Channel Hindustan is Bengal’s popular online news portal which offers the latest news